ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক বগুড়াকে আধুনিক শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী আগামী বৈশাখ থেকে প্রতি জেলায় হবে গ্রামীণ খেলাধুলা : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জুন মাসের মধ্যে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর স্বৈরাচারের ভূত আছর করেছে : প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে শিগগিরই শুরু হবে বিশেষ অভিযান : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশাখী সাজে শোবিজ তারকারা জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বিএনপি বাস্তবায়ন করবে: প্রধানমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ‘লাল কাপড়ের মোড়ানো খাতা’ কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি: তথ্যমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এ বছর হচ্ছে না

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮
  • ৩৪২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের নেয়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আগামী নির্বাচন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের পরে এ ব্যাপারে নতুন পদক্ষেপ নেয়া হবে।

গতকাল (১৮ নভেম্বর) বাংলাদেশের শরণার্থী প্রত্যাবাসনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবুল কালাম ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

শরণার্থীবিষয়ক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেছেন, শরণার্থীদের প্রধান দাবি অনুযায়ী প্রত্যাবাসনের জন্য “নতুন ধরনের পদক্ষেপ” নেয়া প্রয়োজন।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে ৭ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে। রাখাইনে নিরাপত্তাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর ওই অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বলছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং বেসামরিক বৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদের হত্যা, বাড়িঘরে আগুন ও গণধর্ষণ করছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত দল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের উদ্দেশে এই অভিযান পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করেছে।

তবে মিয়ানমার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী। গত অক্টোবরের শেষের দিকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরানোর মতো নিরাপদ পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি দাবি করে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাসহ দাতা সংস্থাগুলো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম দফায় গত ১৫ নভেম্বর থেকে ২ হাজার ২০০ রোহিঙ্গাকে রোহিঙ্গাকে রাখাইনে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়। প্রথম ধাপের তৈরি তালিকার রোহিঙ্গারা ন্যায়বিচার, নাগরিকত্ব, নিজ গ্রামে ফেরা ও জমির মালিকানা ফিরে পাওয়ার প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত রাখাইনে ফিরবে না বলে দাবি জানায়।

রোহিঙ্গাদের যৌক্তিক এবং বাস্তবসম্মত দাবি মেনে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করতে গত সপ্তাহে মিয়ানমারের প্রতি চাপপ্রয়োগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন আবুল কালাম। তিনি বলেন, এসব ছাড়া কেউ রাখাইনে ফিরতে রাজি হবে বলে আমার মনে হয় না।

মিয়ানমারের অনেক মানুষ রোহিঙ্গাদের বাঙালি বলে ডাকে। এমনকি তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে সেদেশে পাড়ি জমানো অবৈধ অভিবাসী হিসেবেও মনে করে।

আবুল কালাম বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বা জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবির থেকে নোয়াখালীর ভাসান চরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নতুন বছর না আসা পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। তিনি বলেন, নির্বাচন আসন্ন, তাই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচনের পরে নেয়া হবে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইনে দেশটির রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। রক্তাক্ত ওই অভিযানের মুখে প্রায় সাত লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত সেবা পৌঁছে দিতে হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এ বছর হচ্ছে না

আপডেট টাইম : ০৯:৫৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের নেয়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আগামী নির্বাচন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবেলায় আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের পরে এ ব্যাপারে নতুন পদক্ষেপ নেয়া হবে।

গতকাল (১৮ নভেম্বর) বাংলাদেশের শরণার্থী প্রত্যাবাসনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবুল কালাম ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

শরণার্থীবিষয়ক ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেছেন, শরণার্থীদের প্রধান দাবি অনুযায়ী প্রত্যাবাসনের জন্য “নতুন ধরনের পদক্ষেপ” নেয়া প্রয়োজন।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে ৭ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়েছে। রাখাইনে নিরাপত্তাবাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর ওই অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বলছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং বেসামরিক বৌদ্ধরা রোহিঙ্গাদের হত্যা, বাড়িঘরে আগুন ও গণধর্ষণ করছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত দল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের উদ্দেশে এই অভিযান পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করেছে।

তবে মিয়ানমার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির নিরাপত্তাবাহিনী। গত অক্টোবরের শেষের দিকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। কিন্তু মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরানোর মতো নিরাপদ পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি দাবি করে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাসহ দাতা সংস্থাগুলো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম দফায় গত ১৫ নভেম্বর থেকে ২ হাজার ২০০ রোহিঙ্গাকে রোহিঙ্গাকে রাখাইনে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা ছিল। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়। প্রথম ধাপের তৈরি তালিকার রোহিঙ্গারা ন্যায়বিচার, নাগরিকত্ব, নিজ গ্রামে ফেরা ও জমির মালিকানা ফিরে পাওয়ার প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত রাখাইনে ফিরবে না বলে দাবি জানায়।

রোহিঙ্গাদের যৌক্তিক এবং বাস্তবসম্মত দাবি মেনে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করতে গত সপ্তাহে মিয়ানমারের প্রতি চাপপ্রয়োগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন আবুল কালাম। তিনি বলেন, এসব ছাড়া কেউ রাখাইনে ফিরতে রাজি হবে বলে আমার মনে হয় না।

মিয়ানমারের অনেক মানুষ রোহিঙ্গাদের বাঙালি বলে ডাকে। এমনকি তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে সেদেশে পাড়ি জমানো অবৈধ অভিবাসী হিসেবেও মনে করে।

আবুল কালাম বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বা জনাকীর্ণ শরণার্থী শিবির থেকে নোয়াখালীর ভাসান চরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নতুন বছর না আসা পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। তিনি বলেন, নির্বাচন আসন্ন, তাই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচনের পরে নেয়া হবে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের রাখাইনে দেশটির রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। রক্তাক্ত ওই অভিযানের মুখে প্রায় সাত লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।