ঢাকা ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

শীতে প্রকৃতি উপভোগ করতে ঘুরে আসতে সরষে ক্ষেতে ভরা বাংলার কিছু গ্রাম থেকে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৫২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭
  • ৭৮৩ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বেড়ানোর সময় পেলে আমরা অনেকেই বেছে নিই পাহাড় বা সমুদ্রকে ৷ কিন্তু শহুরে জীবনে অভ্যস্ত মানুষ প্রকৃতির কাছে খুব একটা যাই না ৷ তাই শীতে প্রকৃতি উপভোগ করতে ঘুরে আসতে পারেন খেজুর আর সরষে ক্ষেতে ভরা বাংলার কিছু গ্রাম থেকে ৷

`দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া, একটি ঘাসের শিষের উপর একটি শিশির বিন্দু ৷ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের এই কথা যুগে যুগে যথার্থই ৷ কনকনে শীতের সকালে গাছতলায় বসে এক পেয়ালা খেজুর রস শেষ কবে পান করেছেন মনে আছে? অনেকের জীবনে হয়ত সে সুযোগই হয়নি ৷ আবার যাঁদের সে সুযোগ হয়েছে, কর্মব্যস্ততার কারণে হয়ত তা ভুলতেই বসেছেন ৷ এই শীতেই তাই কিছুটা সময় বের করে ফেলুন ৷ ঘর থেকে মাত্র দু`পা দূরে গিয়েদেখে আসুন বাংলার প্রকৃতিকে ৷

গ্রাম বাংলায় শীতের সঙ্গে খেজুর রসের সম্পর্ক নিবিড় ৷ যাঁদের বেশি সময় নিয়ে বেড়িয়ে পড়ার সুযোগ নেই, তাঁরা যেতে পারেন ঢাকার কাছেই মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা গ্রামে ৷ এ গ্রামের মেঠো পথগুলোর দু`পাশ জুড়ে আছে প্রচুর খেজুর গাছ৷ শীতে এ গ্রামের মানুষের ব্যস্ততা তাই বেড়ে যায় ৷ খেজুর গাছের রস সংগ্রহের জন্য প্রতিদিন বিকেলে গাছ কাটা আর প্রত্যুষে রস সংগ্রহ করে তা থেকে গুড় তৈরি করা হয় ৷ ডিসেম্বরের শুরু থেকে জানুয়ারির শেষ অবধি বাংলাদেশে খেজুর রস পাওয়া যায় ৷ এ সময়ে জায়গাটির ‘ল্যান্ডস্কেপ`-এ বৈচিত্র্য আনে অপূর্ব সরিষা ক্ষেত ৷ এ সময় এখানে দেখা যায় ভ্রাম্যমাণ মধুচাষীদেরও ৷ ঝিটকার খেজুর গুড়েরও সুনাম আছে ৷ তাই এর স্বাদ নিতেও ভুলবেন না ৷ তাছাড়া ঝিটকা গ্রামের মিনহাজ উদ্দিন হাজারীর উদ্ভাবিত সাদা রঙের খেজুর গুড়ের সুনাম কিন্তু দেশজোড়া ৷ যুগ যুগ ধরে হাজারী পরিবারসহ গ্রামের বেশ কয়েকজন কারিগর এখনও ধরে রেখেছেন এই হাজারী গুড়ের ঐতিহ্য ৷

এই শীতে যাঁদের দু-তিন দিনের সময় নিয়ে বেড়িয়ে পড়ার সুযোগ আছে, তাঁরা কিন্তু যশোর যেতে ভুলবেন না ৷ ইটের ভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খেজুর গাছ হারিয়ে গেলেও যশোর অঞ্চল ব্যতিক্রম ৷ যশোরের বিভিন্ন এলাকায় এখনো প্রচুর খেজুর গাছ আছে ৷ এই যেমন যশোর শহরের কাছেই একটি এলাকা আছে, যার নাম ‘খাজুরা ৷ জায়গাটিতে গেলে এর নামের সার্থকতা খুঁজে পাবেন ৷ মাইলের পর মাইল শীতের সবজি ক্ষেত, মাঝে সারি সারি খেজুর গাছ ৷ সূর্য ওঠার আগে এখানে গাছিরা ব্যস্ত থাকেন রস নামাতে ৷ সেই রস নিয়েই পরে গৃহবধূরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন গুড় তৈরিতে ৷

যশোরের আরেকটি এলাকা অভয়নগর ৷ শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের এ অঞ্চলও খেজুর রসের জন্য বিখ্যাত ৷ অভয়নগর বাস স্টেশন থেকে পূর্ব দিকে বুড়ি ভৈরব নদী পার হয়ে ওপারে গেলে মাইলের পর মাইল খেজুর গাছ ৷ শীতকালে এখানে কৃষি ক্ষেতগুলো ভরপুর থাকে সরিষায় ৷ এখানকার মেঠো পথে চলতে চলতে নাকে তাই ছোঁয়া দিয়ে যায় সরিষা ফুলের মাতাল করা ঘ্রাণ ৷ চাইলে এখানকার মেঠোপথে ঘুরে বেড়াতে পারবেন গরুর গাড়িতে করেও ৷

এছাড়া শীতে বাংলাদেশের আরো অনেক এলাকায় প্রকৃতিতে বড় পরিবর্তন আনে সরিষা ক্ষেত ৷ সবজু মাঠ যেন ঢেকে যায় হলুদ গালিচায় ৷ যে কোনো দিন কিছুটা সময় করে তাই ঘুরে আসতে পারেন কাছে-দূরের কোনো এক সরিষা ক্ষেতের হলুদ প্রান্তর থেকেও ৷

ঢাকার খুব কাছাকাছি সরিষা ফুলের জন্য সুন্দর আর একটি জায়গা মানিকগঞ্জের মানিকনগর ৷ সাভারের হেমায়েতপুর থেকে সিঙ্গাইরের সড়ক ধরে কিছুদূর গেলে ধলেশ্বরী সেতু৷ ওপারে বিন্নাডিঙ্গি বাজার থেকে বাঁয়ের সড়কে কয়েক কিলোমিটার চললেই মানিক নগর৷ শীতে প্রকৃতি যেখানে ছবির মতো ৷

ঢাকার কাছাকাছি সরিষা ফুলের আরেক জগত মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর, সিরাজদিখান আর টঙ্গিবাড়ী ৷ এখানকার আড়িয়াল বিল কিংবা সোনারং এলাকাতেও আছে প্রচুর সরিষা ক্ষেত ৷ ঢাকা থেকে খুব সকালে শুরু করলে সারাদিন বেড়িয়ে সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব এ সব জায়গা থেকে ৷

সরিষা ক্ষেতে বেড়ানোর আরেক অপূর্ব জায়গা চলনবিল ৷ সিরাজগঞ্জ, নাটোর এবং পাবনা জেলাজুড়ে বিশাল এই বিল শীত মৌসুমে হলুদ এক স্বর্গের রূপ নেয় ৷ শীতে শুকিয়ে যাওয়া চলনবিলের বেশিরভাগ জমিতেই এ সময়ে চাষ হয় সরিষার ৷ বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু পেরিয়ে হাটিকুমড়ুল-বনপাড়া সড়কে কিছুক্ষণ চললেই পাওয়া যাবে চলনবিলের বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেতের ৷ চলনবিলের সালঙ্গা, তাড়াশ, হরিণচড়া, দবিলা, কাছকাটা, প্রভৃতি জায়গায় সরিষা ক্ষেতের প্রাধান্য বেশি ৷ তাই আর দেরি কেন? এখনই বেড়িয়ে পড়ুন গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙা মাটির পথে ৷

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত আরও একজন

শীতে প্রকৃতি উপভোগ করতে ঘুরে আসতে সরষে ক্ষেতে ভরা বাংলার কিছু গ্রাম থেকে

আপডেট টাইম : ০৪:৫২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বেড়ানোর সময় পেলে আমরা অনেকেই বেছে নিই পাহাড় বা সমুদ্রকে ৷ কিন্তু শহুরে জীবনে অভ্যস্ত মানুষ প্রকৃতির কাছে খুব একটা যাই না ৷ তাই শীতে প্রকৃতি উপভোগ করতে ঘুরে আসতে পারেন খেজুর আর সরষে ক্ষেতে ভরা বাংলার কিছু গ্রাম থেকে ৷

`দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া, একটি ঘাসের শিষের উপর একটি শিশির বিন্দু ৷ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের এই কথা যুগে যুগে যথার্থই ৷ কনকনে শীতের সকালে গাছতলায় বসে এক পেয়ালা খেজুর রস শেষ কবে পান করেছেন মনে আছে? অনেকের জীবনে হয়ত সে সুযোগই হয়নি ৷ আবার যাঁদের সে সুযোগ হয়েছে, কর্মব্যস্ততার কারণে হয়ত তা ভুলতেই বসেছেন ৷ এই শীতেই তাই কিছুটা সময় বের করে ফেলুন ৷ ঘর থেকে মাত্র দু`পা দূরে গিয়েদেখে আসুন বাংলার প্রকৃতিকে ৷

গ্রাম বাংলায় শীতের সঙ্গে খেজুর রসের সম্পর্ক নিবিড় ৷ যাঁদের বেশি সময় নিয়ে বেড়িয়ে পড়ার সুযোগ নেই, তাঁরা যেতে পারেন ঢাকার কাছেই মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা গ্রামে ৷ এ গ্রামের মেঠো পথগুলোর দু`পাশ জুড়ে আছে প্রচুর খেজুর গাছ৷ শীতে এ গ্রামের মানুষের ব্যস্ততা তাই বেড়ে যায় ৷ খেজুর গাছের রস সংগ্রহের জন্য প্রতিদিন বিকেলে গাছ কাটা আর প্রত্যুষে রস সংগ্রহ করে তা থেকে গুড় তৈরি করা হয় ৷ ডিসেম্বরের শুরু থেকে জানুয়ারির শেষ অবধি বাংলাদেশে খেজুর রস পাওয়া যায় ৷ এ সময়ে জায়গাটির ‘ল্যান্ডস্কেপ`-এ বৈচিত্র্য আনে অপূর্ব সরিষা ক্ষেত ৷ এ সময় এখানে দেখা যায় ভ্রাম্যমাণ মধুচাষীদেরও ৷ ঝিটকার খেজুর গুড়েরও সুনাম আছে ৷ তাই এর স্বাদ নিতেও ভুলবেন না ৷ তাছাড়া ঝিটকা গ্রামের মিনহাজ উদ্দিন হাজারীর উদ্ভাবিত সাদা রঙের খেজুর গুড়ের সুনাম কিন্তু দেশজোড়া ৷ যুগ যুগ ধরে হাজারী পরিবারসহ গ্রামের বেশ কয়েকজন কারিগর এখনও ধরে রেখেছেন এই হাজারী গুড়ের ঐতিহ্য ৷

এই শীতে যাঁদের দু-তিন দিনের সময় নিয়ে বেড়িয়ে পড়ার সুযোগ আছে, তাঁরা কিন্তু যশোর যেতে ভুলবেন না ৷ ইটের ভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খেজুর গাছ হারিয়ে গেলেও যশোর অঞ্চল ব্যতিক্রম ৷ যশোরের বিভিন্ন এলাকায় এখনো প্রচুর খেজুর গাছ আছে ৷ এই যেমন যশোর শহরের কাছেই একটি এলাকা আছে, যার নাম ‘খাজুরা ৷ জায়গাটিতে গেলে এর নামের সার্থকতা খুঁজে পাবেন ৷ মাইলের পর মাইল শীতের সবজি ক্ষেত, মাঝে সারি সারি খেজুর গাছ ৷ সূর্য ওঠার আগে এখানে গাছিরা ব্যস্ত থাকেন রস নামাতে ৷ সেই রস নিয়েই পরে গৃহবধূরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন গুড় তৈরিতে ৷

যশোরের আরেকটি এলাকা অভয়নগর ৷ শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের এ অঞ্চলও খেজুর রসের জন্য বিখ্যাত ৷ অভয়নগর বাস স্টেশন থেকে পূর্ব দিকে বুড়ি ভৈরব নদী পার হয়ে ওপারে গেলে মাইলের পর মাইল খেজুর গাছ ৷ শীতকালে এখানে কৃষি ক্ষেতগুলো ভরপুর থাকে সরিষায় ৷ এখানকার মেঠো পথে চলতে চলতে নাকে তাই ছোঁয়া দিয়ে যায় সরিষা ফুলের মাতাল করা ঘ্রাণ ৷ চাইলে এখানকার মেঠোপথে ঘুরে বেড়াতে পারবেন গরুর গাড়িতে করেও ৷

এছাড়া শীতে বাংলাদেশের আরো অনেক এলাকায় প্রকৃতিতে বড় পরিবর্তন আনে সরিষা ক্ষেত ৷ সবজু মাঠ যেন ঢেকে যায় হলুদ গালিচায় ৷ যে কোনো দিন কিছুটা সময় করে তাই ঘুরে আসতে পারেন কাছে-দূরের কোনো এক সরিষা ক্ষেতের হলুদ প্রান্তর থেকেও ৷

ঢাকার খুব কাছাকাছি সরিষা ফুলের জন্য সুন্দর আর একটি জায়গা মানিকগঞ্জের মানিকনগর ৷ সাভারের হেমায়েতপুর থেকে সিঙ্গাইরের সড়ক ধরে কিছুদূর গেলে ধলেশ্বরী সেতু৷ ওপারে বিন্নাডিঙ্গি বাজার থেকে বাঁয়ের সড়কে কয়েক কিলোমিটার চললেই মানিক নগর৷ শীতে প্রকৃতি যেখানে ছবির মতো ৷

ঢাকার কাছাকাছি সরিষা ফুলের আরেক জগত মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর, সিরাজদিখান আর টঙ্গিবাড়ী ৷ এখানকার আড়িয়াল বিল কিংবা সোনারং এলাকাতেও আছে প্রচুর সরিষা ক্ষেত ৷ ঢাকা থেকে খুব সকালে শুরু করলে সারাদিন বেড়িয়ে সন্ধ্যায় ফিরে আসা সম্ভব এ সব জায়গা থেকে ৷

সরিষা ক্ষেতে বেড়ানোর আরেক অপূর্ব জায়গা চলনবিল ৷ সিরাজগঞ্জ, নাটোর এবং পাবনা জেলাজুড়ে বিশাল এই বিল শীত মৌসুমে হলুদ এক স্বর্গের রূপ নেয় ৷ শীতে শুকিয়ে যাওয়া চলনবিলের বেশিরভাগ জমিতেই এ সময়ে চাষ হয় সরিষার ৷ বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু পেরিয়ে হাটিকুমড়ুল-বনপাড়া সড়কে কিছুক্ষণ চললেই পাওয়া যাবে চলনবিলের বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেতের ৷ চলনবিলের সালঙ্গা, তাড়াশ, হরিণচড়া, দবিলা, কাছকাটা, প্রভৃতি জায়গায় সরিষা ক্ষেতের প্রাধান্য বেশি ৷ তাই আর দেরি কেন? এখনই বেড়িয়ে পড়ুন গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙা মাটির পথে ৷