ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নজরদারিতে এমপিদের স্ত্রী সন্তান স্বজনরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০১৯
  • ৩১৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন টানা তৃতীয় মেয়াদের সংসদের এমপিরা আগের মতো আর তদ্বির বাণিজ্য করেন না। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে সরাসরি হস্তক্ষেপও কমে গেছে। ডিও লেটারও এখন আর আগের মতো মূল্যায়িত হয় না। আর এ সব কিছুই হয়েছে সরকার প্রধান শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনা ও তাদের প্রতি সরকারের নজরদারির কারণে।

এতোকিছুর পরও ক্ষমতাসীনদের প্রভাব, অনিয়ম, দুর্নীতি থেমে নেই। আগের মতো প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার অনেকটা রোধ হলেও পরোক্ষভাবে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই।

এমপিদের, স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও নিকটাত্মীয়রা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যাক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে নিজেদের প্রাপ্যটুকু ঠিকই ভাগিয়ে নিচ্ছেন। এমন অভিযোগ যাওয়ার পর এবার এমপিদের পরিবার-পরিজনদের দিকে দৃষ্টি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তারা কে কোথায় যান, কি করেন, কাদের সাথে মেশেন, এমনকি কারো আকস্মিক সম্পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে কিনা এসব কিছুই এখন নজরদারির মধ্যে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রমতে, নির্বাচনের সময় মন্ত্রী এমপিরা যে হলফ নামা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন, তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এরইমধ্যে সংগ্রহ করেছে। এছাড়া মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় যে সব মন্ত্রীরা আছেন তাদেরও সম্পদের হিসেব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনা হয়েছে। বর্তমান সরকার সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং পরীবিক্ষণের জন্য এই সম্পদের হিসেব সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের আকস্মিক বৃদ্ধি হয় কিনা তা মনিটরিং করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার নির্দেশে খোলা হয়েছে বিশেষ সেল।

টানা তৃতীয়বারের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি চান মন্ত্রিসভা ও এমপিদের বিরুদ্ধে যেন কোন দুর্নীতির অভিযোগ না ওঠে। বিগত দুই মেয়াদে সরকার জনকল্যাণে এবং উন্নয়নে অবিস্মরণীয় কাজ করেছে।

কিন্তু তারপরও কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এবার প্রধানমন্ত্রী চান সরকার সংশ্লিষ্টরা থাকবেন একেবারেই ক্লিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এটি নতুন নয়। ২০০৯ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পরও প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের সম্পদের হিসেব নিয়েছিলেন। যদিও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করার বিষয় নয়। এটি জবাবদিহিতার বিষয়। তার মতে, বর্তমান সরকার কাঠামোয় মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়বদ্ধ। আর এমপিরা দায়বদ্ধ সংসদ নেতার কাছে। কাজেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী-এমপিদের সম্পর্কে ৫টি তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিয়মিত হালনাগাদ বা আপডেট করছে। এগুলোর অন্যতম হলো-তাদের স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্মীয়রা কোথায় যান, কার সাথে মেশেন। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার বা অন্য ব্যবসায়ীদের সাথে তাদের সম্পর্ক আছে কিনা। মন্ত্রণালয় বা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজে হস্তক্ষেপ করেন কিনা। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কেনা কাটা, দরপত্র, নিয়োগ, বদলী ইত্যাদি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন কিনা।

এদিকে এমপি ও মন্ত্রীদের উপর নজরদারির বিষয়গুলো হচ্ছে-তারা নিজ সংসদীয় এলাকায় কতবার যাচ্ছেন বা আদৌ যাচ্ছেন কিনা। এলাকায় নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রিতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এলাকার জনগণের সাথে তার সম্পৃক্ততা কমছে না বাড়ছে। দলীয় কার্যালয়ে যান কিনা। দলীয় কর্মসূচিতে তাদের উপস্থিতি কেমন? দলের নেতা কর্মীদের সাথে সম্পর্ক কেমন। এছাড়া মন্ত্রীরা ফাইল নিস্পত্তি কিভাবে করছেন। মন্ত্রণালয়ে কতক্ষণ থাকছেন। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কাজ কিভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন ইত্যাদি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নজরদারিতে এমপিদের স্ত্রী সন্তান স্বজনরা

আপডেট টাইম : ১২:০১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন টানা তৃতীয় মেয়াদের সংসদের এমপিরা আগের মতো আর তদ্বির বাণিজ্য করেন না। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে সরাসরি হস্তক্ষেপও কমে গেছে। ডিও লেটারও এখন আর আগের মতো মূল্যায়িত হয় না। আর এ সব কিছুই হয়েছে সরকার প্রধান শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনা ও তাদের প্রতি সরকারের নজরদারির কারণে।

এতোকিছুর পরও ক্ষমতাসীনদের প্রভাব, অনিয়ম, দুর্নীতি থেমে নেই। আগের মতো প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার অনেকটা রোধ হলেও পরোক্ষভাবে সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই।

এমপিদের, স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও নিকটাত্মীয়রা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যাক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে নিজেদের প্রাপ্যটুকু ঠিকই ভাগিয়ে নিচ্ছেন। এমন অভিযোগ যাওয়ার পর এবার এমপিদের পরিবার-পরিজনদের দিকে দৃষ্টি রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তারা কে কোথায় যান, কি করেন, কাদের সাথে মেশেন, এমনকি কারো আকস্মিক সম্পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে কিনা এসব কিছুই এখন নজরদারির মধ্যে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রমতে, নির্বাচনের সময় মন্ত্রী এমপিরা যে হলফ নামা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছেন, তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এরইমধ্যে সংগ্রহ করেছে। এছাড়া মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় যে সব মন্ত্রীরা আছেন তাদেরও সম্পদের হিসেব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনা হয়েছে। বর্তমান সরকার সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং পরীবিক্ষণের জন্য এই সম্পদের হিসেব সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের আকস্মিক বৃদ্ধি হয় কিনা তা মনিটরিং করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার নির্দেশে খোলা হয়েছে বিশেষ সেল।

টানা তৃতীয়বারের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি চান মন্ত্রিসভা ও এমপিদের বিরুদ্ধে যেন কোন দুর্নীতির অভিযোগ না ওঠে। বিগত দুই মেয়াদে সরকার জনকল্যাণে এবং উন্নয়নে অবিস্মরণীয় কাজ করেছে।

কিন্তু তারপরও কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এবার প্রধানমন্ত্রী চান সরকার সংশ্লিষ্টরা থাকবেন একেবারেই ক্লিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এটি নতুন নয়। ২০০৯ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পরও প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের সম্পদের হিসেব নিয়েছিলেন। যদিও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, এটি জনসমক্ষে প্রকাশ করার বিষয় নয়। এটি জবাবদিহিতার বিষয়। তার মতে, বর্তমান সরকার কাঠামোয় মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়বদ্ধ। আর এমপিরা দায়বদ্ধ সংসদ নেতার কাছে। কাজেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী-এমপিদের সম্পর্কে ৫টি তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিয়মিত হালনাগাদ বা আপডেট করছে। এগুলোর অন্যতম হলো-তাদের স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্মীয়রা কোথায় যান, কার সাথে মেশেন। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার বা অন্য ব্যবসায়ীদের সাথে তাদের সম্পর্ক আছে কিনা। মন্ত্রণালয় বা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজে হস্তক্ষেপ করেন কিনা। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কেনা কাটা, দরপত্র, নিয়োগ, বদলী ইত্যাদি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন কিনা।

এদিকে এমপি ও মন্ত্রীদের উপর নজরদারির বিষয়গুলো হচ্ছে-তারা নিজ সংসদীয় এলাকায় কতবার যাচ্ছেন বা আদৌ যাচ্ছেন কিনা। এলাকায় নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রিতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে কি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এলাকার জনগণের সাথে তার সম্পৃক্ততা কমছে না বাড়ছে। দলীয় কার্যালয়ে যান কিনা। দলীয় কর্মসূচিতে তাদের উপস্থিতি কেমন? দলের নেতা কর্মীদের সাথে সম্পর্ক কেমন। এছাড়া মন্ত্রীরা ফাইল নিস্পত্তি কিভাবে করছেন। মন্ত্রণালয়ে কতক্ষণ থাকছেন। নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কাজ কিভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন ইত্যাদি।