ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

২৪ ঘণ্টাই দিন, কিভাবে রোজা রাখেন তারা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০১৯
  • ২৮৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চলতি রমজানের মধ্যেই নতুন একটি চাকরিতে যোগদান করবেন ৩৪ বছর বয়সী সোফি ক্লাউজার দার। ডেনমার্কের এই বাসিন্দা চিন্তায় আছেন কিভাবে নতুন চাকরিতে গিয়ে ১৭ ঘণ্টা রোজা পালন করবেন। স্ক্যান্ডেনেভিয়া অঞ্চলের দেশটিতে এখন ১৭ ঘণ্টা লম্বা দিন হয়। এত দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হয় ডেনিশ মুসলমানদের।

একটি বেবি কেয়ার সেন্টারে চাকরি শুরু করবেন সোফি। নওমুসলিম এই নারীকে সেখানে বাচ্চাদের দেখাশোনার কাজ করতে হবে। দেশটিতে রাত এতই ছোট এখন যে রাতের কাজগুলো ঠিক মতো করাও কষ্টকর। সোফি বলেন, রাতের খাবার ও সেহেরী খাওয়া, মাগরিব, এশা ও তারাবির নামাজ-এতসব কাজের জন্য রাত খুবই ছোট। সময় দ্রুতই শেষ হয়ে যায় এখানে। রাতে ঘুমানোর সময়ই পাওয়া যায় না।

শুধু ডেনমার্ক নয়, স্ক্যান্ডেনেভিয়া অঞ্চলের আরো কয়েকটি দেশেও একই চিত্র। নরওয়ে, আইসল্যান্ডের মুসলমানরাও রোজা রাখা নিয়ে এই সমস্যার মুখোমুখী। এই অঞ্চলটিতে এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে বছরের এই সময়টাতে সূর্যই অস্ত যায় না। আর্কটিক সাগরে নরওয়ের এসভালবার্ড দ্বীপমালা তেমনি একটি অঞ্চল। এপ্রিল থেকে আগস্ট-বছরের এই সময়টাতে ২৪ ঘণ্টাই দিন থাকে সেখানে। এছাড়া নরওয়ের মূল ভূখণ্ডের ট্রোমসো শহরের অবস্থাও একই।

এই রকম অঞ্চল যেখানে ‘মধ্যরাতের সূর্য’ও দেখা যায় না তারা কিভাবে রোজা রাখবেন। কিভাবে সেহেরী ও ইফতার করবেন বিষয়টি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে তাদের জন্য তিনিটি অপশন রয়েছে বলে জানান নরওয়ের রাজধানী অসলোর একটি মসজিদের ইমাম ও মুসলিম স্কলার অসিম মোহাম্মাদ। তিনি বলেন, যে অঞ্চলে সূর্য ডোবেই না, তারা হয়তো নিকটস্থ শহরের সূর্যদয় ও সূর্যাস্ত দেখে রোজা রাখা ও ইফতার করতে পারেন। কিংবা মুসলিমদের কেবলার নগরী মক্কার সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে অথবা তাদের এলাকায় কিছুদিন আগে যখন সূর্যাস্ত হত সেই সময় হিসাব করে করতে পারেন।

এই ইমাম জানান, তার আশাপাশের অনেকেই রমজান মাসে চাকরি থেকে ছুটি নেয়ার চিন্তা করছেন। কারণ ১৭ ঘণ্টার বেশি রোজা রেখে চাকরি করা কঠিন। তিনি বলেন, অবশ্য চাকরিতে কাজের ধরনের ওপর এটি অনেকটা নির্ভরশীল। যারা অফিসের অভ্যন্তরে ডেক্স জব করে। এয়ার কন্ডিশনারের ভেতর তাদের খুব একটা সমস্যা হয় না। তবে যারা এই গরম আবহাওয়ায় বাইরে কাজ করেন তাদের জন্য কঠিন।

গরমে দীর্ঘক্ষণ রোজ রাখতে গিয়ে অনেকেই পানিশূন্যতা, ক্লান্তিসহ অনেকভাবে অসুস্থ বোধ করতে পারেন। এই পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সোফি দার বলেন, রাত এত ছোট যে পরের দিন রোজা রেখে সুস্থ্য থাকার মতো পর্যাপ্ত পানি ও খাবার গ্রহণ করা হয় না। যে কারণে রোজা রাখা সত্যিই কঠিন। রাত ছোট হওয়ার কারণে ঘুম হয় না বললেই চলে সেটিও রোজাদারদের জন্য কষ্টকর। ধরুন আমার বাচ্চাকে সকাল আটটায় স্কুলে দিয়ে আসতে হয় কাজেই বিষয়টি কঠিন। তবে কয়েকদিন গেলে তখন রোজার একই কষ্টে অভ্যস্ত হয়ে যান বলে জানান এই মুসলিম নারী। তখন আর কষ্ট অনুভব হয়না।

নরওয়েতে গ্রীষ্ম কিংবা বসন্তের দিকে দিন বড় হয়; কিন্তু শীতে এই চিত্রটা একদমই উল্টো। তাই যখন শীতে রোজ হয় তখন তাদের জন্যে সেটি খুবই সহজ হয়ে যায়। ইমাম মোহাম্মদ বলেন, নরওয়েতে গ্রীষ্ম ও শীতে দিন-রাতের মধ্যে অনেক বেশি পার্থক্য।

ডিসেম্বরের শীতে সোয়া তিনটার মধ্যেই সূর্য ডোবে। যে কারণে শীতে রোজা রাখতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে সবাই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

২৪ ঘণ্টাই দিন, কিভাবে রোজা রাখেন তারা

আপডেট টাইম : ১১:১৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ মে ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চলতি রমজানের মধ্যেই নতুন একটি চাকরিতে যোগদান করবেন ৩৪ বছর বয়সী সোফি ক্লাউজার দার। ডেনমার্কের এই বাসিন্দা চিন্তায় আছেন কিভাবে নতুন চাকরিতে গিয়ে ১৭ ঘণ্টা রোজা পালন করবেন। স্ক্যান্ডেনেভিয়া অঞ্চলের দেশটিতে এখন ১৭ ঘণ্টা লম্বা দিন হয়। এত দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে হয় ডেনিশ মুসলমানদের।

একটি বেবি কেয়ার সেন্টারে চাকরি শুরু করবেন সোফি। নওমুসলিম এই নারীকে সেখানে বাচ্চাদের দেখাশোনার কাজ করতে হবে। দেশটিতে রাত এতই ছোট এখন যে রাতের কাজগুলো ঠিক মতো করাও কষ্টকর। সোফি বলেন, রাতের খাবার ও সেহেরী খাওয়া, মাগরিব, এশা ও তারাবির নামাজ-এতসব কাজের জন্য রাত খুবই ছোট। সময় দ্রুতই শেষ হয়ে যায় এখানে। রাতে ঘুমানোর সময়ই পাওয়া যায় না।

শুধু ডেনমার্ক নয়, স্ক্যান্ডেনেভিয়া অঞ্চলের আরো কয়েকটি দেশেও একই চিত্র। নরওয়ে, আইসল্যান্ডের মুসলমানরাও রোজা রাখা নিয়ে এই সমস্যার মুখোমুখী। এই অঞ্চলটিতে এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে বছরের এই সময়টাতে সূর্যই অস্ত যায় না। আর্কটিক সাগরে নরওয়ের এসভালবার্ড দ্বীপমালা তেমনি একটি অঞ্চল। এপ্রিল থেকে আগস্ট-বছরের এই সময়টাতে ২৪ ঘণ্টাই দিন থাকে সেখানে। এছাড়া নরওয়ের মূল ভূখণ্ডের ট্রোমসো শহরের অবস্থাও একই।

এই রকম অঞ্চল যেখানে ‘মধ্যরাতের সূর্য’ও দেখা যায় না তারা কিভাবে রোজা রাখবেন। কিভাবে সেহেরী ও ইফতার করবেন বিষয়টি নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে তাদের জন্য তিনিটি অপশন রয়েছে বলে জানান নরওয়ের রাজধানী অসলোর একটি মসজিদের ইমাম ও মুসলিম স্কলার অসিম মোহাম্মাদ। তিনি বলেন, যে অঞ্চলে সূর্য ডোবেই না, তারা হয়তো নিকটস্থ শহরের সূর্যদয় ও সূর্যাস্ত দেখে রোজা রাখা ও ইফতার করতে পারেন। কিংবা মুসলিমদের কেবলার নগরী মক্কার সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে অথবা তাদের এলাকায় কিছুদিন আগে যখন সূর্যাস্ত হত সেই সময় হিসাব করে করতে পারেন।

এই ইমাম জানান, তার আশাপাশের অনেকেই রমজান মাসে চাকরি থেকে ছুটি নেয়ার চিন্তা করছেন। কারণ ১৭ ঘণ্টার বেশি রোজা রেখে চাকরি করা কঠিন। তিনি বলেন, অবশ্য চাকরিতে কাজের ধরনের ওপর এটি অনেকটা নির্ভরশীল। যারা অফিসের অভ্যন্তরে ডেক্স জব করে। এয়ার কন্ডিশনারের ভেতর তাদের খুব একটা সমস্যা হয় না। তবে যারা এই গরম আবহাওয়ায় বাইরে কাজ করেন তাদের জন্য কঠিন।

গরমে দীর্ঘক্ষণ রোজ রাখতে গিয়ে অনেকেই পানিশূন্যতা, ক্লান্তিসহ অনেকভাবে অসুস্থ বোধ করতে পারেন। এই পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সোফি দার বলেন, রাত এত ছোট যে পরের দিন রোজা রেখে সুস্থ্য থাকার মতো পর্যাপ্ত পানি ও খাবার গ্রহণ করা হয় না। যে কারণে রোজা রাখা সত্যিই কঠিন। রাত ছোট হওয়ার কারণে ঘুম হয় না বললেই চলে সেটিও রোজাদারদের জন্য কষ্টকর। ধরুন আমার বাচ্চাকে সকাল আটটায় স্কুলে দিয়ে আসতে হয় কাজেই বিষয়টি কঠিন। তবে কয়েকদিন গেলে তখন রোজার একই কষ্টে অভ্যস্ত হয়ে যান বলে জানান এই মুসলিম নারী। তখন আর কষ্ট অনুভব হয়না।

নরওয়েতে গ্রীষ্ম কিংবা বসন্তের দিকে দিন বড় হয়; কিন্তু শীতে এই চিত্রটা একদমই উল্টো। তাই যখন শীতে রোজ হয় তখন তাদের জন্যে সেটি খুবই সহজ হয়ে যায়। ইমাম মোহাম্মদ বলেন, নরওয়েতে গ্রীষ্ম ও শীতে দিন-রাতের মধ্যে অনেক বেশি পার্থক্য।

ডিসেম্বরের শীতে সোয়া তিনটার মধ্যেই সূর্য ডোবে। যে কারণে শীতে রোজা রাখতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে সবাই।