ঢাকা ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় আগ্রহী হয়ে তুলা চাষে নেমেছে চাষিরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৩৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মার্চ ২০১৮
  • ৪৬৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জেলায় এ বছরও বেড়েছে হাইব্রিড জাতের তুলা চাষ। ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় আগ্রহী হয়ে তুলা চাষে নেমেছে চাষিরা। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর আড়াই শ’ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করেছেন চাষিরা।

তুলা উন্নয়ন অফিসের হিসেব মতে গত বছর তুলা চাষ হয়েছিল ৩ হাজার হেক্টর জমিতে। তার আগের বছর হয়েছিল ২ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে। এবার জেলায় তুলা চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড়গুণ বেশি।

গাংনী উপজেলার ধানখোলা গ্রামের তুলাচাষি আমজাদ হোসেন জানান, প্রতি বছর সে ২ বিঘা জমিতে তুলার চাষ করে। এবারো চাষ করেছেন। তিনি জানান, হাইব্রিট জাতের তুলাতে রোগ-বালাই কম। ফলন বেশি এবং উৎপাদন খরচও অনেক কম।

একই গ্রামের চাষি মহিবুল ইসলামের ৩ বিঘা, মারজুল হোসেনের ৩ বিঘা, জিয়ারুল ইসলামের ৪ বিঘা, আব্দুল খালেকের ৪ বিঘা, সামাদ আলীর আড়াই বিঘা, শহিদুল ইসলামের ৪ বিঘা জমিতে তুলার চাষ করা হয়েছে।

এসব তুলা চাষিরা জানিয়েছেন, বিঘাপ্রতি তুলার ফলন পাওয়া যাচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ মণ। তবে গত বছর আরো ভালো ফলন পাওয়া গিয়েছিল। এ বছরে প্রচণ্ড শীত ও মাঝে মধ্যে শৈত্যপ্রবাহের কারণে তুলার বলের আকার অনেকটাই ছোট হয়েছে। তারপরেও বিঘাপ্রতি ১৫/১৬ মণ ফলন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাংনীর ধানখোলা ইউনিয়নের সানঘাট গ্রামের তুলা চাষি শান্ত বলেন, এ বছর আমার ৪ বিঘা জমিতে তুলা রয়েছে। বেশি ফলন হওয়ায় এলাকার চাষিরা রূপালি-১ উন্নত জাতের তুলা চাষ করেছে। প্রতি গাছই থেকে তুলার বল ফেটে গেছে। এখন তুলা সংগ্রহ করছেন। তিনি আরো জানান, এক বিঘা জমিতে তুলা চাষ করতে খরচ হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। আর তুলা বিক্রি করে পাওয়া যায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।

তুলাচাষিদের অভিযোগ, তুলার উৎপাদন ভালো হয়েছে, কিন্তু বীজের দাম আর একটু কমিয়ে তুলার দাম যদি বাড়ানো হতো তাহলে অনেকে তুলা চাষ করতে আগ্রহী হতো।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়া অঞ্চল প্রধান সেন দেবাশীষ জানান, জেলায় উন্নত জাতের রূপালি-১ তুলার চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের চেয়ে আড়াই শ’ হেক্টর বেশি। তুলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন।

দেশে তুলার চাহিদা ব্যাপক কিন্তু উৎপাদন কম। ফলে চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে তুলা সংগ্রহ করতে হয়। কৃষকরা তুলা চাষ করে কিভাবে বেশি ফলনের পাশাপাশি লাভবান হবেন সেদিকে বিবেচনা করে কৃষকদের নানা ভাবে তুলা চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিভিন্ন মাঠ দিবসের মাধ্যমে ক্ষতিকর তামাক চাষ বাদ দিয়ে তুলা চাষে উৎসাহিত করা যায় এ নিয়ে কাজ করছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসচেতনতা বাড়লে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় আগ্রহী হয়ে তুলা চাষে নেমেছে চাষিরা

আপডেট টাইম : ০৪:৩৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মার্চ ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ জেলায় এ বছরও বেড়েছে হাইব্রিড জাতের তুলা চাষ। ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় আগ্রহী হয়ে তুলা চাষে নেমেছে চাষিরা। ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর আড়াই শ’ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করেছেন চাষিরা।

তুলা উন্নয়ন অফিসের হিসেব মতে গত বছর তুলা চাষ হয়েছিল ৩ হাজার হেক্টর জমিতে। তার আগের বছর হয়েছিল ২ হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে। এবার জেলায় তুলা চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড়গুণ বেশি।

গাংনী উপজেলার ধানখোলা গ্রামের তুলাচাষি আমজাদ হোসেন জানান, প্রতি বছর সে ২ বিঘা জমিতে তুলার চাষ করে। এবারো চাষ করেছেন। তিনি জানান, হাইব্রিট জাতের তুলাতে রোগ-বালাই কম। ফলন বেশি এবং উৎপাদন খরচও অনেক কম।

একই গ্রামের চাষি মহিবুল ইসলামের ৩ বিঘা, মারজুল হোসেনের ৩ বিঘা, জিয়ারুল ইসলামের ৪ বিঘা, আব্দুল খালেকের ৪ বিঘা, সামাদ আলীর আড়াই বিঘা, শহিদুল ইসলামের ৪ বিঘা জমিতে তুলার চাষ করা হয়েছে।

এসব তুলা চাষিরা জানিয়েছেন, বিঘাপ্রতি তুলার ফলন পাওয়া যাচ্ছে ১৫ থেকে ১৬ মণ। তবে গত বছর আরো ভালো ফলন পাওয়া গিয়েছিল। এ বছরে প্রচণ্ড শীত ও মাঝে মধ্যে শৈত্যপ্রবাহের কারণে তুলার বলের আকার অনেকটাই ছোট হয়েছে। তারপরেও বিঘাপ্রতি ১৫/১৬ মণ ফলন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গাংনীর ধানখোলা ইউনিয়নের সানঘাট গ্রামের তুলা চাষি শান্ত বলেন, এ বছর আমার ৪ বিঘা জমিতে তুলা রয়েছে। বেশি ফলন হওয়ায় এলাকার চাষিরা রূপালি-১ উন্নত জাতের তুলা চাষ করেছে। প্রতি গাছই থেকে তুলার বল ফেটে গেছে। এখন তুলা সংগ্রহ করছেন। তিনি আরো জানান, এক বিঘা জমিতে তুলা চাষ করতে খরচ হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। আর তুলা বিক্রি করে পাওয়া যায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা।

তুলাচাষিদের অভিযোগ, তুলার উৎপাদন ভালো হয়েছে, কিন্তু বীজের দাম আর একটু কমিয়ে তুলার দাম যদি বাড়ানো হতো তাহলে অনেকে তুলা চাষ করতে আগ্রহী হতো।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়া অঞ্চল প্রধান সেন দেবাশীষ জানান, জেলায় উন্নত জাতের রূপালি-১ তুলার চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে। যা গত বছরের চেয়ে আড়াই শ’ হেক্টর বেশি। তুলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন।

দেশে তুলার চাহিদা ব্যাপক কিন্তু উৎপাদন কম। ফলে চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে তুলা সংগ্রহ করতে হয়। কৃষকরা তুলা চাষ করে কিভাবে বেশি ফলনের পাশাপাশি লাভবান হবেন সেদিকে বিবেচনা করে কৃষকদের নানা ভাবে তুলা চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিভিন্ন মাঠ দিবসের মাধ্যমে ক্ষতিকর তামাক চাষ বাদ দিয়ে তুলা চাষে উৎসাহিত করা যায় এ নিয়ে কাজ করছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড।