ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাঁচা মরিচের ‘ঝাল’ আকাশ ছুঁয়েছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২০
  • ২৮৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছেন ক্রেতারা। মাসখানেকের ব্যবধানে দাম চার গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা কেজি। বন্যা আর বৃষ্টিতে ক্ষেত ডুবে গিয়ে মরিচগাছ নষ্ট হচ্ছে। অনেক এলাকায় ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহও করা যাচ্ছে না। আবার সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তারই প্রভাব পড়েছে দামে। বিক্রেতারা এমন যুক্তি দেখালেও অতিরিক্ত দাম আদায়ের চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর বাজারগুলোতে।

কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজার, যাত্রাবাড়ীসহ অন্যান্য পাইকারি বাজারে গতকাল শনিবার কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। সে হিসাবে পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজিতে পার্থক্য থাকছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। আবার সপ্তাহখানেক আগে খুচরা বাজারেই কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। গত শুক্রবার কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা।

সরেজমিনে বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ কিনতে গিয়ে আকাশছোঁয়া দাম শুনে অনেক ক্রেতাই তর্ক জুড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতার সঙ্গে। অনেকে না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। মুগদা বাজারে এক ক্রেতা কিছুটা রাগত স্বরে এই প্রতিবেদককে বলেন,

‘আধাকেজি মরিচ কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিক্রেতাদের কেউই এক শ টাকার নিচে দেবে না। অথচ কয়েক দিন আগেও কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। তাই না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, ‘কাঁচা মরিচের অনেক মোকাম বন্ধ। উঁচু এলাকাগুলোতে যে মরিচ হচ্ছে তা-ই ভরসা। ফলে কৃষক পর্যায় থেকেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।’

মূলত মানিকগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, বগুড়া, পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের আরো কয়েকটি জেলার উত্পাদন থেকেই দেশে কাঁচা মরিচের চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে। বৃষ্টি আর বন্যার পানিতে ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় এসব এলাকায় স্থানীয় বাজারেই এখন মরিচের ঘাটতি। ফলে দামও বেড়েছে কয়েক গুণ।

প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা যায়, মানিকগঞ্জের বরঙ্গাইল হাটে মৌসুমে প্রতিদিন কেনাবেচা হয় গড়ে এক শ টন মরিচ। কিন্তু ১০-১২ দিন ধরে এই হাটে মরিচ উঠছে সাকল্যে এক-দেড় শ কেজি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পৌষ মাসে মরিচের চারা রোপণ করা হয়। ফলন শুরু হয় চৈত্রের প্রথম সপ্তাহ থেকে। শ্রাবণ মাসে বর্ষার পানি মরিচ ক্ষেতে না ঢোকা পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু এবার আষাঢ়ের মাঝামাঝিতেই বন্যার পানি ক্ষেতে ঢুকে পড়েছে। ফলে মরিচের আগাম সংকট তৈরি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

কাঁচা মরিচের ‘ঝাল’ আকাশ ছুঁয়েছে

আপডেট টাইম : ১০:৫৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছেন ক্রেতারা। মাসখানেকের ব্যবধানে দাম চার গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা কেজি। বন্যা আর বৃষ্টিতে ক্ষেত ডুবে গিয়ে মরিচগাছ নষ্ট হচ্ছে। অনেক এলাকায় ক্ষেত থেকে মরিচ সংগ্রহও করা যাচ্ছে না। আবার সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তারই প্রভাব পড়েছে দামে। বিক্রেতারা এমন যুক্তি দেখালেও অতিরিক্ত দাম আদায়ের চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর বাজারগুলোতে।

কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজার, যাত্রাবাড়ীসহ অন্যান্য পাইকারি বাজারে গতকাল শনিবার কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। সে হিসাবে পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজিতে পার্থক্য থাকছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। আবার সপ্তাহখানেক আগে খুচরা বাজারেই কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। গত শুক্রবার কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হয় ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা।

সরেজমিনে বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ কিনতে গিয়ে আকাশছোঁয়া দাম শুনে অনেক ক্রেতাই তর্ক জুড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতার সঙ্গে। অনেকে না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। মুগদা বাজারে এক ক্রেতা কিছুটা রাগত স্বরে এই প্রতিবেদককে বলেন,

‘আধাকেজি মরিচ কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বিক্রেতাদের কেউই এক শ টাকার নিচে দেবে না। অথচ কয়েক দিন আগেও কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। তাই না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আব্দুর রহিম বলেন, ‘কাঁচা মরিচের অনেক মোকাম বন্ধ। উঁচু এলাকাগুলোতে যে মরিচ হচ্ছে তা-ই ভরসা। ফলে কৃষক পর্যায় থেকেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।’

মূলত মানিকগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, জয়পুরহাট, বগুড়া, পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের আরো কয়েকটি জেলার উত্পাদন থেকেই দেশে কাঁচা মরিচের চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে। বৃষ্টি আর বন্যার পানিতে ক্ষেত ডুবে যাওয়ায় এসব এলাকায় স্থানীয় বাজারেই এখন মরিচের ঘাটতি। ফলে দামও বেড়েছে কয়েক গুণ।

প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা যায়, মানিকগঞ্জের বরঙ্গাইল হাটে মৌসুমে প্রতিদিন কেনাবেচা হয় গড়ে এক শ টন মরিচ। কিন্তু ১০-১২ দিন ধরে এই হাটে মরিচ উঠছে সাকল্যে এক-দেড় শ কেজি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পৌষ মাসে মরিচের চারা রোপণ করা হয়। ফলন শুরু হয় চৈত্রের প্রথম সপ্তাহ থেকে। শ্রাবণ মাসে বর্ষার পানি মরিচ ক্ষেতে না ঢোকা পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু এবার আষাঢ়ের মাঝামাঝিতেই বন্যার পানি ক্ষেতে ঢুকে পড়েছে। ফলে মরিচের আগাম সংকট তৈরি হয়েছে।