ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গাঢ় নীল-জলপাই রঙে ফিরছে পুলিশের ইউনিফর্ম ১৪০ কোটি টাকা পাচ্ছে বেসরকারি এতিমখানা ‘এখনো সময় আছে’, জুলাইপন্থীদের উদ্দেশে মাহফুজ আলমের বার্তা সাংবাদিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের দুঃখপ্রকাশ সাকলায়েন–পরীমণির সম্পর্ক: প্রশ্নের জবাবে যা বলেছিলেন নায়িকা হাতে স্টিয়ারিং, কাঁধে নিজের ব্যাগ, কী বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তরুণীকে মদের বারে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প নিয়ে সুসংবাদ দিলেন পানি সম্পদমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে জাহাজ চলাচল প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

জিআই পণ্যের হিসেবে নিবন্ধিত পাচ্ছে খিরসাপাত আম

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
  • ৩৩৫ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের তৃতীয় ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম। পেটেন্ট ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর বলছে, জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত করার জন্য গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই তা জিআই জার্নালে প্রকাশ করা হবে।

নিবন্ধন পেলে সুস্বাদু ফলটি ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম’ নামে বিশ্ববাজারে পরিচিতি পাবে। এতে উপকৃত হবে স্থানীয় আম চাষিরাও।

প্রায় ২’শ বছর আগে ময়মনসিংহের মহারাজা সুতাংশু কুমার আচার্য্য বাহাদুর চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট উপজেলায় গড়ে তোলেন একটি আমবাগান। সেই বাগানে অন্যান্য উৎকৃষ্ট জাতের আমের সাথে চাষ হতো খিরসাপাত।

এছাড়া ১৯৫৫ সালে স্থানীয় লোকসংগীত আলকাপ গানের বন্দনা ছড়ায় উল্লেখ রয়েছে খিরসাপাত আমের কথা। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সুস্বাদু এই জাতটি।

অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের আম। সম্ভাবনা বিবেচনায় আমের স্বত্ব সুরক্ষার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট। এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আমকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করে সংস্থাটি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত¡ গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে আমরা সাবমিট করেছি। তারা আবার বলছেন, এইভাবে একটু দেখেন কিংবা অনন্য বৈশিষ্ট্যটা এমন হওয়া উচিৎ। এইভাবে করতে করতে আমরা প্রায় একবছর ধরে কাজটা করলাম। আমরা আশা করছি, ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আমের প্রথম জাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।’

নিবন্ধন পেলে পরিচিত বাড়ার সাথে সাথে বিশ্ববাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশা স্থানীয় আম বাগান মালিকদের।

গত একবছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে খিরসাপাত আম চাষের ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণাদি যাচাই বাছাই শেষে এখন অপেক্ষা গেজেট প্রকাশের।

পেটেন্ট ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের রেজিস্টার সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা জার্নাল চ‚ড়ান্ত করে ছাপার জন্য বাংলাদেশ সরকারের বিজি প্রেসে পাঠিয়েছি। ছাপানোর তারিখ থেকে আমরা দুই মাস অপেক্ষা করবো, কারও কোন আপত্তি থাকলে সেটা শোনার জন্য। কারও আপত্তি না থাকলে আমরা খিরসাকে নিবন্ধন দিতে পারবো।’

বর্তমানে দেশের মোট উৎপাদিত আমের ৩০ ভাগই খিরসাপাত। প্রতিবছর রপ্তানি হওয়া আমের মধ্যে শীর্ষেও রয়েছে এই জাতটি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গাঢ় নীল-জলপাই রঙে ফিরছে পুলিশের ইউনিফর্ম

জিআই পণ্যের হিসেবে নিবন্ধিত পাচ্ছে খিরসাপাত আম

আপডেট টাইম : ০৩:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের তৃতীয় ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম। পেটেন্ট ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর বলছে, জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত করার জন্য গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। খুব শিগগিরই তা জিআই জার্নালে প্রকাশ করা হবে।

নিবন্ধন পেলে সুস্বাদু ফলটি ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম’ নামে বিশ্ববাজারে পরিচিতি পাবে। এতে উপকৃত হবে স্থানীয় আম চাষিরাও।

প্রায় ২’শ বছর আগে ময়মনসিংহের মহারাজা সুতাংশু কুমার আচার্য্য বাহাদুর চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট উপজেলায় গড়ে তোলেন একটি আমবাগান। সেই বাগানে অন্যান্য উৎকৃষ্ট জাতের আমের সাথে চাষ হতো খিরসাপাত।

এছাড়া ১৯৫৫ সালে স্থানীয় লোকসংগীত আলকাপ গানের বন্দনা ছড়ায় উল্লেখ রয়েছে খিরসাপাত আমের কথা। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সুস্বাদু এই জাতটি।

অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের আম। সম্ভাবনা বিবেচনায় আমের স্বত্ব সুরক্ষার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট। এরই অংশ হিসেবে ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আমকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের আবেদন করে সংস্থাটি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত¡ গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শরফ উদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে আমরা সাবমিট করেছি। তারা আবার বলছেন, এইভাবে একটু দেখেন কিংবা অনন্য বৈশিষ্ট্যটা এমন হওয়া উচিৎ। এইভাবে করতে করতে আমরা প্রায় একবছর ধরে কাজটা করলাম। আমরা আশা করছি, ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আমের প্রথম জাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।’

নিবন্ধন পেলে পরিচিত বাড়ার সাথে সাথে বিশ্ববাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশা স্থানীয় আম বাগান মালিকদের।

গত একবছর ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে খিরসাপাত আম চাষের ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণাদি যাচাই বাছাই শেষে এখন অপেক্ষা গেজেট প্রকাশের।

পেটেন্ট ডিজাইন অ্যান্ড ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের রেজিস্টার সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা জার্নাল চ‚ড়ান্ত করে ছাপার জন্য বাংলাদেশ সরকারের বিজি প্রেসে পাঠিয়েছি। ছাপানোর তারিখ থেকে আমরা দুই মাস অপেক্ষা করবো, কারও কোন আপত্তি থাকলে সেটা শোনার জন্য। কারও আপত্তি না থাকলে আমরা খিরসাকে নিবন্ধন দিতে পারবো।’

বর্তমানে দেশের মোট উৎপাদিত আমের ৩০ ভাগই খিরসাপাত। প্রতিবছর রপ্তানি হওয়া আমের মধ্যে শীর্ষেও রয়েছে এই জাতটি।