ঢাকা ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানুষের যে ক্ষতি ও কল্যাণ আল্লাহ ছাড়া কেউ করতে পারে না

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:২৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ অক্টোবর ২০১৯
  • ৩১৫ বার

 

মানুষের জন্য সর্বোত্তম নসিহত হচ্ছে কুরআনুল কারিমের নসিহত। এ নসিহত নিয়ে কুরআনসহ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহ দুনিয়ায় আগমন করেছেন। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের ব্যাখ্যা ও ভাব মানুষের কাছে সফলতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।

যারা তা গ্রহণ করেছেন তারা পেয়েছে কল্যাণ ও স্বাধীনতা আর যারা বিরত থেকেছেন বা আমল করেননি তারা হয়েছেন ক্ষতিগ্রহস্ত। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা মানুষের উদ্দেশ্যে সে ঘোষণাই দিয়েছেন-
‘রাসুল তোমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছেন, তা গ্রহণ কর। আর যা থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক।’

বিশ্বনবি মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন সফল জীবন পরিচালনার সঠিক দিক-নির্দেশনা। এমন অনেক নসিহত পেশ করেছেন, যে নসিহত গ্রহণ করলে মানুষ দুনিয়া ও পরকালের কোথাও বিদপ ও মুসিবতে পড়বে না। না হবে তাদের কোনো ক্ষতি।

এ নসিহতে আরও ওঠে এসেছে মানুষের ভালো-মন্দ কোনো কিছুই বান্দার হাতে নয়। হাদিসে এসেছে-
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে (আরোহী অবস্থায়) ছিলাম।
তিনি বললেন, হে বালক! আমি তোমাকে কিছু কালেমা শিখিয়ে দেই-
– (তুমি) আল্লাহ তাআলার বিধানের হেফাজত করবে। তাহলে তিনিও তোমার হেফাজত করবেন।
– আল্লাহর সন্তুষ্টির বিষয়ে সর্বদা খেয়াল রাখবে। তাহলে তুমি তাঁকে (আল্লাহকে) তোমার সামনে পাবে।
– যখন সাহায্যের প্রয়োজন হবে। তখন আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে।
(হে বালক! মনে রাখবে, গোটা দুনিয়ার) সব মানুষ যদি তোমার উপকার করতে একত্রিত হয়, তবে আল্লাহ তকদিরে যা লিখে রেখেছেন, ততটুকু ছাড়া কেউ তার কোনো উপকার করতে পারবে না।
আর সব মানুষ যদি একত্রিত হয়ে তোমার ক্ষতি করার চেষ্টা করে তবে আল্লাহ তোমার তকদিরে যা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তা ব্যতিত অতিরিক্ত কোনো ক্ষতিই করতে পারবে না। কেননা কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, কাগজগুলো শুকিয়ে গেছে। (তিরমিজি)

সুতরাং ভালো ও মন্দ সব বিষয়ে আল্লাহর ওপর ভরসার করার বিকল্প নেই। ভালো থাকতে হাদিসে ঘোষিত নসিহত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহ হুকুম আহকাম পালনের পাশাপাশি তারই কাছে সন্তুষ্টি কামনায় সাহায্য প্রার্থনা করা। দুনিয়ার সব অনষ্টি থেকে মুক্তি চাওয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের আলোকে নিজেদের জীবনকে সাজানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মানুষের যে ক্ষতি ও কল্যাণ আল্লাহ ছাড়া কেউ করতে পারে না

আপডেট টাইম : ০৯:২৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ অক্টোবর ২০১৯

 

মানুষের জন্য সর্বোত্তম নসিহত হচ্ছে কুরআনুল কারিমের নসিহত। এ নসিহত নিয়ে কুরআনসহ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহ দুনিয়ায় আগমন করেছেন। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের ব্যাখ্যা ও ভাব মানুষের কাছে সফলতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।

যারা তা গ্রহণ করেছেন তারা পেয়েছে কল্যাণ ও স্বাধীনতা আর যারা বিরত থেকেছেন বা আমল করেননি তারা হয়েছেন ক্ষতিগ্রহস্ত। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা মানুষের উদ্দেশ্যে সে ঘোষণাই দিয়েছেন-
‘রাসুল তোমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছেন, তা গ্রহণ কর। আর যা থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক।’

বিশ্বনবি মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন সফল জীবন পরিচালনার সঠিক দিক-নির্দেশনা। এমন অনেক নসিহত পেশ করেছেন, যে নসিহত গ্রহণ করলে মানুষ দুনিয়া ও পরকালের কোথাও বিদপ ও মুসিবতে পড়বে না। না হবে তাদের কোনো ক্ষতি।

এ নসিহতে আরও ওঠে এসেছে মানুষের ভালো-মন্দ কোনো কিছুই বান্দার হাতে নয়। হাদিসে এসেছে-
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পিছনে (আরোহী অবস্থায়) ছিলাম।
তিনি বললেন, হে বালক! আমি তোমাকে কিছু কালেমা শিখিয়ে দেই-
– (তুমি) আল্লাহ তাআলার বিধানের হেফাজত করবে। তাহলে তিনিও তোমার হেফাজত করবেন।
– আল্লাহর সন্তুষ্টির বিষয়ে সর্বদা খেয়াল রাখবে। তাহলে তুমি তাঁকে (আল্লাহকে) তোমার সামনে পাবে।
– যখন সাহায্যের প্রয়োজন হবে। তখন আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে।
(হে বালক! মনে রাখবে, গোটা দুনিয়ার) সব মানুষ যদি তোমার উপকার করতে একত্রিত হয়, তবে আল্লাহ তকদিরে যা লিখে রেখেছেন, ততটুকু ছাড়া কেউ তার কোনো উপকার করতে পারবে না।
আর সব মানুষ যদি একত্রিত হয়ে তোমার ক্ষতি করার চেষ্টা করে তবে আল্লাহ তোমার তকদিরে যা নির্ধারণ করে রেখেছেন, তা ব্যতিত অতিরিক্ত কোনো ক্ষতিই করতে পারবে না। কেননা কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, কাগজগুলো শুকিয়ে গেছে। (তিরমিজি)

সুতরাং ভালো ও মন্দ সব বিষয়ে আল্লাহর ওপর ভরসার করার বিকল্প নেই। ভালো থাকতে হাদিসে ঘোষিত নসিহত অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহ হুকুম আহকাম পালনের পাশাপাশি তারই কাছে সন্তুষ্টি কামনায় সাহায্য প্রার্থনা করা। দুনিয়ার সব অনষ্টি থেকে মুক্তি চাওয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের আলোকে নিজেদের জীবনকে সাজানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।