হাওর বার্তা ডেস্কঃ দুর্নীতির অভিযোগে অনেক প্রভাবশালীদের আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পদ-পদবি বা অন্য কোনো পরিচয়ে কাজে হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ও সিএমআইয়ের সিনিয়র গবেষক ইনজে অ্যামন্ডসের সঙ্গে এক সাক্ষাতে দুদক চেয়ারম্যানের এ কথা বলেন।
এসময় দেশের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও বেসরকারি খাতের দুর্নীতির বিষয়ে টিআইবির ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, সার্বিকভাবে টিআইবির ভালো কাজ করছে। তারা তাদের গবেষণার মাধ্যমে দুর্নীতির উৎস শনাক্তকরণসহ তা নিরসনে কিছু কাজ করছে।
টিআইবির সঙ্গে দুদকের সম্পর্ক রয়েছে এমন উক্তি করেন তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে কমিশনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ভিত্তিতে বিভিন্ন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। টিআইবি শিক্ষা বিশেষ করে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক শিক্ষায় যে সব মেগা কর্মসূচি রয়েছে এগুলোর প্রান্তিক পর্যায়ের কার্যক্রমের ওপর গবেষণা করতে পারে। এতে শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান দুর্নীতি-অনিয়ম সম্পর্কে সরকারের নীতি-নির্ধারকরা যেমন সচেতন হবেন, তেমনি তৃণমূল পর্যায়েও দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বাড়বে।
চেয়ারম্যানের বলেন, একইভাবে স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও টিআইবি গবেষণা করলে এক্ষেত্রে সরকারি পরিষেবা প্রদানের ত্রুটি-বিচ্যুতি যেমন চিহ্নিত করতে সহজ হবে। তেমনি সমাধানের গবেষণালব্ধ সুপারিশও পাওয়া যেতে পারে। সার্বিকভাবে এক্ষেত্রে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে টিআইবির। টিআইবিকে নির্মোহ থেকে এসব গবেষণা সম্পন্ন করতে হবে।
বেসরকারি খাতের দুর্নীতি সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এক্ষেত্রেও দুর্নীতি রয়েছে। তবে সরাসরি এসব দুর্নীতি দুদকের আওতায় নেই। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে দুর্নীতির ঘটনা যখন ঘটে তখন দুদকের হস্তক্ষেপ করার আইনি সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং দুদক এ দায়িত্ব পালনও করছে।
বেসরকারি খাত টিআইবির ভূমিকা কেমন হবে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে সুশাসনের জন্য অনেক আইন রয়েছে, তবে এসব আইনের প্রয়োগের সমস্যা রয়েছে। ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট্ কেন হচ্ছে না? এর মূলে রয়েছে এসব আইনের সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়া এবং দুর্নীতি। এক্ষেত্রে টিআইবি এবং সিপিডির মতো প্রতিষ্ঠান গবেষণার মাধ্যমে দুর্নীতি-অনিয়মের কারণ, ধরন, ব্যাপকতা শনাক্ত করে তা প্রতিরোধে সুপারিশ প্রণয়ন করতে পারে।
দুদকের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনের সক্ষমতায় কিছুটা ঘাটতি হয়তো রয়েছে, তা অতিক্রমের জন্য কমিশন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাছাড়া দুর্নীতি করলে তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে, এই বার্তা দিতে কমিশন সফল হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, দুর্নীতির অভিযোগে অনেক প্রভাবশালীদের আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পদ-পদবি কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ে কাজে হচ্ছে না। দুর্নীতিপরায়ণদের আজ হোক কাল হোক জবাবদিহি করতেই হবে।
Reporter Name 























