,

7

দেশের সব নাগরিকেরই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দেশের সব নাগরিকেরই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শান্তি ও উন্নয়নের জন্য আইন, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের সমন্বয়ের বিকল্প নেই। তাই ইংরেজির পাশাপাশি বাংলায়ও মামলার রায় লেখার বিষয় বিবেচনা করা উচিত। গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিচার বিভাগীয় এক সম্মেলন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহন জানান। তিনি বলেন, স প্রতি বেশ কিছু ঘটনার দ্রততম রায় দেয়ায় বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা বহুগুণ বেড়েছে। রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগের একের কাজে অন্যের হস্তক্ষেপ শান্তি ও ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করে।

সুপ্রিম কোর্ট আয়োজিত ‘শান্তি ও উন্নয়নের জন্য ন্যায়বিচার’ শীর্ষক দিনব্যাপী সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ ছাড়াও আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারোয়ার, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার মো. আলী আকবর এবং মুন্সীগঞ্জের সিনিয়র দায়রা জজ হোসনে আরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং সারা দেশের নিম্ন আদালতের বিচারকগণ সম্মেলনে যোগ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি বাংলার ছাত্রী, আইন না পড়ায় আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব এতদিন মাথায় আসেনি। আমাদের প্রধান বিচারপতি একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। আসলে এই ধারণাটা আমাদের কখনো চিন্তায় আসেনি বা কেউ বলেনওনি। আমি তো আর আইনও পড়িনি। আমি নিরেট বাংলার ছাত্রী, একেবারে সাদামাটা বাংলার ছাত্রী। আমি মনে করি যে, এটা অত্যন্ত উত্তম একটা প্রস্তাব, এটা হওয়া একান্তভাবে প্রয়োজন। প্রস্তাব নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলাপ করে খুব দ্রত যাতে হয়, সেই ব্যবস্থা করে দেব। পৃথিবীর সব দেশে আছে, আমাদের দেশে কেন থাকবে না। তিনি আরো বলেন, যাই হোক, প্রস্তাবটা আমার খুবই ভালো লেগেছে। আমাদের অনেকগুলো আইন বিষয়ক কলেজ আছে। কিন্তু কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই। এরইমধ্যে আমরা বহুমুখি বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় করেছি, টেক্সাইল বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। ফ্যাশন ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। এরকম অনেক করেছি। কিন্তু এটা কিন্তু একটা নতুন প্রস্তাব।

বিচারকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সবসময় চিন্তিতই থাকি যে, আপনারা যারা বিভিন্ন সন্ত্রাসী বা অপরাধীদের বিচার করেন, রায় দেন। তাদের নিরাপত্তা দেখা থাকার ভাল ব্যবস্থা করা, আপনাদের যাতায়াতের সুব্যবস্থা করা এটা অবশ্যই সরকারের কর্তব্য। কাজেই এর জন্য যা করণীয়, সেটা অবশ্যই আমরা করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহামান্য প্রেসিডেন্ট ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ তৈরি করেছেন এবং এটি পরিবর্তনের কতৃত্ব কেবল তারই। তিনি (প্রেসিডেন্ট) ‘রুলস অব বিজনেস’ও তৈরি করেছেন। ‘সংবিধানের ৫১(১) এবং ৫৫(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের কার্যক্রম নিয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন উঠতে পারবে না। তবে কখনো কখনো প্রেসিডেন্টের জুরিডিকশনের অধীন ইস্যুতে অর্ডার দিতে দেখছি।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বিচারকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট দ‚রীকরণে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিচার বিভাগের সমস্যা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত। এর সমাধানে আপনার আন্তরিক প্রয়াস অব্যাহত থাকবে এবং দ্রত নিষ্পত্তির জন্য সরকার পর্যায়ক্রমিক বিচারক সংখ্যা দ্বিগুণ করবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। তিনি আরো বলেন, এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক যে, সরকারের নতুন উদ্যোগে নতুন আদালত ভবন নির্মাণ জনবল নিয়োগ, যানবাহন, আসবাবপত্র, আইটি সরঞ্জাম সরবরাহ, নতুন বিচারক নিয়োগ এবং বিচারকদের নিরাপত্তা বিধান ইত্যাদি কার্যক্রমে বিচার বিভাগে একটি উন্নত কর্মপরিবেশ তৈরি হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর