হাওর বার্তাঃসাফের যে কোনো আসরে তা হোক জাতীয় দল কিংবা বযসভিত্তিক, সেখানে দাপট থাকে ভারতেরই বেশি। জাতীয় দলের হয়ে বাংলাদেশের সাফল্য কম হলেও বয়সভিত্তিক দলে আবার সাফল্য অনেক বেশি। কিন্তু তারপরও সেখানে ব্যতিক্রম আছে। আর সে ব্যতিক্রম হলো অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে। যেখানে নেই এই দুই দলের আধিপত্য। এখন পর্যন্ত আসর বসেছে দুইবার। প্রতিবারই চ্যাম্পিয়ন নেপাল। দুইবারই তারা হারিয়েছে প্রথমে ভারতকে, পরে বাংলাদেশকে।
কিন্তু এবার সেই নেপালই শিরোপা লড়াইয়ে। সেমিতে উঠার আগেই বিদায় নিয়েছে। ছয় দলের আসরে দুই গ্রুপে দল ছিল তিনটি করে। নিজেদের গ্রুপে (‘এ’ গ্রুপে) নেপালের অবস্থান হয়েছে সবার নিচে। ঘরের মাঠে দ্বিতীয় বার আয়োজন করে তাই তারা এখন দশর্ক। দুই যুবকদের এই আসর পেতে যাচ্ছে নতুন চ্যাম্পিয়ন। কে হতে পারে সেই শিরোপাধারী। লড়াইয়ে আছে ‘এ’ গ্রুপ থেকে চ্যম্ফিযন ভুটান ও রানার্সআপ মালদ্বীপ এবং ‘বি’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন ভারত ও রানার্সআপ বাংলাদেশ। আজ শুরু হচ্ছে সেই মিশনের নকআউট পর্ব বা সেমিফাইনাল। দুইটি সেমিফাইনালই আজ অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম সেমিতে লাল-সবুজের বাংলাদেশের বিপক্ষে লড়বে ভুটান। খেলা শুরু হবে সকাল সোয়া এগরোটায়। দ্বিতীয় সেমিতে বেলা সোয়া তিনটায় মুখোমুখি হবে ভারত ও মালদ্বীপ।
বোঝাই যাচ্ছে- বাংলাদেশ যেহেতু নিজেদের গ্রুপে রানার্সআপ হয়েছে, তার মানে ভুটান তাদের গ্রুপে সেরা। তবে বাংলাদেশকে নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হতে হয়েছে ভাগ্যের কাছে। শ্রীলঙ্কাকে প্রথমে বাংলাদেশ, পরে ভারত ৩-০ গোলের একই ব্যবধানে হারিয়েছিল। কিন্তু নিজেদের মুখোমুখিতে খেলা আবার ড্র হয়েছিল গোলশূন্য। পয়েন্ট গোল গড় সবই সমান হয়ে যাওয়াতে দুই দলের ব্যবচ্ছেদ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অগত্যা লটারির মাধ্যমে ভারত হয় গ্রুপ সেরা। বাংলাদেশকে গ্রুপ রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। নিজেদের গ্রুপে ভুটানের অবস্থাও ছিল একই রকম। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নেপালকে তারা ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু মালদ্বীপের সঙ্গে আবার গোলশূন্য ড্র করে। এদিকে নেপাল ও মালদ্বীপের গ্রুপের অপর ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। তাই পরিসংখ্যান বা ফলাফলই বলে দিচ্ছে ভুটান এবার অনেক শক্তিশালী। শিরোপার সম্ভাব্য দাবিদার। বাংলাদেশকে তাই সেমির বৈতরণী পার হতে অনেক বড় প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হবে। যদিও বয়সভিত্তিক কোনো পর্যায়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়ের কোনো রেকর্ড নেই ভুটানের। এই তো মাত্র কিছুদিন আগে অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল আসরে বাংলাদেশের কিশোররা ৩-০ গোলে হারিয়েছিল ভুটানকে। আবার অনূধ্ব-১৮ আসরে আগের দুইবারই দেখা হয়েছিল দুই দলের। প্রথমবার ২০১৫ সালে বাংলাদেশ জিতেছিল ২-০ গোলে। ২০১৭ সালে পরের আসরে বাংলাদেশের জয় ছিল ৩-০ গোলে।
আসরে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের টার্গেট ছিল সেমিতে খেলা। এখন সেখানে জন্ম নিয়েছে শিরোপার জেতার স্বপ্ন। বাংলাদেশ দলও আত্মবিশ্বাসী ফাইনালে খেলার ব্যাপারে। দলের কোট এন্ড্র– পিটারের আশাও সে রকম। তিনি জয় ভিন্ন অন্যকিছু ভাবছেন না। সেমিফাইনাল নিয়ে তিনি বলেন, ‘সেমিফাইনালে আমরা জয় ছাড়া অন্যকিছু ভাবছি না। আমার দলের খেলোয়াড়দের ওপর অনেক আস্থা আছে।’
ফাইনালে খেলার ব্যাপারে আত্মবিশ্বসাী পিটারের সৈনিক ফাহিম-মিঠুরাও। সাদিকুজ্জামান ফাহিম বলেন, ‘আমাদের টিমওয়ার্ক অনেক ভালো। কোচ আমাদের যেভাবে শিখিয়েছেন, মাঠে যদি আমরা সেভাবে খেলতে পারি, তাহলে আমরাই জয়ী হব। ওমর ফারুক ব্রাজিলে অনুশীলন করেছেন। তিনি বলেন, ভুটানকে হারাতে পারব বলে আমরা আশা করি। আমাদের দলে সবাই ভালো খেলে। অনেক গতিশীল আমাদের দল। আমরা আক্রমণাত্মক খেলব।’ বাংলাদেশ দলে হলুদ কার্ড সমস্যা আছে। এ নিয়ে চিন্তিত কোচ পিটার। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে দুই/তিনটা হলুদ কার্ড আছে। এ রকম স্টেজে এসে এটি কখনো সুখকর নয়। এ ব্যাপারে আমাদের আরো সতর্ক হওয়া উচিত।
Reporter Name 

























