ঢাকা ০৬:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শপথ ও জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রাখুন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:০৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জানুয়ারী ২০১৯
  • ৪২১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। আজ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গাইবান্ধায় প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থী মারা যাওয়ায় ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট এবং অন্যান্য দল মিলে ১০টি আসনও লাভ করতে পারেনি। অর্থাৎ বাকি সব আসনে ক্ষমতাসীনদের জয় হয়েছে। এক কথায় বিপুল জয় বা ভূমিধস জয়। সেই জয়ীরাই আজ শপথ নিচ্ছেন।

এবার জয়ী হওয়ায় টানা তিনবার ক্ষমতাসীন হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা। এর ফলে একটি সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, এই দল ও জোটের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। এবার ৮০ ভাগ ভোট পড়েছে। এই ৮০ ভাগ ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা মিলে আবার ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অর্থাৎ একচেটিয়া দেশ শাসনের অধিকার লাভ করেছে দলটি।

এর ফলে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের ওপর দলীয় ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বেড়ে গেল অনেক বেশি। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় এ ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাংলাদেশে এই প্রথম। ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে জনগণ এর আগে এত বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখেনি। ফলে দেশ শাসনে সরকারকে অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতি অর্থাৎ জনরায়ের প্রতি আরো বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে নতুন সরকারকে।

সংসদে সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করার রীতি বেশ পুরনো। তবে কার্যকরী বিরোধী দল না থাকায় মন্দ কাজের যেন গঠনমূলক সমালোচনা হয়, সে ব্যাপারেও সরকারি দলকে সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সময় থেকে লড়াই-সংগ্রামে যুক্ত অনেক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতাও এবারের নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তারা নিশ্চয়ই এবার তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে আগের চেয়ে আরো বেশি দায়িত্বশীল ও জনসম্পৃক্ত করে দেশ পরিচালনায় প্রজ্ঞার স্বাক্ষর রাখবেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রে শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্র ভূমি জাতীয় সংসদ। সার্বভৌম সংসদের জীবনীশক্তি নিহিত থাকে আইনপ্রণেতাদের হাতে। এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য যে পবিত্র শপথ তারা আজ নিচ্ছেন, তা যেন সংসদের শেষ দিনটি পর্যন্ত অক্ষুণ থাকে; নিশ্চয়ই তা প্রত্যাশা করে দেশবাসী। একই সঙ্গে সরকারকেও আরো বেশি দায়িত্বশীল হয়ে দেশ পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শপথ ও জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রাখুন

আপডেট টাইম : ০৪:০৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জানুয়ারী ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। আজ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গাইবান্ধায় প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থী মারা যাওয়ায় ২৯৯ আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট এবং অন্যান্য দল মিলে ১০টি আসনও লাভ করতে পারেনি। অর্থাৎ বাকি সব আসনে ক্ষমতাসীনদের জয় হয়েছে। এক কথায় বিপুল জয় বা ভূমিধস জয়। সেই জয়ীরাই আজ শপথ নিচ্ছেন।

এবার জয়ী হওয়ায় টানা তিনবার ক্ষমতাসীন হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা। এর ফলে একটি সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, এই দল ও জোটের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। এবার ৮০ ভাগ ভোট পড়েছে। এই ৮০ ভাগ ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা মিলে আবার ৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অর্থাৎ একচেটিয়া দেশ শাসনের অধিকার লাভ করেছে দলটি।

এর ফলে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের ওপর দলীয় ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বেড়ে গেল অনেক বেশি। সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় এ ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাংলাদেশে এই প্রথম। ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে জনগণ এর আগে এত বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দেখেনি। ফলে দেশ শাসনে সরকারকে অনেক বেশি সতর্ক হতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রতি অর্থাৎ জনরায়ের প্রতি আরো বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে নতুন সরকারকে।

সংসদে সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করার রীতি বেশ পুরনো। তবে কার্যকরী বিরোধী দল না থাকায় মন্দ কাজের যেন গঠনমূলক সমালোচনা হয়, সে ব্যাপারেও সরকারি দলকে সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সময় থেকে লড়াই-সংগ্রামে যুক্ত অনেক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতাও এবারের নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তারা নিশ্চয়ই এবার তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে আগের চেয়ে আরো বেশি দায়িত্বশীল ও জনসম্পৃক্ত করে দেশ পরিচালনায় প্রজ্ঞার স্বাক্ষর রাখবেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রে শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্র ভূমি জাতীয় সংসদ। সার্বভৌম সংসদের জীবনীশক্তি নিহিত থাকে আইনপ্রণেতাদের হাতে। এই গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য যে পবিত্র শপথ তারা আজ নিচ্ছেন, তা যেন সংসদের শেষ দিনটি পর্যন্ত অক্ষুণ থাকে; নিশ্চয়ই তা প্রত্যাশা করে দেশবাসী। একই সঙ্গে সরকারকেও আরো বেশি দায়িত্বশীল হয়ে দেশ পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।