ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেলের সঙ্গে এসএসসি পাশ, সেই মা এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:২৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০১৯
  • ৩৬৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বয়সের বাধাকে উপেক্ষা করে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন মা মলি রাণী। ৩৭ বছর বয়সে এবার তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট কেন্দ্র্রে পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি ওই কলেজের উদ্দ্যোক্তা উন্নয়ন ট্রেডের ছাত্রী। এদিকে ছেলে মৃণ্ময় কুমার কুন্ডু মায়ের সঙ্গে এসএসসি পাশের পর নাটোর শহরে টিএমএসএস পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি হয়েছেন। তিনি বর্তমানে চতুর্থ সেমিষ্টার ফাইনাল পরীক্ষার্থী।

এর আগে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ছেলের চেয়ে ভাল ফলাফল করে মা। মা মলি রাণী পেয়েছিলেন জিপিএ ৪ দশমিক ৫৩ এবং ছেলে মৃন্ময় কুমার কুন্ডু পায় জিপিএ ৪ দশমিক ৪৩। কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মলি বাগাতিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ড্রেস মেকিং এন্ড টেইলারিং ট্রেডের এবং ছেলে মৃন্ময় বাগাতিপাড়া মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিল্ডিং মেইনটেনেন্স ট্রেডের শিক্ষার্থী ছিলেন।

উদ্যোমী ওই নারী মলি রাণী কুন্ডুকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে আলোচনায় আসেন মলি রাণী। সেসময় মলি রাণীর সাফল্যে তৎকালীন এমপি এ্যাডভোকেট আবুল কালাম, ডিসি শাহিনা খাতুন, সদ্য প্রয়াত বইপ্রেমী পলান সরকার তার বাড়িতে ছুটে আসেন। আর তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মা ও ছেলেকে ডিসি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যাপটপ উপহার দেন। উপজেলা প্রশাসন মা দিবসে সংবর্ধনা দেয় মা মলিকে। এরপর তিনি ভর্তি হন কলেজে। কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ উদ্দিন আহম্মেদ বিনা খরচায় তার পড়ালেখার দায়িত্ব নেন।

মলি রাণী জানান, যখন তিনি নবম শ্রেণীর ছাত্রী, তখন তার বাবা বাগাতিপাড়া উপজেলার গালিমপুরের মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবব্রত কুমার মিন্টুর সাথে বিয়ে দেন। তার বাবার বাড়ি নঁওগা জেলার মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর। বাবার নাম অসিত কুন্ডু। এরপর আর পড়ালেখা করার সুযোগ হয়নি। সংসারের চাপে পিষ্ট হয়ে গৃহিনীই রয়ে যান। এরই মধ্যে দুটি সন্তানের জন্ম দেন। বড় ছেলে মৃণ্ময় কুমার কুন্ডু এবং ছোট ছেলে পাপন কুন্ডু। ছেলেদের পড়ালেখা করাতে গিয়ে তিনি অনুভব করেন তার নিজের পড়ালেখা জানা দরকার। সেই ভাবনা থেকেই স্কুলে ভর্তি হন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ছেলের সঙ্গে এসএসসি পাশ, সেই মা এবার এইচএসসি পরীক্ষার্থী

আপডেট টাইম : ০৫:২৪:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বয়সের বাধাকে উপেক্ষা করে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ছেলের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন মা মলি রাণী। ৩৭ বছর বয়সে এবার তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাগাতিপাড়া টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট কেন্দ্র্রে পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি ওই কলেজের উদ্দ্যোক্তা উন্নয়ন ট্রেডের ছাত্রী। এদিকে ছেলে মৃণ্ময় কুমার কুন্ডু মায়ের সঙ্গে এসএসসি পাশের পর নাটোর শহরে টিএমএসএস পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি হয়েছেন। তিনি বর্তমানে চতুর্থ সেমিষ্টার ফাইনাল পরীক্ষার্থী।

এর আগে ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ছেলের চেয়ে ভাল ফলাফল করে মা। মা মলি রাণী পেয়েছিলেন জিপিএ ৪ দশমিক ৫৩ এবং ছেলে মৃন্ময় কুমার কুন্ডু পায় জিপিএ ৪ দশমিক ৪৩। কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে মলি বাগাতিপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ড্রেস মেকিং এন্ড টেইলারিং ট্রেডের এবং ছেলে মৃন্ময় বাগাতিপাড়া মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বিল্ডিং মেইনটেনেন্স ট্রেডের শিক্ষার্থী ছিলেন।

উদ্যোমী ওই নারী মলি রাণী কুন্ডুকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে আলোচনায় আসেন মলি রাণী। সেসময় মলি রাণীর সাফল্যে তৎকালীন এমপি এ্যাডভোকেট আবুল কালাম, ডিসি শাহিনা খাতুন, সদ্য প্রয়াত বইপ্রেমী পলান সরকার তার বাড়িতে ছুটে আসেন। আর তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক মা ও ছেলেকে ডিসি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যাপটপ উপহার দেন। উপজেলা প্রশাসন মা দিবসে সংবর্ধনা দেয় মা মলিকে। এরপর তিনি ভর্তি হন কলেজে। কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ উদ্দিন আহম্মেদ বিনা খরচায় তার পড়ালেখার দায়িত্ব নেন।

মলি রাণী জানান, যখন তিনি নবম শ্রেণীর ছাত্রী, তখন তার বাবা বাগাতিপাড়া উপজেলার গালিমপুরের মিষ্টি ব্যবসায়ী দেবব্রত কুমার মিন্টুর সাথে বিয়ে দেন। তার বাবার বাড়ি নঁওগা জেলার মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর। বাবার নাম অসিত কুন্ডু। এরপর আর পড়ালেখা করার সুযোগ হয়নি। সংসারের চাপে পিষ্ট হয়ে গৃহিনীই রয়ে যান। এরই মধ্যে দুটি সন্তানের জন্ম দেন। বড় ছেলে মৃণ্ময় কুমার কুন্ডু এবং ছোট ছেলে পাপন কুন্ডু। ছেলেদের পড়ালেখা করাতে গিয়ে তিনি অনুভব করেন তার নিজের পড়ালেখা জানা দরকার। সেই ভাবনা থেকেই স্কুলে ভর্তি হন।