ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

মাঠে মাঠে সরিষা ফুলের সেই ঘ্রাণে আন্দোলিত কৃষক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৫১:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯
  • ৩৯৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ যশোর শহরের ধর্মতলা থেকে ছুটিপুর রোড ধরে সুজলপুর এলাকা গেলেই চোখে পড়বে হলুদের গালিচায় ভরা মাঠঘাট। ফসলের খেত থেকে আকাশ পানে উঁকি মারছে হলুদ বরণ সরিষার ফুল। প্রকৃতির নির্মল বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে সরিষা ফুলের মাতাল করা ঘ্রাণ। সেই ঘ্রাণ আন্দোলিত করছে কৃষকের মনও। নয়নাভিরাম সরিষা ক্ষেতে তারা স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন।

সবজি হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি মশলা হিসেবে ব্যবহার হয় সরিষা। তবে শীতকালীন ফসল সরিষার ব্যবহার প্রধানত ভোজ্য তেল হিসেবে। গবাদি পশুর খাদ্য ও জমির সার হিসেবেও ব্যবহার হয় সরিষার খৈল। বহুবিধ ব্যবহার সুবিধার এই শস্য সরিষার আবাদে খরচ হয় নামমাত্র। আবহাওয়া ভাল থাকলে ফলনও বাম্পার হয়। বাজারে তুললে ভাল দামও পাওয়া যায়। তাই প্রতি বছরই বাড়ছে যশোরে সরিষার আবাদ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক কার্যালয় সূত্র জানায়, গত রবি মৌসুমে জেলার আটটি উপজেলায় ৯ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে ১০ হাজার ৪৩০ মেট্রিকটন সরিষা উৎপাদন হয়। চলতি রবি মৌসুমে আটটি উপজেলার ৯ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করেছের চাষিরা।

আমন ও বোরো চাষের মাঝামাঝি সময়ে জমি ফেলে না রেখে সরিষার চাষ করে লাভবান হওয়ায় যায় বলে জানিয়েছেন চাষিরা। আমন কাটার পর জমিতে কোন রকম একটু চাষ দিয়ে মই টেনে বীজ ছিটিয়ে দিলে চারা গজায়। এরপর দুই একবার সেচ নিড়ানি দিলে সরিষার ভাল ফলন পাওয়া যায়। তেমন বেশি পরিচর্যা করা লাগে না।

যশোর সদরের সুজলপুরে সরিষা ক্ষেতে কথা হয় কৃষক আসমত শেখের সাথে। তিনি জানান, নভেম্বর মাসে আমন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সরিষার বীজ বপন করেন। সরিষার গাছে ইতিমধ্যে ফল ধরেছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি তিনি ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। ফলন ভাল হওয়ার দুই বিঘা জমি থেকে ৮ থেকে ১০ মণ সরিষার ফলন পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চাঁচড়ার ভাতুড়িয়া এলাকার কৃষক আতাউর রহমান ও শামীম শেখ হরিনার বিলে পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। তারা বলেছেন, সরিষার আবাদ বেশ লাভজনক। কারণ চাষাবাদ খরচ কম। তাছাড়া আবহাওয়া ভাল থাকলে রোগ বালাইও খুব বেশি হয় না। এবছর এখনও ঘন কুয়াশা পড়েনি। যে কারণে রোগ বালাইও তেমন হয়নি। আমন ফসল কাটার পর পরই আমরা সরিষা বুনেছি। এজন্য গাছে ফলও ধরেছে। ফলে প্রচুর ঠাণ্ডা ও শৈত্য প্রবাহের জন্য ঘন কুয়াশা পড়ে নষ্ট হওয়ারও আশংকা নেই। গত কয়েক বছর ধরে আমন ও বোরোর মধ্যবর্তী সময়ে যখন ফসলের মাঠ খালি থাকছে তখন সরিষা বুনে দিচ্ছি। বোনাস ফসল হিসেবে সরিষা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

মাঠে মাঠে সরিষা ফুলের সেই ঘ্রাণে আন্দোলিত কৃষক

আপডেট টাইম : ১১:৫১:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ যশোর শহরের ধর্মতলা থেকে ছুটিপুর রোড ধরে সুজলপুর এলাকা গেলেই চোখে পড়বে হলুদের গালিচায় ভরা মাঠঘাট। ফসলের খেত থেকে আকাশ পানে উঁকি মারছে হলুদ বরণ সরিষার ফুল। প্রকৃতির নির্মল বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে সরিষা ফুলের মাতাল করা ঘ্রাণ। সেই ঘ্রাণ আন্দোলিত করছে কৃষকের মনও। নয়নাভিরাম সরিষা ক্ষেতে তারা স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন।

সবজি হিসেবে খাওয়ার পাশাপাশি মশলা হিসেবে ব্যবহার হয় সরিষা। তবে শীতকালীন ফসল সরিষার ব্যবহার প্রধানত ভোজ্য তেল হিসেবে। গবাদি পশুর খাদ্য ও জমির সার হিসেবেও ব্যবহার হয় সরিষার খৈল। বহুবিধ ব্যবহার সুবিধার এই শস্য সরিষার আবাদে খরচ হয় নামমাত্র। আবহাওয়া ভাল থাকলে ফলনও বাম্পার হয়। বাজারে তুললে ভাল দামও পাওয়া যায়। তাই প্রতি বছরই বাড়ছে যশোরে সরিষার আবাদ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক কার্যালয় সূত্র জানায়, গত রবি মৌসুমে জেলার আটটি উপজেলায় ৯ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে ১০ হাজার ৪৩০ মেট্রিকটন সরিষা উৎপাদন হয়। চলতি রবি মৌসুমে আটটি উপজেলার ৯ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করেছের চাষিরা।

আমন ও বোরো চাষের মাঝামাঝি সময়ে জমি ফেলে না রেখে সরিষার চাষ করে লাভবান হওয়ায় যায় বলে জানিয়েছেন চাষিরা। আমন কাটার পর জমিতে কোন রকম একটু চাষ দিয়ে মই টেনে বীজ ছিটিয়ে দিলে চারা গজায়। এরপর দুই একবার সেচ নিড়ানি দিলে সরিষার ভাল ফলন পাওয়া যায়। তেমন বেশি পরিচর্যা করা লাগে না।

যশোর সদরের সুজলপুরে সরিষা ক্ষেতে কথা হয় কৃষক আসমত শেখের সাথে। তিনি জানান, নভেম্বর মাসে আমন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সরিষার বীজ বপন করেন। সরিষার গাছে ইতিমধ্যে ফল ধরেছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি তিনি ফসল ঘরে তুলতে পারবেন। ফলন ভাল হওয়ার দুই বিঘা জমি থেকে ৮ থেকে ১০ মণ সরিষার ফলন পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চাঁচড়ার ভাতুড়িয়া এলাকার কৃষক আতাউর রহমান ও শামীম শেখ হরিনার বিলে পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। তারা বলেছেন, সরিষার আবাদ বেশ লাভজনক। কারণ চাষাবাদ খরচ কম। তাছাড়া আবহাওয়া ভাল থাকলে রোগ বালাইও খুব বেশি হয় না। এবছর এখনও ঘন কুয়াশা পড়েনি। যে কারণে রোগ বালাইও তেমন হয়নি। আমন ফসল কাটার পর পরই আমরা সরিষা বুনেছি। এজন্য গাছে ফলও ধরেছে। ফলে প্রচুর ঠাণ্ডা ও শৈত্য প্রবাহের জন্য ঘন কুয়াশা পড়ে নষ্ট হওয়ারও আশংকা নেই। গত কয়েক বছর ধরে আমন ও বোরোর মধ্যবর্তী সময়ে যখন ফসলের মাঠ খালি থাকছে তখন সরিষা বুনে দিচ্ছি। বোনাস ফসল হিসেবে সরিষা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছি।