ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

ছনের তৈরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
  • ৪৩৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র ১২ কি.মি. দূরে সাতগাঁও চা বাগান এলাকায় অবস্থিত ছনখলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যার অবকাঠামো বাঁশ ও ছনের তৈরি। নেই কোন অবকাঠামো উন্নয়নের ছাপ, ধূ ধূ খোলামাঠে এ বিদ্যালয়টি এলাকার চা শ্রমিক সন্তান ও  নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠির শিশুরা এখান থেকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে। আধুনিকতার ছোয়া তো দূরে থাক, নিম্নতম সুযোগ-সুবিধা নেই। নড়বড়ে ঘর সামান্য বাতাস বৃদ্ধি পেলেই ঝুলতে থাকে। ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে সবসময় ভীতসন্ত্রস্থ থাকে ছোট ছোট শিশুরা।

বিদ্যালয়টি সাতগাঁও চা বাগান কর্তৃপক্ষের অধীনে ২০০৯ সালে স্থাপিত হয়। ২০১৩ সালে জাতীয়করণের আওতায় আসে বিদ্যালয়টি। জাতীয়করণের আগ পর্যন্ত চা বাগান কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টির যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ করতো। জাতীয়করণের পর তারা আর এ ব্যাপারে নজর দিচ্ছেন না।

বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে দেখা যায়, জরাজীর্ণ স্কুল, টিনের দেয়াল, ছনের তৈরি ছাদ ও সিমেন্টের কাগজ ও বাঁশ দিয়ে বানানো হয়েছে বিদ্যালয়টি। ভিতরে পার্টিশন দিয়ে ছোট ছোট ৪ টি কক্ষ তৈরি করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী বর্ষা কালিন্দ জানায়, ‘ক্লাস চলাকালীন ঝড় তুফান আসলে ভয়ে তারা কান্না করে।’ রিমা ভৌমিক নামের ৫ম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী জানায়, ‘বসার জন্য বড় কষ্ট হয়ে তাদের। বেঞ্চ স্বল্পতার কারণে ঠাসাঠাসি করে বসতে হয়। আর বৃষ্টির দিনে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে।

সহকারি শিক্ষক রিজভী আক্তার জানান, শুধু অবকাঠামোগত সমস্যাটাই প্রধান সম্যসা। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। ঝড় আসলে স্কুল ঘরে থাকার পরিবেশ থাকে না। বাচ্চারা ভয়ে কান্না করে। অনেক কষ্টে তাদের আটকে রাখি।

সহকারি শিক্ষক ঝর্ণা কৈরী বলেন, শীতের দিনে বাচ্চাদের পাঠদানে মনযোগ থাকলেও, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে তাদের শ্রেণিকক্ষে রাখা কঠিন হয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ বা সৌরবিদ্যুতের কোন ব্যবস্থা নেই। ঝড়-বৃষ্টির দিনে ঝুঁকি নিয়ে বাচ্চাদের রাখতে হয়। আকাশে কালো মেঘ আর দমকা হাওয়া দেখলেই শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে ভয়ের ছাপ ফুটে উঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুজিত কৈরী জানান, বিদ্যালয়টিতে বিশেষ করে চা শ্রমিকদের  শিশুরা লেখাপড়া করে। বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আসা খুবই জরুরি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও সাতগাঁও চা বাগান ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম জানান, জাতীয়করণের আওতায় আসার পর বাগান কর্তৃপক্ষ সংস্কার কাজ করেনি। শিক্ষার ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে অতি শীঘ্রই বাগান কর্তৃপক্ষ সেমি পাকা ভবন নির্মাণ করে অবকাঠামো সংস্কার কাজ করবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, এ স্কুলটি ২য় পর্যায়ে জাতীয়করণ করা হয়েছে। এ ধরনের বিভিন্ন বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নকাজের জন্য সরকারের প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে, প্রকল্প পরিচালক ও নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। শীঘ্রই প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। চা বাগান কর্তৃপক্ষের যেকোন উদ্যোগকে আমরা অবশ্যই সাধুবাদ জানাই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

ছনের তৈরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

আপডেট টাইম : ১২:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র ১২ কি.মি. দূরে সাতগাঁও চা বাগান এলাকায় অবস্থিত ছনখলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যার অবকাঠামো বাঁশ ও ছনের তৈরি। নেই কোন অবকাঠামো উন্নয়নের ছাপ, ধূ ধূ খোলামাঠে এ বিদ্যালয়টি এলাকার চা শ্রমিক সন্তান ও  নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠির শিশুরা এখান থেকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে। আধুনিকতার ছোয়া তো দূরে থাক, নিম্নতম সুযোগ-সুবিধা নেই। নড়বড়ে ঘর সামান্য বাতাস বৃদ্ধি পেলেই ঝুলতে থাকে। ভেঙ্গে যাওয়ার ভয়ে সবসময় ভীতসন্ত্রস্থ থাকে ছোট ছোট শিশুরা।

বিদ্যালয়টি সাতগাঁও চা বাগান কর্তৃপক্ষের অধীনে ২০০৯ সালে স্থাপিত হয়। ২০১৩ সালে জাতীয়করণের আওতায় আসে বিদ্যালয়টি। জাতীয়করণের আগ পর্যন্ত চা বাগান কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টির যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ করতো। জাতীয়করণের পর তারা আর এ ব্যাপারে নজর দিচ্ছেন না।

বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে দেখা যায়, জরাজীর্ণ স্কুল, টিনের দেয়াল, ছনের তৈরি ছাদ ও সিমেন্টের কাগজ ও বাঁশ দিয়ে বানানো হয়েছে বিদ্যালয়টি। ভিতরে পার্টিশন দিয়ে ছোট ছোট ৪ টি কক্ষ তৈরি করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী বর্ষা কালিন্দ জানায়, ‘ক্লাস চলাকালীন ঝড় তুফান আসলে ভয়ে তারা কান্না করে।’ রিমা ভৌমিক নামের ৫ম শ্রেণীর আরেক শিক্ষার্থী জানায়, ‘বসার জন্য বড় কষ্ট হয়ে তাদের। বেঞ্চ স্বল্পতার কারণে ঠাসাঠাসি করে বসতে হয়। আর বৃষ্টির দিনে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে।

সহকারি শিক্ষক রিজভী আক্তার জানান, শুধু অবকাঠামোগত সমস্যাটাই প্রধান সম্যসা। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে খুব সমস্যায় পড়তে হয়। ঝড় আসলে স্কুল ঘরে থাকার পরিবেশ থাকে না। বাচ্চারা ভয়ে কান্না করে। অনেক কষ্টে তাদের আটকে রাখি।

সহকারি শিক্ষক ঝর্ণা কৈরী বলেন, শীতের দিনে বাচ্চাদের পাঠদানে মনযোগ থাকলেও, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে তাদের শ্রেণিকক্ষে রাখা কঠিন হয়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ বা সৌরবিদ্যুতের কোন ব্যবস্থা নেই। ঝড়-বৃষ্টির দিনে ঝুঁকি নিয়ে বাচ্চাদের রাখতে হয়। আকাশে কালো মেঘ আর দমকা হাওয়া দেখলেই শিক্ষার্থীদের চোখে মুখে ভয়ের ছাপ ফুটে উঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুজিত কৈরী জানান, বিদ্যালয়টিতে বিশেষ করে চা শ্রমিকদের  শিশুরা লেখাপড়া করে। বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আসা খুবই জরুরি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও সাতগাঁও চা বাগান ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম জানান, জাতীয়করণের আওতায় আসার পর বাগান কর্তৃপক্ষ সংস্কার কাজ করেনি। শিক্ষার ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে অতি শীঘ্রই বাগান কর্তৃপক্ষ সেমি পাকা ভবন নির্মাণ করে অবকাঠামো সংস্কার কাজ করবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, এ স্কুলটি ২য় পর্যায়ে জাতীয়করণ করা হয়েছে। এ ধরনের বিভিন্ন বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নকাজের জন্য সরকারের প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে, প্রকল্প পরিচালক ও নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। শীঘ্রই প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। চা বাগান কর্তৃপক্ষের যেকোন উদ্যোগকে আমরা অবশ্যই সাধুবাদ জানাই।