ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

গ্রাম আদালতে বাড়ছে নির্ভরতা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৪৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০১৯
  • ২৭৯ বার

হাওর বার্তা  ডেস্কঃ  টাঙ্গাইলে ১১৮টি গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাচ্ছে মানুষ। দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ও বিনা খরচে প্রতিকার পাওয়ায় গ্রাম আদালতে নির্ভরতা বাড়ছে বিচার প্রার্থীদের।

আইনজীবিরা জানান, ছোট ছোট সমস্যাগুলো গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি হওয়ায় বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি কমেছে। আদালতের ওপর চাপও কমেছে।

টাঙ্গাইলের ১১৮টি ইউপির সবগুলোতে গ্রাম আদালত চালু আছে। এ কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও এ আদালতের আইনি সুবিধা পাচ্ছে। বিচার প্রার্থীদের পছন্দের ইউপি সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয় বিচারক প্যানেল, সভাপতি হিসেবে থাকেন চেয়ারম্যান। তারা অভিযোগ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করেন। নিজ নিজ ইউপিতে বিচারকাজ হওয়ায় যাতায়তের খরচও নেই। তাই খুশি মনেই গ্রাম আদালতে আসেন বিচার প্রার্থীরা।

সদর উপজেলার দাইন্যা ইউপির পাচকাহনিয়া গ্রামের মো. আনিসুর রহমান বলেন, সাত মাসে আগে আমার প্রতিবেশী জামাল হোসেনের সঙ্গে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত সপ্তাহে গ্রাম আদালত এ সমস্যার সমাধান করেছে। এতে আমাদের কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।

দাইন্যা ইউপি সচিব মো. আরিফুর রহমান বলেন, ইউপি চেয়ানম্যানের সভাপতিত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গ্রাম আদালত পরিচালনা করে। সভাপতির কাছে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী নোটিশের মাধ্যমে বাদী-বিবাদীকে হাজির করে সমাধান দেয়া হয়।

দাইন্যা ইউপি চেয়ারম্যান মো. লাভলু মিয়া লাভু বলেন, মানুষ খুব সহজেই গ্রাম আদালতে সমাধান পায়। এখানে আইনজীবী লাগে না। কোনো আর্থিক লেনদেনও নেই। এ কারণে গ্রাম আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। আমরা খুব সহজেই মানুষের অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে পারি।

টাঙ্গাইলের মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট আবদুল করিম মিয়া বলেন, গ্রাম আদালত পুরোপুরি কার্যকর হলে দেশের আদালতগুলোতে মামলার জটিলতা কমবে।

আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রশিদ বলেন, দেশে ১৯৭৬ সালে গ্রাম আদালত চালু হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্রাম আদালতের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা দেশেই গ্রাম আদালতকে আরো বেগবান করতে হবে।

স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শরীফ নজরুল ইসলাম বলেন, টাঙ্গাইলে ১২টি উপজেলার ১১৮টি ইউপিতে গ্রাম আদালত রয়েছে। প্রতিমাসে গ্রাম আদালতের প্রতিবেদন আমাদের কাছে আসে। আমরা এসব রিপোর্ট মূল্যায়ন করি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

গ্রাম আদালতে বাড়ছে নির্ভরতা

আপডেট টাইম : ০৬:৪৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর ২০১৯

হাওর বার্তা  ডেস্কঃ  টাঙ্গাইলে ১১৮টি গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পাচ্ছে মানুষ। দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ও বিনা খরচে প্রতিকার পাওয়ায় গ্রাম আদালতে নির্ভরতা বাড়ছে বিচার প্রার্থীদের।

আইনজীবিরা জানান, ছোট ছোট সমস্যাগুলো গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি হওয়ায় বিচার প্রার্থীদের ভোগান্তি কমেছে। আদালতের ওপর চাপও কমেছে।

টাঙ্গাইলের ১১৮টি ইউপির সবগুলোতে গ্রাম আদালত চালু আছে। এ কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও এ আদালতের আইনি সুবিধা পাচ্ছে। বিচার প্রার্থীদের পছন্দের ইউপি সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয় বিচারক প্যানেল, সভাপতি হিসেবে থাকেন চেয়ারম্যান। তারা অভিযোগ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করেন। নিজ নিজ ইউপিতে বিচারকাজ হওয়ায় যাতায়তের খরচও নেই। তাই খুশি মনেই গ্রাম আদালতে আসেন বিচার প্রার্থীরা।

সদর উপজেলার দাইন্যা ইউপির পাচকাহনিয়া গ্রামের মো. আনিসুর রহমান বলেন, সাত মাসে আগে আমার প্রতিবেশী জামাল হোসেনের সঙ্গে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গত সপ্তাহে গ্রাম আদালত এ সমস্যার সমাধান করেছে। এতে আমাদের কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।

দাইন্যা ইউপি সচিব মো. আরিফুর রহমান বলেন, ইউপি চেয়ানম্যানের সভাপতিত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গ্রাম আদালত পরিচালনা করে। সভাপতির কাছে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী নোটিশের মাধ্যমে বাদী-বিবাদীকে হাজির করে সমাধান দেয়া হয়।

দাইন্যা ইউপি চেয়ারম্যান মো. লাভলু মিয়া লাভু বলেন, মানুষ খুব সহজেই গ্রাম আদালতে সমাধান পায়। এখানে আইনজীবী লাগে না। কোনো আর্থিক লেনদেনও নেই। এ কারণে গ্রাম আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। আমরা খুব সহজেই মানুষের অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে পারি।

টাঙ্গাইলের মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট আবদুল করিম মিয়া বলেন, গ্রাম আদালত পুরোপুরি কার্যকর হলে দেশের আদালতগুলোতে মামলার জটিলতা কমবে।

আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুর রশিদ বলেন, দেশে ১৯৭৬ সালে গ্রাম আদালত চালু হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে গ্রাম আদালতের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সারা দেশেই গ্রাম আদালতকে আরো বেগবান করতে হবে।

স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শরীফ নজরুল ইসলাম বলেন, টাঙ্গাইলে ১২টি উপজেলার ১১৮টি ইউপিতে গ্রাম আদালত রয়েছে। প্রতিমাসে গ্রাম আদালতের প্রতিবেদন আমাদের কাছে আসে। আমরা এসব রিপোর্ট মূল্যায়ন করি।