ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

বৈশাখের শুরুতেই পাঁকা ধান কেটে ঘরে তুলার অপেক্ষায় দ. সুনামগঞ্জের কৃষকরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ এপ্রিল ২০১৯
  • ৩২৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চৈত্রের প্রায় শেষ। অনুকূল আবহাওয়ায় বৈশাখের শুরুতেই পাঁকা ধান কেটে ঘরে তুলার অপেক্ষায় ‘হাওরের উঠান’ খ্যাত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সাধারণ কৃষকেরা। ইতোমধ্যে কৃষাণ কৃষাণীরা মিলে তৈরি করেছেন ধান শুকানোর জন্য খলা বা চাতাল। আবার কোনো কোনো কৃষক ধান কাটার শ্রমিকের সাথে কথা করে রেখেছেন পাঁকা ধান কাটার জন্য।

প্রথম দিকে বৃষ্টির জন্য কৃষকের মাঝে হাহাকার থাকলেও পরে সে চিন্তা কেটে গিয়ে নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় স্বস্তিতে দিন কাটিয়েছেন কৃষকেরা। অতিবৃষ্টি আর শীলাবৃষ্টির জন্য কিছুটা শংকা থাকলেও ধান পাঁকতে শুরু করায় সব শংকা কেটে যাচ্ছে তাদের। বুধবার দেখার হাওর ঘুরে দেখা মিলে ধান হলদে হওয়ার দৃশ্য। এমন দৃশ্য শুধু দেখার হাওরে নয় উপজেলার সাংহাইর হাওর, পাখিমারার হাওর, নাগডরা, জামখলার হাওর, বীরগাঁও-এর দক্ষিণের হাওরসহ ছোট বড় সকল হাওরেই এমন অবস্থা। ধান পাকার জন্য কৃষকের অপেক্ষা। এনিয়ে খুশি কৃষকেরা। প্রতিদিনই একবার জমিতে গিয়ে ধান দেখে আসেন কোনো কোনো কৃষক।

দেখার হাওরের কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, অকাল বন্যায় তাদের স্বপ্নের ফসল তলিয়ে যাবে সে ভয় তারা করছেন না। তাদের এখন একটাই ভয়, যদি অতিবৃষ্টি আর শীলাবৃষ্টি হয় তাহলেই তাদের ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যাবে। হাওরে বাঁধের কারণে বন্যার কবল থেকে ধান এখন নিরাপদ। মঙ্গলবার দিনের বেশিরভাগ সময় ছিলো বৃষ্টি। সাথে শীলাবৃষ্টিও। বাড়ির উঠান, বাজার আর কিছু কিছু গ্রামের দিকে পাথর পড়লেও হাওরের দিকে খুব একটা দেখা যায়নি। ধানের ক্ষতি হয়নি। বুধবার থেকে রোদেরদেখা মিলেছে। তাই কৃষকরা অপেক্ষা করছেন কবে ধান পাঁকবে। আর পাঁকা ধান ঘরে তুলে স্বস্তিতে বছর কাটাবেন তারা।

ধান কাটার অপেক্ষার পাশাপাশি বৈশাখ মাস নিয়ে তাদের নানান প্রস্তুতিও সেরে নিচ্ছেন। প্রস্তুত করছেন সকল বৈশাখী জিনিসপত্র। এদিকে, উপজেলার দেখার হাওরে কেউ কেউ ধান কাটা শুরু করে দিয়েছেন। আবার অনেক কৃষকেই আশংকা প্রকাশ করছেন যে, ধান কাটার ধুম পড়লে শ্রমিকের অভাব পড়বে। দেখার হাওরের সাধারণ কৃষক মুজিব মিয়া। নিজের জমি চাষ করার পাশাপাশি চাষ করেন অন্যের জমিও। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ‘আমি সাধারণ কৃষক। নিজের জমিনের লগে মাইনষের জমিনও করি। ফয়লা ডরাইছলাম, যদি মেঘ দেইন না আল্লায়? মেঘ অইছে পরে পাত্তরের ডর আছিল। অনে তো ধান মুটামুটি পাঁকিগেছে। আর ডরাইরাম না। তবুও আসমানি গজবের ডর মনো আছেই। এখন আল্লা ভরসা।’

বীরগাঁওয়ের কৃষক মিজান মিয়া জানান, প্রথম দিকে পোঁকার ভয়, খরার ভয় এবং অতি বৃষ্টির ভয় থাকলেও এখন আর সে ভয় নাই। ধান পাঁকতে শুরু করেছে। অপেক্ষা করছি। ধান পাঁকলেই কয়েকদিনের মধ্যে কাটা ধরাকে পারবো।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

বৈশাখের শুরুতেই পাঁকা ধান কেটে ঘরে তুলার অপেক্ষায় দ. সুনামগঞ্জের কৃষকরা

আপডেট টাইম : ১২:০১:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ এপ্রিল ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ চৈত্রের প্রায় শেষ। অনুকূল আবহাওয়ায় বৈশাখের শুরুতেই পাঁকা ধান কেটে ঘরে তুলার অপেক্ষায় ‘হাওরের উঠান’ খ্যাত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সাধারণ কৃষকেরা। ইতোমধ্যে কৃষাণ কৃষাণীরা মিলে তৈরি করেছেন ধান শুকানোর জন্য খলা বা চাতাল। আবার কোনো কোনো কৃষক ধান কাটার শ্রমিকের সাথে কথা করে রেখেছেন পাঁকা ধান কাটার জন্য।

প্রথম দিকে বৃষ্টির জন্য কৃষকের মাঝে হাহাকার থাকলেও পরে সে চিন্তা কেটে গিয়ে নিয়মিত বৃষ্টি হওয়ায় স্বস্তিতে দিন কাটিয়েছেন কৃষকেরা। অতিবৃষ্টি আর শীলাবৃষ্টির জন্য কিছুটা শংকা থাকলেও ধান পাঁকতে শুরু করায় সব শংকা কেটে যাচ্ছে তাদের। বুধবার দেখার হাওর ঘুরে দেখা মিলে ধান হলদে হওয়ার দৃশ্য। এমন দৃশ্য শুধু দেখার হাওরে নয় উপজেলার সাংহাইর হাওর, পাখিমারার হাওর, নাগডরা, জামখলার হাওর, বীরগাঁও-এর দক্ষিণের হাওরসহ ছোট বড় সকল হাওরেই এমন অবস্থা। ধান পাকার জন্য কৃষকের অপেক্ষা। এনিয়ে খুশি কৃষকেরা। প্রতিদিনই একবার জমিতে গিয়ে ধান দেখে আসেন কোনো কোনো কৃষক।

দেখার হাওরের কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, অকাল বন্যায় তাদের স্বপ্নের ফসল তলিয়ে যাবে সে ভয় তারা করছেন না। তাদের এখন একটাই ভয়, যদি অতিবৃষ্টি আর শীলাবৃষ্টি হয় তাহলেই তাদের ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যাবে। হাওরে বাঁধের কারণে বন্যার কবল থেকে ধান এখন নিরাপদ। মঙ্গলবার দিনের বেশিরভাগ সময় ছিলো বৃষ্টি। সাথে শীলাবৃষ্টিও। বাড়ির উঠান, বাজার আর কিছু কিছু গ্রামের দিকে পাথর পড়লেও হাওরের দিকে খুব একটা দেখা যায়নি। ধানের ক্ষতি হয়নি। বুধবার থেকে রোদেরদেখা মিলেছে। তাই কৃষকরা অপেক্ষা করছেন কবে ধান পাঁকবে। আর পাঁকা ধান ঘরে তুলে স্বস্তিতে বছর কাটাবেন তারা।

ধান কাটার অপেক্ষার পাশাপাশি বৈশাখ মাস নিয়ে তাদের নানান প্রস্তুতিও সেরে নিচ্ছেন। প্রস্তুত করছেন সকল বৈশাখী জিনিসপত্র। এদিকে, উপজেলার দেখার হাওরে কেউ কেউ ধান কাটা শুরু করে দিয়েছেন। আবার অনেক কৃষকেই আশংকা প্রকাশ করছেন যে, ধান কাটার ধুম পড়লে শ্রমিকের অভাব পড়বে। দেখার হাওরের সাধারণ কৃষক মুজিব মিয়া। নিজের জমি চাষ করার পাশাপাশি চাষ করেন অন্যের জমিও। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, ‘আমি সাধারণ কৃষক। নিজের জমিনের লগে মাইনষের জমিনও করি। ফয়লা ডরাইছলাম, যদি মেঘ দেইন না আল্লায়? মেঘ অইছে পরে পাত্তরের ডর আছিল। অনে তো ধান মুটামুটি পাঁকিগেছে। আর ডরাইরাম না। তবুও আসমানি গজবের ডর মনো আছেই। এখন আল্লা ভরসা।’

বীরগাঁওয়ের কৃষক মিজান মিয়া জানান, প্রথম দিকে পোঁকার ভয়, খরার ভয় এবং অতি বৃষ্টির ভয় থাকলেও এখন আর সে ভয় নাই। ধান পাঁকতে শুরু করেছে। অপেক্ষা করছি। ধান পাঁকলেই কয়েকদিনের মধ্যে কাটা ধরাকে পারবো।’