ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোন্ পাথারের ওপার থেকে আনল ডেকে হেমন্তকে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৯
  • ৪৩৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সবুজ পাতার খামের ভেতর/হলুদ গাঁদা চিঠি লেখে/কোন্ পাথারের ওপার থেকে/আনল ডেকে হেমন্তকে?

শরতের মন ভোলানো রূপের পশরার মাঝেই হেমন্তের শুভাগমন ঘটে। হেমন্ত আসে আগামী দিনের সম্ভাবনা নিয়ে; মাঠভরা ফসলের সুসংবাদ দিতে দিতে। হেমন্তের আগমনে বাংলাদেশের প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে ওঠে।

নীলাক্ষী হেমন্ত কৃষককে করে আশীর্বাদ। আর কিছুদিন পরেই ফসল কাটার গানে হেমন্তের মাঠ হয়ে উঠবে মুখর। কৃষকের উঠোনে জমবে ধান…

হেমন্তের সকালে প্রথম রোদের বর্ণচ্ছটায় গাছের পাতাগুলো যেন হেসে ওঠে। দৃষ্টিসীমা যত দূর যায়, দেখা যায়- আলোকোজ্জ্বল অপূর্ব একটি সকাল অভাবনীয় সৌন্দর্য নিয়ে অপেক্ষমাণ। গাছের নরম-কচি পাতাগুলোর ফাঁকে ফাঁকে মিষ্টি রোদ আর সুনীল আকাশ যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে।

হেমন্তের রাতে মেঘমুক্ত আকাশে ফালি ফালি জোছনার আলো অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশিই ঠিকরে পড়ে। কালের চাকায় ভর করে আবারও আমাদের মাঝে হাজির হয়েছে প্রিয় হেমন্তকাল।

গ্রামের মেঠোপথে শিশিরস্নাত পা, কাঁচাসোনা রোদমাখা সকাল, স্নিগ্ধসৌম্য দুপুর, পাখির কলকাকলিতে ভরা ভেজা সন্ধ্যা আর মেঘমুক্ত আকাশে জ্যোৎস্না ডুবানো আলোকিত রাত হেমন্তকে করে তোলে রহস্যময়; প্রকৃতিতে নিয়ে আসে ভিন্নমাত্রা।

তবে হেমন্তের এই মৌনতাকে ছাপিয়ে বাংলাদেশের মানুষের জীবনে নবান্ন প্রবেশ করবে জাগরণের গান হয়ে, যা এনে দেবে উৎসবের আমেজ। আর কে না জানে- হেমন্তে ফসল কাটাকে কেন্দ্র করেই ঘরে ঘরে শুরু হয় নবান্ন উৎসব। হেমন্তকাল মানেই ফসলের ছড়াছড়ি।

মাঠে ধান পাকে, বাড়ির আঙিনায় বা উঠানের মাচানে লাউ-কুমড়া গাছ লক লক করে বেড়ে ওঠে। মিষ্টি রোদের মায়াময় দিনে নানা রঙের পাখিদের ডানা ঝাপটানো দেখা যায় গাছে গাছে। বিস্তৃত দিগন্তের কোথাও এক বিন্দু মেঘেরও দেখা মেলে না। মিটিমিটি তারা জ্বলে সারা রাত।

এমন দৃশ্য দেখে হৃদয় ব্যাকুল হয় না- এমন কেউ কি আছে? গ্রামীণ সংস্কৃতিতে হেমন্তের এ শাশ্বত রূপ চিরকালীন। হেমন্ত আমাদের ঋতু-বৈচিত্র্যের সীমাহীন সৌন্দর্যেরই অংশ।

তবে শহরের বহুতল ভবনের স্বচ্ছ কাঁচের ভেতর নানা রঙের পর্দা টাঙানো ঘরে বসে হেমন্তের দেখা মিলবে না। হেমন্তকে দেখতে হলে চোখ মেলে প্রকৃতির দিকে তাকাতে হবে; যেতে হবে আবহমান বাংলার কোনো এক গ্রামে।

শিক্ষার্থী, আনন্দমোহন সরকারি কলেজ, ময়মনসিংহ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

কোন্ পাথারের ওপার থেকে আনল ডেকে হেমন্তকে

আপডেট টাইম : ১০:০৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সবুজ পাতার খামের ভেতর/হলুদ গাঁদা চিঠি লেখে/কোন্ পাথারের ওপার থেকে/আনল ডেকে হেমন্তকে?

শরতের মন ভোলানো রূপের পশরার মাঝেই হেমন্তের শুভাগমন ঘটে। হেমন্ত আসে আগামী দিনের সম্ভাবনা নিয়ে; মাঠভরা ফসলের সুসংবাদ দিতে দিতে। হেমন্তের আগমনে বাংলাদেশের প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে ওঠে।

নীলাক্ষী হেমন্ত কৃষককে করে আশীর্বাদ। আর কিছুদিন পরেই ফসল কাটার গানে হেমন্তের মাঠ হয়ে উঠবে মুখর। কৃষকের উঠোনে জমবে ধান…

হেমন্তের সকালে প্রথম রোদের বর্ণচ্ছটায় গাছের পাতাগুলো যেন হেসে ওঠে। দৃষ্টিসীমা যত দূর যায়, দেখা যায়- আলোকোজ্জ্বল অপূর্ব একটি সকাল অভাবনীয় সৌন্দর্য নিয়ে অপেক্ষমাণ। গাছের নরম-কচি পাতাগুলোর ফাঁকে ফাঁকে মিষ্টি রোদ আর সুনীল আকাশ যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে।

হেমন্তের রাতে মেঘমুক্ত আকাশে ফালি ফালি জোছনার আলো অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশিই ঠিকরে পড়ে। কালের চাকায় ভর করে আবারও আমাদের মাঝে হাজির হয়েছে প্রিয় হেমন্তকাল।

গ্রামের মেঠোপথে শিশিরস্নাত পা, কাঁচাসোনা রোদমাখা সকাল, স্নিগ্ধসৌম্য দুপুর, পাখির কলকাকলিতে ভরা ভেজা সন্ধ্যা আর মেঘমুক্ত আকাশে জ্যোৎস্না ডুবানো আলোকিত রাত হেমন্তকে করে তোলে রহস্যময়; প্রকৃতিতে নিয়ে আসে ভিন্নমাত্রা।

তবে হেমন্তের এই মৌনতাকে ছাপিয়ে বাংলাদেশের মানুষের জীবনে নবান্ন প্রবেশ করবে জাগরণের গান হয়ে, যা এনে দেবে উৎসবের আমেজ। আর কে না জানে- হেমন্তে ফসল কাটাকে কেন্দ্র করেই ঘরে ঘরে শুরু হয় নবান্ন উৎসব। হেমন্তকাল মানেই ফসলের ছড়াছড়ি।

মাঠে ধান পাকে, বাড়ির আঙিনায় বা উঠানের মাচানে লাউ-কুমড়া গাছ লক লক করে বেড়ে ওঠে। মিষ্টি রোদের মায়াময় দিনে নানা রঙের পাখিদের ডানা ঝাপটানো দেখা যায় গাছে গাছে। বিস্তৃত দিগন্তের কোথাও এক বিন্দু মেঘেরও দেখা মেলে না। মিটিমিটি তারা জ্বলে সারা রাত।

এমন দৃশ্য দেখে হৃদয় ব্যাকুল হয় না- এমন কেউ কি আছে? গ্রামীণ সংস্কৃতিতে হেমন্তের এ শাশ্বত রূপ চিরকালীন। হেমন্ত আমাদের ঋতু-বৈচিত্র্যের সীমাহীন সৌন্দর্যেরই অংশ।

তবে শহরের বহুতল ভবনের স্বচ্ছ কাঁচের ভেতর নানা রঙের পর্দা টাঙানো ঘরে বসে হেমন্তের দেখা মিলবে না। হেমন্তকে দেখতে হলে চোখ মেলে প্রকৃতির দিকে তাকাতে হবে; যেতে হবে আবহমান বাংলার কোনো এক গ্রামে।

শিক্ষার্থী, আনন্দমোহন সরকারি কলেজ, ময়মনসিংহ