ঢাকা ০২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

শীতে খেজুরের রস আর গুড়ে বাড়তি আয়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৫
  • ৫৮১ বার

শীতকালের একটি উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ খেজুর রস বা গুড়। গ্রামাঞ্চলের স্বল্প আয়ের মানুষ মাত্র ২-৩ মাস খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে বারো মাসের সাংসারিক খরচ জোগাতে পারেন। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে কিংবা গুড় তৈরি করে এ আয় করা সম্ভব। খণ্ডকালীন এ পেশায় যারা নিয়োজিত হন গ্রামবাংলায় তাদের বলা হয় ‘শিউলি বা গাছি’। খেজুর রস বা খেজুর গুড় পরিবারে এনে দিতে পারে সচ্ছলতা।

khejur-ros

যা যা প্রয়োজন
রস সংগ্রহ করতে প্রথমত নিজের বা অন্যের খেজুর গাছ নির্বাচন করতে হবে। রসের উপোযোগি গাছ ঝোরতে (পরিষ্কার) হবে। এরপর বাঁশের তৈরি ঠুই বা ঠুলি (ঝুড়ি) দরকার। খলা তৈরি করতে দুইটি ছেনদা ও একটি কোপাদা। আবার দা ধারালো রাখতে বালু আর বালিকাচা (সুপারি কাঠ)। কোমড়ে বাঁধতে একটি পাটের চট বা বস্তা। ৫-৬ হাত লম্বা কাছি (রশি)। যা শিউলিকে গাছের সাথে বেঁধে রাখতে সাহায্য করে। ৩ হাত লম্বা একটি বাঁশ, যেটা গাছের ডাল-পালা পরিষ্কার করার সময় আড়াআড়ি বেঁধে দাঁড়াতে প্রয়োজন হয়। সবশেষে রস পড়ার উপযোগি খলা তেরি করে বাঁশের নলি (নল) ও দুইটা খিল দিয়ে হাড়ি বেঁধে দিতে হবে।

khejur-ros

খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ
বাঙলা কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছের একদিকের কাঁটা ফেলে দিয়ে কিছুদিন বিশ্রামের পর অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি খলা তৈরি করে রস সংগ্রহ করতে হবে। সংগ্রহ চলবে চৈত্র মাস পর্যন্ত। তবে যে গাছে খেজুর হয় না তাকে বলে ‘চুমুইর্যা’ গাছ। এ গাছের রস সংগ্রহ শুরু করতে হবে অগ্রহায়ণের শেষের দিকে। আর সংগ্রহ শেষ হবে মাঘ মাসের শেষের দিকে। যে গাছে খেজুর ধরে তাকে বলে ‘খাজুইর্যা’ গাছ। এ গাছের রস পৌষ মাসের মাঝামাঝি থেকে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সংগ্রহ করা যাবে। সপ্তাহের চারদিন বিকেলে গাছ কাটতে হবে। রাতের জমানো রস সকাল বেলা সংগ্রহ করতে হবে। গাছকে অবশ্যই সপ্তাহে ৩ দিন বিশ্রাম দিতে হবে।
khejur-ros
যেভাবে তৈরি হয় গুড়
শিউলিরা ইচ্ছা করলে রস দিয়ে গুড় তৈরি করতে পারেন। রস দিয়ে গুড় তৈরি করতে হলে সকালে রস সংগ্রহের পর বাড়ির আঙিনায় স্থায়ী বা অস্থায়ী চতুর্ভূজ আকৃতির বিশেষ চুলার ওপর সিলভারের তাফালে (চতুর্ভূজ আকৃতির পাত্র) আগুনে জাল দিয়ে চিট (আঠাল) হলে ছোট ছোট মাটির গর্তের ওপর কাপড় রেখে কিংবা পরিষ্কার প্লেট বা থালায় ফেলে তার ওপর ঢেলে গুড় তৈরি করতে হবে। শক্ত হলে গুড় তুলে নিতে হবে। আকারে ছোট গুড়কে ‘পাটালি’ আর বড় গুড়কে ‘মধুখণ্ড’ বলা হয়।

khejur-ros

বিক্রি ও আয়
বাজারে এক হাড়ি রস ১০০-১৩০টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেন। রস ক্রেতারা সকাল বেলা আপনার বাড়ি এসে নিয়ে যাবেন বা স্থানীয় বাজার থেকেও কিনে নিতে পারবেন। আপনার অধীনে ৩৫-৪০টি গাছ থাকলে আপনি প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকার রস বিক্রি করতে পারবেন। আর বর্তমানে বাজারে খেজুর গুড় বিক্রি করতে পারেন প্রতি কেজি ৮০-১৩০ টাকা দরে। যারা গুড় তৈরি করবেন তারা অন্য শিউলি বা গাছির কাছ থেকে অতিরিক্ত রস কিনে নিতে পারবেন। গুড় বিক্রেতারা স্থানীয় ব্যবসায়ি বা পাইকারের কাছে গুড় বিক্রি করতে পারেন। তবে পাইকারি বিক্রি করলে লাভ একটু কম হবে। মনে রাখবেন, হাটে বসে খুচরা বিক্রি করলেই লাভবান হবেন বেশি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

শীতে খেজুরের রস আর গুড়ে বাড়তি আয়

আপডেট টাইম : ১১:৪০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৫

শীতকালের একটি উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ খেজুর রস বা গুড়। গ্রামাঞ্চলের স্বল্প আয়ের মানুষ মাত্র ২-৩ মাস খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে বারো মাসের সাংসারিক খরচ জোগাতে পারেন। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে কিংবা গুড় তৈরি করে এ আয় করা সম্ভব। খণ্ডকালীন এ পেশায় যারা নিয়োজিত হন গ্রামবাংলায় তাদের বলা হয় ‘শিউলি বা গাছি’। খেজুর রস বা খেজুর গুড় পরিবারে এনে দিতে পারে সচ্ছলতা।

khejur-ros

যা যা প্রয়োজন
রস সংগ্রহ করতে প্রথমত নিজের বা অন্যের খেজুর গাছ নির্বাচন করতে হবে। রসের উপোযোগি গাছ ঝোরতে (পরিষ্কার) হবে। এরপর বাঁশের তৈরি ঠুই বা ঠুলি (ঝুড়ি) দরকার। খলা তৈরি করতে দুইটি ছেনদা ও একটি কোপাদা। আবার দা ধারালো রাখতে বালু আর বালিকাচা (সুপারি কাঠ)। কোমড়ে বাঁধতে একটি পাটের চট বা বস্তা। ৫-৬ হাত লম্বা কাছি (রশি)। যা শিউলিকে গাছের সাথে বেঁধে রাখতে সাহায্য করে। ৩ হাত লম্বা একটি বাঁশ, যেটা গাছের ডাল-পালা পরিষ্কার করার সময় আড়াআড়ি বেঁধে দাঁড়াতে প্রয়োজন হয়। সবশেষে রস পড়ার উপযোগি খলা তেরি করে বাঁশের নলি (নল) ও দুইটা খিল দিয়ে হাড়ি বেঁধে দিতে হবে।

khejur-ros

খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ
বাঙলা কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গাছের একদিকের কাঁটা ফেলে দিয়ে কিছুদিন বিশ্রামের পর অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি খলা তৈরি করে রস সংগ্রহ করতে হবে। সংগ্রহ চলবে চৈত্র মাস পর্যন্ত। তবে যে গাছে খেজুর হয় না তাকে বলে ‘চুমুইর্যা’ গাছ। এ গাছের রস সংগ্রহ শুরু করতে হবে অগ্রহায়ণের শেষের দিকে। আর সংগ্রহ শেষ হবে মাঘ মাসের শেষের দিকে। যে গাছে খেজুর ধরে তাকে বলে ‘খাজুইর্যা’ গাছ। এ গাছের রস পৌষ মাসের মাঝামাঝি থেকে চৈত্র মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সংগ্রহ করা যাবে। সপ্তাহের চারদিন বিকেলে গাছ কাটতে হবে। রাতের জমানো রস সকাল বেলা সংগ্রহ করতে হবে। গাছকে অবশ্যই সপ্তাহে ৩ দিন বিশ্রাম দিতে হবে।
khejur-ros
যেভাবে তৈরি হয় গুড়
শিউলিরা ইচ্ছা করলে রস দিয়ে গুড় তৈরি করতে পারেন। রস দিয়ে গুড় তৈরি করতে হলে সকালে রস সংগ্রহের পর বাড়ির আঙিনায় স্থায়ী বা অস্থায়ী চতুর্ভূজ আকৃতির বিশেষ চুলার ওপর সিলভারের তাফালে (চতুর্ভূজ আকৃতির পাত্র) আগুনে জাল দিয়ে চিট (আঠাল) হলে ছোট ছোট মাটির গর্তের ওপর কাপড় রেখে কিংবা পরিষ্কার প্লেট বা থালায় ফেলে তার ওপর ঢেলে গুড় তৈরি করতে হবে। শক্ত হলে গুড় তুলে নিতে হবে। আকারে ছোট গুড়কে ‘পাটালি’ আর বড় গুড়কে ‘মধুখণ্ড’ বলা হয়।

khejur-ros

বিক্রি ও আয়
বাজারে এক হাড়ি রস ১০০-১৩০টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেন। রস ক্রেতারা সকাল বেলা আপনার বাড়ি এসে নিয়ে যাবেন বা স্থানীয় বাজার থেকেও কিনে নিতে পারবেন। আপনার অধীনে ৩৫-৪০টি গাছ থাকলে আপনি প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকার রস বিক্রি করতে পারবেন। আর বর্তমানে বাজারে খেজুর গুড় বিক্রি করতে পারেন প্রতি কেজি ৮০-১৩০ টাকা দরে। যারা গুড় তৈরি করবেন তারা অন্য শিউলি বা গাছির কাছ থেকে অতিরিক্ত রস কিনে নিতে পারবেন। গুড় বিক্রেতারা স্থানীয় ব্যবসায়ি বা পাইকারের কাছে গুড় বিক্রি করতে পারেন। তবে পাইকারি বিক্রি করলে লাভ একটু কম হবে। মনে রাখবেন, হাটে বসে খুচরা বিক্রি করলেই লাভবান হবেন বেশি।