ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একুশে পদকের পর এমপি হচ্ছেন সুবর্ণা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
  • ৪৪৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৪১ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ মনোনয়ন দেয়া হয়।

পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই ৪১ জনের নাম ঘোষণা করেন। এতে জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তফার নাম রয়েছে। ফলে তিনি ঢাকা থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগের এমপি হচ্ছেন, এটা নিশ্চিত।

অভিনয় জগতে বিশেষ অবদান রাখায় সুবর্ণা মুস্তাফা এ বছরের একুশে পদকেও ভূষিত হয়েছেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তাতে ২১ বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন এই গুণী অভিনেত্রী।

প্রখ্যাত অভিনেতা গোলাম মুস্তফার মেয়ে সুবর্ণা মুস্তাফা ১৯৫৯ সালের ২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

বাংলাদেশের নাট্যজগতে সুবর্ণা মুস্তফা এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। আশির দশকে তিনি ছিলেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী। বিশেষ করে আফজাল হোসেন এবং হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে তার জুটি ব্যাপক দর্শক সমাদর লাভ করে।

তিনি হুমায়ূন আহমেদের লেখা কোথাও কেউ নেই ও আজ রবিবার টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন। টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি তিনি ২২ বছর মঞ্চে অভিনয় করেন। সুবর্ণা মঞ্চ ছাড়াও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।

১৯৮০ সালে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী পরিচালিত ঘুড্ডি সিনেমার মাধ্যমে সুবর্ণার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। তবে, তিনি নিয়মিত গড়পড়তা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। কিছু জীবন ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। মূলধারার কিছু সিনেমাতেও তার উপস্থিতি মিলেছে।

১৯৮৩ সালে নতুন বউ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সুবর্ণা শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান। তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহ হল ঘুড্ডি, নয়নের আলো, পালাবি কোথায় ও গহীন বালুচর।

দর্শকদের মাঝে রয়েছে সুবর্ণার ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা। চলচ্চিত্র বোদ্ধা এই জনপ্রিয়তার পেছনে সুবর্ণার চেহারায় বাঙালি রমনীর শাশ্বত সৌন্দর্যের স্পষ্ট মৌন রূপ এবং স্মিত যৌন আবেদন ও রহস্যময় ঘরানার সৌন্দর্য মিলে সামগ্রিক সৌন্দর্যের প্রায় ক্ল্যাসিক রূপকে সামনে এনেছেন।

ব্যক্তি জীবনে দীর্ঘদিন প্রেমের পর শক্তিমান অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদিকে বিয়ে করেন। পরে সে বিয়ের বিচ্ছেদ হলে তার চেয়ে কম বয়সী তরুণ নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদকে জীবন সঙ্গী বেছে নেন সুবর্ণা মুস্তফা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

একুশে পদকের পর এমপি হচ্ছেন সুবর্ণা

আপডেট টাইম : ০৪:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৪১ জনকে মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ মনোনয়ন দেয়া হয়।

পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই ৪১ জনের নাম ঘোষণা করেন। এতে জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তফার নাম রয়েছে। ফলে তিনি ঢাকা থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনে আওয়ামী লীগের এমপি হচ্ছেন, এটা নিশ্চিত।

অভিনয় জগতে বিশেষ অবদান রাখায় সুবর্ণা মুস্তাফা এ বছরের একুশে পদকেও ভূষিত হয়েছেন। গত ৬ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তাতে ২১ বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন এই গুণী অভিনেত্রী।

প্রখ্যাত অভিনেতা গোলাম মুস্তফার মেয়ে সুবর্ণা মুস্তাফা ১৯৫৯ সালের ২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

বাংলাদেশের নাট্যজগতে সুবর্ণা মুস্তফা এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। আশির দশকে তিনি ছিলেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী। বিশেষ করে আফজাল হোসেন এবং হুমায়ুন ফরীদির সঙ্গে তার জুটি ব্যাপক দর্শক সমাদর লাভ করে।

তিনি হুমায়ূন আহমেদের লেখা কোথাও কেউ নেই ও আজ রবিবার টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন। টেলিভিশন নাটকের পাশাপাশি তিনি ২২ বছর মঞ্চে অভিনয় করেন। সুবর্ণা মঞ্চ ছাড়াও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।

১৯৮০ সালে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী পরিচালিত ঘুড্ডি সিনেমার মাধ্যমে সুবর্ণার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। তবে, তিনি নিয়মিত গড়পড়তা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। কিছু জীবন ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। মূলধারার কিছু সিনেমাতেও তার উপস্থিতি মিলেছে।

১৯৮৩ সালে নতুন বউ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে সুবর্ণা শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান। তার অভিনীত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহ হল ঘুড্ডি, নয়নের আলো, পালাবি কোথায় ও গহীন বালুচর।

দর্শকদের মাঝে রয়েছে সুবর্ণার ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা। চলচ্চিত্র বোদ্ধা এই জনপ্রিয়তার পেছনে সুবর্ণার চেহারায় বাঙালি রমনীর শাশ্বত সৌন্দর্যের স্পষ্ট মৌন রূপ এবং স্মিত যৌন আবেদন ও রহস্যময় ঘরানার সৌন্দর্য মিলে সামগ্রিক সৌন্দর্যের প্রায় ক্ল্যাসিক রূপকে সামনে এনেছেন।

ব্যক্তি জীবনে দীর্ঘদিন প্রেমের পর শক্তিমান অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদিকে বিয়ে করেন। পরে সে বিয়ের বিচ্ছেদ হলে তার চেয়ে কম বয়সী তরুণ নির্মাতা বদরুল আনাম সৌদকে জীবন সঙ্গী বেছে নেন সুবর্ণা মুস্তফা।