ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অমর একুশের গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করেন : প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২৩:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
  • ৩৫৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দেশের ভাষা, কৃষ্টি, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে মর্যাদা প্রদানের আহ্বান জানিয়ে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে আগামী ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং উদ্বোধনী স্মারকে স্বাক্ষর করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সূচনা সংগীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ পরিবেশিত হয় এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গতকাল বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একুশের মেলা আমাদের প্রাণের মেলা। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে নানা সংগ্রামের পরিক্রমায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভাষাভিত্তিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই এক বিস্ময়ের ব্যাপার। একুশের চেতনাও এখন আর বাংলাদেশের সীমানায় আটকে নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে এবং প্রবাসী বাঙালির প্রচেষ্টায় আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিল্প সংস্কৃতি কেবল বাংলাদেশের সীমানায় নয়, বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘নিজেদের সংস্কৃতি, নিজেদের ভাষা, নিজেদের শিল্প-সাহিত্যকে যদি আমরা মর্যাদা দিতে না পারি, তার উৎকর্ষ সাধন করতে না পারি, তা হলে জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের দরবারে আরও উন্নত হতে পারব না।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের যে চেতনা সেই চেতনা নিয়েই বাংলাদেশকে গড়তে চান উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ হবে অসাম্প্রদায়িক, বাংলাদেশ হবে শান্তিপূর্ণ, বাংলাদেশে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মকর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে, এমনকি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষরাও তাদের ভাষার চর্চা করতে পারবে। তা ছাড়া আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছি। যেখানে হারিয়ে যাওয়া মাতৃভাষা নিয়ে গবেষণা হবে।’
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিদেশি অতিথি লেখকের বক্তব্য উপস্থাপন করেন এগনিস মিডোস (যুক্তরাজ্য), ড. জয়েস অ্যাসউনটেনটেক্স (ক্যামেরুন), ইব্রাহিম এলমাসরি (মিসর), অরনে জনসন (সুইডেন) প্রমুখ। বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সংস্কৃতি সচিব মো. ইব্রাহীম হোসেন খান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত আলোকচিত্রে বাংলা একাডেমির ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ : বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ গ্রন্থ দুটি তুলে দেওয়া হয়।

গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭ প্রদান করা হয়। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭ পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন কবিতায় মোহাম্মদ সাদিক ও মারুফুল ইসলাম, কথাসাহিত্যে মামুন হুসাইন, প্রবন্ধে মাহবুবুল হক, গবেষণায় রফিকউল্লাহ খান, অনুবাদে আমিনুল ইসলাম ভুইয়া, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে কামরুল হাসান ভূঁঁইয়া ও সুরমা জাহিদ, ভ্রমণকাহিনিতে শাকুর মজিদ, নাটকে মলয় ভৌমিক, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে মোশতাক আহমেদ, শিশু সাহিত্যে ঝর্ণা দাস পুরকায়স্থ। অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের হাতে ১ লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধাবিকাশ ও সুস্থ বিনোদনের জন্য তৈরি অনলাইনভিত্তিক প্লাটফর্ম কিশোর বাতায়ন কানেক্ট এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব একসেসিবল ডিকশনারি উদ্বোধন করেন। এটুআই-প্রোগ্রামের ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র থেকে অনলাইন প্লাটফর্মেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের উদ্যোগে ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী গ্রন্থমেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং লেখক-প্রকাশকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

অমর একুশের গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করেন : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১০:২৩:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দেশের ভাষা, কৃষ্টি, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে মর্যাদা প্রদানের আহ্বান জানিয়ে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে আগামী ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং উদ্বোধনী স্মারকে স্বাক্ষর করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সূচনা সংগীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ পরিবেশিত হয় এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে গতকাল বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একুশের মেলা আমাদের প্রাণের মেলা। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে নানা সংগ্রামের পরিক্রমায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভাষাভিত্তিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা সারা বিশ্বের মানুষের কাছেই এক বিস্ময়ের ব্যাপার। একুশের চেতনাও এখন আর বাংলাদেশের সীমানায় আটকে নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে এবং প্রবাসী বাঙালির প্রচেষ্টায় আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিল্প সংস্কৃতি কেবল বাংলাদেশের সীমানায় নয়, বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘নিজেদের সংস্কৃতি, নিজেদের ভাষা, নিজেদের শিল্প-সাহিত্যকে যদি আমরা মর্যাদা দিতে না পারি, তার উৎকর্ষ সাধন করতে না পারি, তা হলে জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের দরবারে আরও উন্নত হতে পারব না।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় স্বাধীন জাতি হিসেবে আমাদের যে চেতনা সেই চেতনা নিয়েই বাংলাদেশকে গড়তে চান উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ হবে অসাম্প্রদায়িক, বাংলাদেশ হবে শান্তিপূর্ণ, বাংলাদেশে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মকর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে, এমনকি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষরাও তাদের ভাষার চর্চা করতে পারবে। তা ছাড়া আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছি। যেখানে হারিয়ে যাওয়া মাতৃভাষা নিয়ে গবেষণা হবে।’
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিদেশি অতিথি লেখকের বক্তব্য উপস্থাপন করেন এগনিস মিডোস (যুক্তরাজ্য), ড. জয়েস অ্যাসউনটেনটেক্স (ক্যামেরুন), ইব্রাহিম এলমাসরি (মিসর), অরনে জনসন (সুইডেন) প্রমুখ। বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন।

শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সংস্কৃতি সচিব মো. ইব্রাহীম হোসেন খান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত আলোকচিত্রে বাংলা একাডেমির ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ : বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ গ্রন্থ দুটি তুলে দেওয়া হয়।

গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭ প্রদান করা হয়। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭ পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন কবিতায় মোহাম্মদ সাদিক ও মারুফুল ইসলাম, কথাসাহিত্যে মামুন হুসাইন, প্রবন্ধে মাহবুবুল হক, গবেষণায় রফিকউল্লাহ খান, অনুবাদে আমিনুল ইসলাম ভুইয়া, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে কামরুল হাসান ভূঁঁইয়া ও সুরমা জাহিদ, ভ্রমণকাহিনিতে শাকুর মজিদ, নাটকে মলয় ভৌমিক, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে মোশতাক আহমেদ, শিশু সাহিত্যে ঝর্ণা দাস পুরকায়স্থ। অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের হাতে ১ লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধাবিকাশ ও সুস্থ বিনোদনের জন্য তৈরি অনলাইনভিত্তিক প্লাটফর্ম কিশোর বাতায়ন কানেক্ট এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব একসেসিবল ডিকশনারি উদ্বোধন করেন। এটুআই-প্রোগ্রামের ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র থেকে অনলাইন প্লাটফর্মেরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের উদ্যোগে ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী গ্রন্থমেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং লেখক-প্রকাশকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।