ঢাকা ১২:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ: বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পেনশনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অডিট কর্মকর্তা ইশরাত বরখাস্ত দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে পেটাল দিল্লি পুলিশ ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ‘ভোট ব্যাংক’, এ কৃত্রিম মিথ ভেঙে চুরমার হয়েছে’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মানুষের অভাব নেই: মান্না ২ মন্ত্রী আসার খবরে বদলে গেল হাসপাতালের পরিবেশ, অবাক রোগীরা বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ : জাতিসংঘ সমুদ্রপাড়ে নতুন লুকে দীঘি, ভক্তদের কৌতূহল তুঙ্গে আবারো মেসিকে ফেরাতে চায় আর্জেন্টিনা ‘ভালো হয়ে যাও মাসুদ’, আলোচিত বিআরটিএ কর্মকর্তা এবার ঢাকায় বদলি

করোনা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:১৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২০
  • ৩১৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই রিটে দেশের স্থল ও নৌবন্দর বন্ধের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারি রূপ নিলেও বাংলাদেশ সরকার বলছে, দেশে এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

অনেকে বলছেন, করোনাভাইরাস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা দরকার। এরই মধ্যে ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট করলেন।

এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক অতিরিক্ত সচিব শনিবার বলেন, যেকোনো ভাবেই শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদে রাখা হবে। এজন্য যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করতে হয় তা-ও করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ কর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এরপরও একধরনের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের চিন্তাভাবনা চলছে। আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন শনিবার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে করোনাভাইরাস থেকে আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের মাধ্যমে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। আতঙ্ক না ছড়িয়ে সবাইকে সচেতন করে তুলতে শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

‘যেহেতু এখনও জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, তেমন পরিস্থিতি হলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হবে। শিক্ষার্থীদের কীভাবে আরও বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।’

এদিকে শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক পর্যায়ে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে ভাববে সরকার। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি গ্রহণে কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি।

করোনাভাইরাসকে ইতোমধ্যে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সারাবিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে এ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৩৬। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দেড় লাখের কাছাকাছি।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশে তিনজন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। তিনজনই বর্তমানে সুস্থ। দুজন বাড়ি ফিরে গেছেন। অর্থাৎ বর্তমানে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী নেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ: বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ

করোনা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট

আপডেট টাইম : ০৩:১৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই রিটে দেশের স্থল ও নৌবন্দর বন্ধের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারি রূপ নিলেও বাংলাদেশ সরকার বলছে, দেশে এখনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

অনেকে বলছেন, করোনাভাইরাস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা দরকার। এরই মধ্যে ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট করলেন।

এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক অতিরিক্ত সচিব শনিবার বলেন, যেকোনো ভাবেই শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদে রাখা হবে। এজন্য যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করতে হয় তা-ও করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ কর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এরপরও একধরনের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের চিন্তাভাবনা চলছে। আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন শনিবার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে করোনাভাইরাস থেকে আমাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের মাধ্যমে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। আতঙ্ক না ছড়িয়ে সবাইকে সচেতন করে তুলতে শিক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

‘যেহেতু এখনও জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, তেমন পরিস্থিতি হলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হবে। শিক্ষার্থীদের কীভাবে আরও বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।’

এদিকে শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক পর্যায়ে গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে ভাববে সরকার। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি গ্রহণে কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানান তিনি।

করোনাভাইরাসকে ইতোমধ্যে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সারাবিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে এ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। মৃতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৪৩৬। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দেড় লাখের কাছাকাছি।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশে তিনজন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। তিনজনই বর্তমানে সুস্থ। দুজন বাড়ি ফিরে গেছেন। অর্থাৎ বর্তমানে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী নেই।