ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
‘পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত’ লড়াইয়ের ঘোষণা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করে: রাষ্ট্রপতি ২৩ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৩৪৫০২ কোটি টাকা স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাস সংরক্ষণ করা জরুরি : সংস্কৃতি মন্ত্রী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ সরকারের সৎ মায়ের নির্যাতন, মা’র কবরের পাশে শিশুর কান্না ভাইরাল নতুন সিদ্ধান্ত, ১০ শনিবার খোলা থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন ৫ দিনের রিমান্ডে ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে প্রায় ১১ ঘণ্টা অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী ৭ দিনের অভিযান আসাদগেট-শ্যামলীতে সব ক্লিনিক পরিদর্শন, অনিয়মে ছাড় নয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ধর্মের আলোয় বর্ষবরণ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮
  • ৪৪৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ শহুরে সংস্কৃতিসেবীদের পহেলা বৈশাখ উদযাপন এবং এর অনুষ্ঠানের ধরন নিয়ে মুখোমুখি হই ক’জন সমাজ সচেতন আলেমের। প্রথমেই চট্টগ্রাম ফয়’স লেক লেকভিউ জামে মসজিদের খতিব ও বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মাওলানা নুরুল আমিন মাহদীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, বাংলা নববর্ষের উৎপত্তি ও ইসলামে বর্ষ গণনার গুরুত্ব সম্পর্কে?

যা কিনা ৯৬৩ হিজরি [১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ] ছিল। আর খ্রিস্টীয় সন এ দেশে আগমন করে ১৭৫৭-এর পলাশী ট্র্যাজেডির পর।

মুঘল বাদশারা রাজকাজ ও ইতিহাস-নথিপত্রে হিজরি সনের ব্যবহার করতেন। চান্দ্র বছর সর্বোচ্চ ৩৫৪ দিনে পূর্ণ হয়, কিন্তু সৌর বছর পূর্ণ হয় ৩৬৫ দিনে। বছরে প্রায় ১১ দিনের ব্যবধান হওয়ায় হিজরি সন আবর্তিত হয় এবং ৩৩ বছরের মাথায় সৌর বছরের তুলনায় ১ বছর বৃদ্ধি পায়।

তখনকার সময় কৃষিজাত পণ্য রাজস্বের প্রধান উৎস ছিল। ফসল উৎপাদনের ঋতু অনুযায়ী কৃষকের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতে হলে সারা দেশে একটি অভিন্ন সৌর বছর আবশ্যক হয়। এ ধারণা থেকে বাদশা আকবর একটি ‘ফসলি হিজরি’ প্রবর্তন করেন।

পবত্রি কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আমি রাত্রি ও দিনকে করেছি দুটি নিদর্শন। রাত্রির নিদর্শনকে অপসারিত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে আলোকপ্রদ করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা বর্ষ সংখ্যা ও হিসাব স্থির করতে পার। [সূরা বনী ইসরাঈল-১২]

পহেলা বৈশাখের প্রচলিত অনুষ্ঠানগুলো কতটুকু যুক্তিযুক্ত জানতে চেয়েছিলাম ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা শরীফ মুহাম্মদের কাছে। তিনি বললেন, স্বীকার করতেই হবে, বাংলা সন আরবি হিজরি সনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেই তৈরি করা হয়েছিল।

বাংলা সনের ‘সন’ শব্দটা আরবি। পহেলা বৈশাখের ‘পহেলা’ শব্দটাও ফার্সি। ‘হালখাতা’ও মুসলমানি শব্দ! সুতরাং জন্তুজানোয়ারের মুখোশ নিয়ে রাস্তাঘাটে যতই মিছিল হোক, পহেলা বৈশাখের আবেদন কিন্তু অন্যখানে! এবং তা এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

শহুরে পহেলা বৈশাখ পালনের উন্মাতাল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আশা-আকাক্সক্ষা ও ধ্যান-ধারণার মিল আছে কি?

প্রতি বছর চৈত্রের শেষে দেশজুড়ে যে প্রচণ্ড খরা দেখা দেয় কৃষকের জীবন, চাষী-মজুরের ফসল তোলার এ সময় যারা জীবনের ত্রাহী অবস্থায়- ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে ছায়া দেরে তুই’- বলে মোনাজাত করে, সে দেশের রাজধানীতে বটগাছের ছায়ায় বসে- ‘এসো হে বৈশাখ’ বলে উৎসব করা বৃহত্তর জনজীবনে এর প্রতিফলন ফুটে ওঠে না।

জাতীয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি, জাগ্রত কবি মুহিব খানের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, একজন মুসলমান কীভাবে এ দিনটি উদযাপন করতে পারেন? মুহিব খান বলেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপনে বাচ্চারা স্বাভাবিক সাজে সাজুক।

ঘুরে বেড়াক, ঘরে ঘরে ভালো রান্না হোক। উপহার সামগ্রীর আদান-প্রদান হোক। দেশীয় সংস্কৃতির অনুষ্ঠান হোক। মেয়েরা হাতে মেহেদি পরতে চায় পরুক। তবে মুখোশ, প্রতিমা, ঢোল-বাদ্য বাজানো ইসলামের চেতনার পরিপন্থী। সরাসরি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আচরণকে বাঙালি সংস্কৃতির নামে পালন করা শোভন নয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পূর্ণাঙ্গ বিজয় না আসা পর্যন্ত’ লড়াইয়ের ঘোষণা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর

ধর্মের আলোয় বর্ষবরণ

আপডেট টাইম : ১২:১৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ শহুরে সংস্কৃতিসেবীদের পহেলা বৈশাখ উদযাপন এবং এর অনুষ্ঠানের ধরন নিয়ে মুখোমুখি হই ক’জন সমাজ সচেতন আলেমের। প্রথমেই চট্টগ্রাম ফয়’স লেক লেকভিউ জামে মসজিদের খতিব ও বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মাওলানা নুরুল আমিন মাহদীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, বাংলা নববর্ষের উৎপত্তি ও ইসলামে বর্ষ গণনার গুরুত্ব সম্পর্কে?

যা কিনা ৯৬৩ হিজরি [১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ] ছিল। আর খ্রিস্টীয় সন এ দেশে আগমন করে ১৭৫৭-এর পলাশী ট্র্যাজেডির পর।

মুঘল বাদশারা রাজকাজ ও ইতিহাস-নথিপত্রে হিজরি সনের ব্যবহার করতেন। চান্দ্র বছর সর্বোচ্চ ৩৫৪ দিনে পূর্ণ হয়, কিন্তু সৌর বছর পূর্ণ হয় ৩৬৫ দিনে। বছরে প্রায় ১১ দিনের ব্যবধান হওয়ায় হিজরি সন আবর্তিত হয় এবং ৩৩ বছরের মাথায় সৌর বছরের তুলনায় ১ বছর বৃদ্ধি পায়।

তখনকার সময় কৃষিজাত পণ্য রাজস্বের প্রধান উৎস ছিল। ফসল উৎপাদনের ঋতু অনুযায়ী কৃষকের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় করতে হলে সারা দেশে একটি অভিন্ন সৌর বছর আবশ্যক হয়। এ ধারণা থেকে বাদশা আকবর একটি ‘ফসলি হিজরি’ প্রবর্তন করেন।

পবত্রি কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আমি রাত্রি ও দিনকে করেছি দুটি নিদর্শন। রাত্রির নিদর্শনকে অপসারিত করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে আলোকপ্রদ করেছি, যাতে তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা বর্ষ সংখ্যা ও হিসাব স্থির করতে পার। [সূরা বনী ইসরাঈল-১২]

পহেলা বৈশাখের প্রচলিত অনুষ্ঠানগুলো কতটুকু যুক্তিযুক্ত জানতে চেয়েছিলাম ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা শরীফ মুহাম্মদের কাছে। তিনি বললেন, স্বীকার করতেই হবে, বাংলা সন আরবি হিজরি সনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেই তৈরি করা হয়েছিল।

বাংলা সনের ‘সন’ শব্দটা আরবি। পহেলা বৈশাখের ‘পহেলা’ শব্দটাও ফার্সি। ‘হালখাতা’ও মুসলমানি শব্দ! সুতরাং জন্তুজানোয়ারের মুখোশ নিয়ে রাস্তাঘাটে যতই মিছিল হোক, পহেলা বৈশাখের আবেদন কিন্তু অন্যখানে! এবং তা এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

শহুরে পহেলা বৈশাখ পালনের উন্মাতাল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আশা-আকাক্সক্ষা ও ধ্যান-ধারণার মিল আছে কি?

প্রতি বছর চৈত্রের শেষে দেশজুড়ে যে প্রচণ্ড খরা দেখা দেয় কৃষকের জীবন, চাষী-মজুরের ফসল তোলার এ সময় যারা জীবনের ত্রাহী অবস্থায়- ‘আল্লাহ মেঘ দে পানি দে ছায়া দেরে তুই’- বলে মোনাজাত করে, সে দেশের রাজধানীতে বটগাছের ছায়ায় বসে- ‘এসো হে বৈশাখ’ বলে উৎসব করা বৃহত্তর জনজীবনে এর প্রতিফলন ফুটে ওঠে না।

জাতীয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি, জাগ্রত কবি মুহিব খানের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, একজন মুসলমান কীভাবে এ দিনটি উদযাপন করতে পারেন? মুহিব খান বলেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপনে বাচ্চারা স্বাভাবিক সাজে সাজুক।

ঘুরে বেড়াক, ঘরে ঘরে ভালো রান্না হোক। উপহার সামগ্রীর আদান-প্রদান হোক। দেশীয় সংস্কৃতির অনুষ্ঠান হোক। মেয়েরা হাতে মেহেদি পরতে চায় পরুক। তবে মুখোশ, প্রতিমা, ঢোল-বাদ্য বাজানো ইসলামের চেতনার পরিপন্থী। সরাসরি ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আচরণকে বাঙালি সংস্কৃতির নামে পালন করা শোভন নয়।