হাওর বার্তা ডেস্কঃ আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির সহায়তা চেয়ে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদকে চিঠি দেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
সূত্রে জানা গেছে, দু-একদিনের মধ্যেই গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন রাষ্ট্রপতির কাছে এ চিঠি দিচ্ছেন। চিঠিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও ক্ষমতাসীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অসন্তোষের কথা জানানো হবে। আসন্ন নির্বাচনের বর্তমান পরিবেশ সব দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে’র উপযোগী নয় বলেও জানাবে নির্বাচনী এই জোট। এই জোটটি।
সংবিধান অনুযায়ী, দেশের অভিভাবক রাষ্ট্রপতিকে এ ব্যাপারে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাবে এ জোটটি।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওই সূত্র জানিয়েছে, ঐক্যফ্রন্টের চিঠির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ কে বলা হবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই দফায় সংলাপ করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ৭ দফার কোনো দাবি পূরণ না হওয়া সত্ত্বেও ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানি বন্ধের আশ্বাস দেওয়ার পরও তা বন্ধ হয়নি। সারা দেশে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নতুন করে শত শত মামলা হয়েছে। গ্রেফতার ও হয়রানি চলছেই।
চিঠিতে মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্ট অভিযোগ করবে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কার্যত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব দলের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির কোনো উদ্যোগ নেই। গত ৮ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ইসির অধীনে ন্যস্ত হলেও গায়েবি মামলা অব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। অতীতে তফসিল ঘোষণার পর মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করলেও বর্তমান ইসি বিরোধী জোটের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেও নীরবতা পালন করছে।
সংবিধানের ১১৮(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকবে এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীনে হবে। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে বলে মনে হয় না। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী গত রবিবার গণমাধ্যমকে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ দৃশ্যমান হচ্ছে না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন অর্পিত দায়িত্ব পালন করছে বলে মনে হচ্ছে না। সংবিধানে ১২৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য। তবে সংবিধানের এ অর্পিত দায়িত্ব পালনে ইসি নিষ্ফ্ক্রিয় বলে মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি।
উল্লেখ্য, রবিবার (১৮ নভেম্বর) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রথম দিনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি। কমিশন নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ করছে। নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি হয়নি। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার এখনও সরকারের উন্নয়নের খবর বারবার প্রচার করছে, তারা কোনো নিরপেক্ষতা বজায় রাখছে না। বিরোধী দলের সংবাদ প্রচার করা হয় না। বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতারও বন্ধ হয়নি। এসব সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।
Reporter Name 
























