ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশী তদন্তে ত্রুটির কারণে আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০১৫
  • ৪৬৮ বার

রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, কিছু পুলিশের তদন্তে ত্রুটির কারণেই আসামিরা জামিন বা খালাস পেয়ে যাচ্ছে। যশোরের উদীচী ট্রাজেডি মামলাতেও ত্রুটি ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এভিডেন্স কালেকশনে সজাগ থাকলে দাগি অপরাধীরা জামিন পেতে পারবে না।’ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতি পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। যশোর জেলা জজশিপ আয়োজিত বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যশোর সার্কিট হাউজে শুরু হওয়া এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা ও দায়রা জজ ইসরাইল হোসেন। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলদার হোসেন, যশোর জেলা জজশিপের বিচারকবৃন্দ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি দেবাশীষ রায়, যশোরের পিপি রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায়, থানায় কেস এন্ট্রি করতে অসহযোগিতা করা হয়। কোর্টে প্রতিদিন প্রচুর পরিমান কেস ফাইল করা হয়। থানায় ঠিকমতো কেস ফাইল করা হলে কোর্টের ওপর চাপ কিছুটা কমানো যায়। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্যও তিনি পুলিশ সুপারকে বলেন। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের ত্রুটি সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি বলেন, ডাক্তাররা লাশঘরে যান না। আমি নিজে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি, ডোম এসে যা বলেন, ডাক্তাররা তাই রিপোর্ট করেন। তাছাড়া নির্দিষ্ট ফরমে হিজিবিজি করে রিপোর্ট লেখা হয়, যা বিচারকদের পক্ষে বোঝা কঠিন। টাইপ করা সম্ভব না হলে অন্তত বড়হাতের অক্ষরে যেন রিপোর্ট লেখা হয়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন তিনি। বিচারকাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, আপনাদের স্বাক্ষীরা কোর্টে আসেন না। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন। প্রধান বিচারপতি বলেন যশোর-সাতক্ষীরা সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, সোনা পাচারের ঘটনা বেশি হয়। কিন্তু সিজার লিস্টে ত্রুটি থাকার কারণে আসামিরা জামিন পেয়ে যান। তিনি বলেন, চোরাচালান আমাদের দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই চোরাকারবারীদের কারণে আমাদের অর্থনীতি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

পুলিশী তদন্তে ত্রুটির কারণে আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে

আপডেট টাইম : ১১:২৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০১৫

রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, কিছু পুলিশের তদন্তে ত্রুটির কারণেই আসামিরা জামিন বা খালাস পেয়ে যাচ্ছে। যশোরের উদীচী ট্রাজেডি মামলাতেও ত্রুটি ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এভিডেন্স কালেকশনে সজাগ থাকলে দাগি অপরাধীরা জামিন পেতে পারবে না।’ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতি পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। যশোর জেলা জজশিপ আয়োজিত বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যশোর সার্কিট হাউজে শুরু হওয়া এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা ও দায়রা জজ ইসরাইল হোসেন। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলদার হোসেন, যশোর জেলা জজশিপের বিচারকবৃন্দ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি দেবাশীষ রায়, যশোরের পিপি রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায়, থানায় কেস এন্ট্রি করতে অসহযোগিতা করা হয়। কোর্টে প্রতিদিন প্রচুর পরিমান কেস ফাইল করা হয়। থানায় ঠিকমতো কেস ফাইল করা হলে কোর্টের ওপর চাপ কিছুটা কমানো যায়। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার জন্যও তিনি পুলিশ সুপারকে বলেন। পোস্টমর্টেম রিপোর্টের ত্রুটি সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি বলেন, ডাক্তাররা লাশঘরে যান না। আমি নিজে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি, ডোম এসে যা বলেন, ডাক্তাররা তাই রিপোর্ট করেন। তাছাড়া নির্দিষ্ট ফরমে হিজিবিজি করে রিপোর্ট লেখা হয়, যা বিচারকদের পক্ষে বোঝা কঠিন। টাইপ করা সম্ভব না হলে অন্তত বড়হাতের অক্ষরে যেন রিপোর্ট লেখা হয়, সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন তিনি। বিচারকাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, আপনাদের স্বাক্ষীরা কোর্টে আসেন না। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন। প্রধান বিচারপতি বলেন যশোর-সাতক্ষীরা সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, সোনা পাচারের ঘটনা বেশি হয়। কিন্তু সিজার লিস্টে ত্রুটি থাকার কারণে আসামিরা জামিন পেয়ে যান। তিনি বলেন, চোরাচালান আমাদের দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাই চোরাকারবারীদের কারণে আমাদের অর্থনীতি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।