ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসলাম প্রযুক্তিগত পরকীয়া যা বলে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯
  • ৩০১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বর্তমান সমাজে পরকীয়া ক্যান্সারের আকার ধারণ করছে। যুবক থেকে বৃদ্ধ সব মহলেই এর আগ্রাসন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বেলজিয়ামের মনস্তাত্ত্বিক এস্থার পেরেল তাঁর ‘দ্য স্টেট অব অ্যাফেয়ার’ বইয়ে পরকীয়াকে ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, জীবনযন্ত্রণার অন্যতম কারণ দ্বিতীয় কোনো নারী বা পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া।

পরকীয়া বিশ্বব্যাপী অশান্তি নামিয়ে আনছে। এর জেরে কখনো কখনো খুনখারাবির মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেভাদার অধ্যাপক ড্যানিয়েল উয়েগেল ও গবেষক রোজি শ্রাউটের মতে, পরকীয়া সম্পর্ক ভুক্তভোগীর মনে ক্রোধ, অশান্তি, দুঃখ, অবিশ্বাস ও অশেষ মনোযন্ত্রণার সৃষ্টি করে। এর প্রধান কারণ আল্লাহর আইনের অমান্য করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির থেকে বিমুখ হয়, তার জীবনযাত্রা সংকীর্ণ ও দুঃখে ভরপুর হয়ে ওঠে।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১২৪)

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে পরকীয়া অনেক সহজ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফ্রি কলিং অ্যাপ ও মোবাইল ফোন এই কাজটি ভীষণ সহজ করে দিয়েছে। এখন আর কারো সঙ্গে দেখা করার জন্য গোপনে তার ঘরের পেছনে গিয়ে মশার কামড় খেতে হয় না। মুঠোফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে এক মুহূর্তেই প্রেমিকার দেখা পাওয়া যায়।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মোবাইল ফোনের অনেক ইতিবাচক দিক আছে। মানুষের মধ্যে সহজ যোগাযোগ ও দূরত্ব ঘুচিয়ে আনতে মোবাইল ফোনের জুড়ি নেই। লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিশ্বকে জানা ও বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে মোবাইলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মানুষের জীবনে বহুমাত্রিক অকল্যাণ বয়ে আনছে এই যন্ত্রটি।

কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে এর অপকারিতাও কম নয়। শুধু পরকীয়াই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও ব্যাপক প্রভাব ফেলে এই প্রযুক্তি। সিএনএনের গবেষণা মতে, ৫০ শতাংশ কিশোর ও ২৭ শতাংশ মা-বাবা মনে করেন, তাদের মধ্যে মোবাইল ফোন আসক্তির রূপ নিয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী প্রতি ঘণ্টায় তাদের মোবাইল চেক করে। ৭২ শতাংশ অনুভব করে যে অন্যের মেসেজের রিপ্লাই দেওয়া তাদের জন্য জরুরি।

পরকীয়া মানুষকে ব্যভিচারের দিকে টেনে নেয়। অথচ এটি ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৩২)

অনেকের ধারণা হতে পারে, প্রযুক্তির ব্যবহার করে দূর থেকে কথোপকথন আর ব্যভিচার নয়। কথাটি ঠিক নয়। দূর থেকে যেমন ভার্চুয়াল প্রেম সম্ভব, তেমনি বর্তমান যুগে দূর থেকে ভার্চুয়াল সেক্সও সম্ভব। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু অসামাজিক মানুষকে এ রকম বিজ্ঞাপন দিতেও দেখা যায় যে ‘মোবাইল সেক্স প্রতি ঘণ্টা এত টাকা’। (নাউজুবিল্লাহ!)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চোখের ব্যভিচার হলো (বেগানা নারীকে) দেখা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো (তার সঙ্গে) কথা বলা (যৌন উদ্দীপ্ত কথা বলা)। (বুখারি, হাদিস : ৬২৪৩)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, দুই চোখের জিনা (বেগানা নারীর দিকে) তাকানো, কানের জিনা যৌন উদ্দীপ্ত কথা শোনা, মুখের জিনা আবেগ উদ্দীপ্ত কথা বলা, হাতের জিনা (বেগানা নারীকে খারাপ উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করা আর পায়ের জিনা ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়া এবং মনের জিনা হলো চাওয়া ও প্রত্যাশা করা।’ (মেশকাত, হাদিস : ৮৬)

বোঝা গেল, যারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও কল, অডিও কল কিংবা মেসেজিংয়ের মাধ্যমে পরকীয়ায় লিপ্ত রয়েছে, তারা ব্যভিচারেই লিপ্ত রয়েছে, যার শাস্তি ভয়াবহ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসলাম প্রযুক্তিগত পরকীয়া যা বলে

আপডেট টাইম : ১১:৫১:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বর্তমান সমাজে পরকীয়া ক্যান্সারের আকার ধারণ করছে। যুবক থেকে বৃদ্ধ সব মহলেই এর আগ্রাসন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বেলজিয়ামের মনস্তাত্ত্বিক এস্থার পেরেল তাঁর ‘দ্য স্টেট অব অ্যাফেয়ার’ বইয়ে পরকীয়াকে ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, জীবনযন্ত্রণার অন্যতম কারণ দ্বিতীয় কোনো নারী বা পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া।

পরকীয়া বিশ্বব্যাপী অশান্তি নামিয়ে আনছে। এর জেরে কখনো কখনো খুনখারাবির মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নেভাদার অধ্যাপক ড্যানিয়েল উয়েগেল ও গবেষক রোজি শ্রাউটের মতে, পরকীয়া সম্পর্ক ভুক্তভোগীর মনে ক্রোধ, অশান্তি, দুঃখ, অবিশ্বাস ও অশেষ মনোযন্ত্রণার সৃষ্টি করে। এর প্রধান কারণ আল্লাহর আইনের অমান্য করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর জিকির থেকে বিমুখ হয়, তার জীবনযাত্রা সংকীর্ণ ও দুঃখে ভরপুর হয়ে ওঠে।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১২৪)

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে পরকীয়া অনেক সহজ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফ্রি কলিং অ্যাপ ও মোবাইল ফোন এই কাজটি ভীষণ সহজ করে দিয়েছে। এখন আর কারো সঙ্গে দেখা করার জন্য গোপনে তার ঘরের পেছনে গিয়ে মশার কামড় খেতে হয় না। মুঠোফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে এক মুহূর্তেই প্রেমিকার দেখা পাওয়া যায়।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মোবাইল ফোনের অনেক ইতিবাচক দিক আছে। মানুষের মধ্যে সহজ যোগাযোগ ও দূরত্ব ঘুচিয়ে আনতে মোবাইল ফোনের জুড়ি নেই। লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিশ্বকে জানা ও বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে মোবাইলের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মানুষের জীবনে বহুমাত্রিক অকল্যাণ বয়ে আনছে এই যন্ত্রটি।

কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে এর অপকারিতাও কম নয়। শুধু পরকীয়াই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও ব্যাপক প্রভাব ফেলে এই প্রযুক্তি। সিএনএনের গবেষণা মতে, ৫০ শতাংশ কিশোর ও ২৭ শতাংশ মা-বাবা মনে করেন, তাদের মধ্যে মোবাইল ফোন আসক্তির রূপ নিয়েছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী প্রতি ঘণ্টায় তাদের মোবাইল চেক করে। ৭২ শতাংশ অনুভব করে যে অন্যের মেসেজের রিপ্লাই দেওয়া তাদের জন্য জরুরি।

পরকীয়া মানুষকে ব্যভিচারের দিকে টেনে নেয়। অথচ এটি ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৩২)

অনেকের ধারণা হতে পারে, প্রযুক্তির ব্যবহার করে দূর থেকে কথোপকথন আর ব্যভিচার নয়। কথাটি ঠিক নয়। দূর থেকে যেমন ভার্চুয়াল প্রেম সম্ভব, তেমনি বর্তমান যুগে দূর থেকে ভার্চুয়াল সেক্সও সম্ভব। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু অসামাজিক মানুষকে এ রকম বিজ্ঞাপন দিতেও দেখা যায় যে ‘মোবাইল সেক্স প্রতি ঘণ্টা এত টাকা’। (নাউজুবিল্লাহ!)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চোখের ব্যভিচার হলো (বেগানা নারীকে) দেখা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো (তার সঙ্গে) কথা বলা (যৌন উদ্দীপ্ত কথা বলা)। (বুখারি, হাদিস : ৬২৪৩)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, দুই চোখের জিনা (বেগানা নারীর দিকে) তাকানো, কানের জিনা যৌন উদ্দীপ্ত কথা শোনা, মুখের জিনা আবেগ উদ্দীপ্ত কথা বলা, হাতের জিনা (বেগানা নারীকে খারাপ উদ্দেশ্যে) স্পর্শ করা আর পায়ের জিনা ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হওয়া এবং মনের জিনা হলো চাওয়া ও প্রত্যাশা করা।’ (মেশকাত, হাদিস : ৮৬)

বোঝা গেল, যারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও কল, অডিও কল কিংবা মেসেজিংয়ের মাধ্যমে পরকীয়ায় লিপ্ত রয়েছে, তারা ব্যভিচারেই লিপ্ত রয়েছে, যার শাস্তি ভয়াবহ।