ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দলীয়ভাবে হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৫
  • ৩৯৪ বার

স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হচ্ছে বলে বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার বেশ আগে থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে করার চিন্তা-ভাবনা করছে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল থেকে এর পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ এবং মন্ত্রীসভার বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী সোমবার (১২ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে যাচ্ছে সরকার। এ আইন কার্যকর হলে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো আগামীতে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনয়ন এবং দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আগামী সোমবার এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হবে। যেহেতু সংসদের অধিবেশন নেই তাই অধ্যাদেশ জারি করা হচ্ছে। এরপর সংসদ অধিবেশনে আইন পাস করা হবে। আগামী পৌরসভা নির্বাচনসহ সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন থেকে দলীয়ভাবে হবে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার পক্ষে মত নিয়েছেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের একজন করে প্রার্থী ঠিক করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করা হবে বলেও তিনি জানান।

মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার বিষয়টি আলোচনায় এনেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। গত বছর উপজেলা নির্বাচনের সময় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে বিশেষ করে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এই নির্বাচন নির্দলীয় হলেও দলীয়ভাবেই বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ নির্বাচনকে দলীয়ভাবে করার জন্য অচিরেই আইনের সংশোধনী আনা হবে। বিগত মহাজোট সরকারের সময়ও তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবেই হয়। আমাদের এখানেও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টি দলীয় ফোরামেও আলোচনা হয়েছে। আইন হলে আমরা দলীয়ভাবেই করার প্রস্তুতি নেবো।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিষয়টি আলোচনায় আছে। কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় আলোচনা হয়েছে। এজন্য আইনের সংশোধনীর প্রয়োজন আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

দলীয়ভাবে হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

আপডেট টাইম : ১১:৪২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৫

স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে।

চলতি সপ্তাহেই এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হচ্ছে বলে বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার বেশ আগে থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে করার চিন্তা-ভাবনা করছে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল থেকে এর পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ এবং মন্ত্রীসভার বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী সোমবার (১২ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে যাচ্ছে সরকার। এ আইন কার্যকর হলে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো আগামীতে সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনয়ন এবং দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আগামী সোমবার এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হবে। যেহেতু সংসদের অধিবেশন নেই তাই অধ্যাদেশ জারি করা হচ্ছে। এরপর সংসদ অধিবেশনে আইন পাস করা হবে। আগামী পৌরসভা নির্বাচনসহ সকল স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন থেকে দলীয়ভাবে হবে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার পক্ষে মত নিয়েছেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের একজন করে প্রার্থী ঠিক করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করা হবে বলেও তিনি জানান।

মন্ত্রিসভার বৈঠকেও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার বিষয়টি আলোচনায় এনেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। গত বছর উপজেলা নির্বাচনের সময় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে বিশেষ করে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এই নির্বাচন নির্দলীয় হলেও দলীয়ভাবেই বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ নির্বাচনকে দলীয়ভাবে করার জন্য অচিরেই আইনের সংশোধনী আনা হবে। বিগত মহাজোট সরকারের সময়ও তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবেই হয়। আমাদের এখানেও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টি দলীয় ফোরামেও আলোচনা হয়েছে। আইন হলে আমরা দলীয়ভাবেই করার প্রস্তুতি নেবো।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিষয়টি আলোচনায় আছে। কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় আলোচনা হয়েছে। এজন্য আইনের সংশোধনীর প্রয়োজন আছে।