ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মহাসত্যের সন্ধানে সালমান ফারসি (রা.) ইসরাইলে মুখোমুখি সেনা ও সরকার, বিপাকে নেতানিয়াহু বন্যায় নেত্রকোণার মদনে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত পানিবন্ধি ১ হাজার ছয়শ বিশ পরিবার মদনে প্রধান সড়ক দখল করে বাসস্ট্যান্ড, দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তির যেনো শেষ নেই মদনে কৃষক আজিজুল ইসলামের বজ্রপাতে মৃত্য জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি আপেল মাহমুদ ও সহ-সাধারণ সম্পাদক রাহাত মদনে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ করেন ইউএনও প্রধানমন্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা নরেন্দ্র মো‌দির দুর্ভাগ্য আমাদের, ভালো খেলেও কোয়াটার ফাইনালে যেতে পারলাম না জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি

জঙ্গল বাঁচিয়ে কফির চাষ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫
  • ৩৫৭ বার

চা বাগানের মতো কফি চাষের ক্ষেত্রেও শেড ট্রি ছায়া দেয়৷ উত্তর পেরুর শামপুইয়াকু অঞ্চলে কফিঝোপের পাশে নানা ধরনের গাছ লাগানো হচ্ছে, শুধু ছায়া দেয়ার জন্য নয়, টুরিস্টদের মন কাড়ার জন্যও৷

পেরুর উত্তরে মূলত কফি চাষ করা হয়৷ বিশেষ করে বিশ্ববাজারে কফির দাম যখন বছরের পর বছর বেড়েই চলেছে৷

শামপুইয়াকু পৌর এলাকায় এককালে চার হাজার হেক্টার জঙ্গল ছিল, জঙ্গল বলতে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্য৷ আজ সেই বনভূমির মাত্র ছয় শ’ হেক্টার উদ্বৃত্ত৷ শামপুইয়াকু অঞ্চল আজ আইইউসিএন অর্থাৎ ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার’ সংগঠনের একটি অরণ্য সংরক্ষণ প্রকল্পের অঙ্গ৷

সংরক্ষণ
কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের আলোন্সো কাস্ত্রো বলেন, ‘‘আমরা বর্তমানে যা করছি – যেহেতু আমরা একদিকে অরণ্য সংরক্ষণে আগ্রহী, সেই কারণে আমরা কফি চাষিদের অন্যান্য নানা পদ্ধতি শেখাচ্ছি, যাতে তারা জঙ্গল না কেটে কিংবা পুড়িয়ে আরো বেশি পরিমাণে উচ্চ মানের কফি ফলাতে পারেন৷”

গ্রামের মহিলারা কফির আবাদের দিকে চলেছেন৷ তারাই প্রথম অরণ্য সংরক্ষণের কাজে শামিল হয়েছেন, রাসায়নিক সারের বদলে প্রকৃতিজাত সার ব্যবহার করা শুরু করেছেন৷ এভাবে ফসল বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন৷ পুরুষরাও স্বভাবত এই সাফল্যে উদ্বুদ্ধ৷

শামপুইয়াকুর অধিবাসী এলিতা তিঙ্গাল বলেন, ‘‘এই প্রকল্পের আগে জঙ্গলের অবস্থা ভালো ছিল না৷ যা পাওয়া যায়, যেটুকু পাওয়া যায়, সব আমরা জঙ্গল থেকে নিতাম৷ আজ আমরা অন্যভাবে কাজ করি, জঙ্গলকে কিছু কিছু ফেরতও দিই৷”

গাঁয়ের মোড়ল টোমাস ওয়াহাহাই টুভিটস অতিথিদের তার ‘জঙ্গল কিন্ডারগার্টেন’ দেখাতে ভালোবাসেন৷ অন্য সব চাষির মতো তার বাড়ির পিছনেই কফিগাছ লাগিয়েছেন৷ কফিঝোপের পাশে কচি কচি গাছের চারা লাগানো হয়েছে, সব মিলিয়ে প্রায় হাজার খানেক৷ এগুলো কফিগাছের পাশাপাশি বেড়ে উঠবে৷

মোড়ল বলেন, ‘‘মানুষজনকে গাছ লাগাতে রাজি করাতে, তার সুবিধা বোঝাতে, খুব বেগ পেতে হয়েছে৷ আমরা সবার সাথে কথা বলেছি৷ আজ ক্রমেই আরো বেশি মানুষ তাই করছেন, কফি চাষের সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের গাছপালা লাগাচ্ছেন৷ পরে এই গাছগুলোই কফি বাগানে ছায়া দেবে৷”

মহিলা মহল
পৌরভবনে গাঁয়ের মহিলারা জঙ্গল থেকে কলা, আম, মুলো, নারকেল বিভিন্ন ফল নিয়ে আসেন৷ তারা কম বয়সী মেয়েদের বোঝান, এই সব ফল দিয়ে কী করা যায়, বনজঙ্গল ঠিক থাকলে তা থেকে কতো রকমের খাবার পাওয়া যায়, রোজগারের পথ খোলে৷ নানি-দাদির ঐতিহ্য এ ভাবে বেঁচে-বর্তে থাকছে৷ সেটাও প্রকল্পের অঙ্গ৷

কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের আলোন্সো কাস্ত্রো বলেন, ‘‘আমরা এখানে প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছি, জমির ক্ষয় রোধ করা, জঙ্গলের সুযোগ-সুবিধাগুলোর সদ্ব্যবহার করা৷ ফলমূল, চিকিৎসার জন্য জড়িবুটি, ঔষধি৷ তা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারাই লাভবান হন৷”

পৌরভবন থেকে বিশ মিনিট পায়ে হেঁটে নারানহিয়ো নদী৷ নদীতীরের ঘন জঙ্গল বহুদিন আগেই উধাও হয়েছে৷ নদীর স্রোতে পাড় ভাঙছে, কেননা গাছেদের শিকড়বাকড়ই মাটিকে ধরে রাখে৷

আলন্সো কাস্ত্রো এখানেও প্রচুর গাছ লাগিয়েছেন নদীতীরের খেতগুলোর ঠিক মাঝখানে৷ শুধু গাছই নয়, সেই সাথে প্রচুর ঝোপঝাড়৷ আলোন্সো বলেন, ‘‘এই ঝোপগুলো এখানে জমিটাকে ধরে রেখেছে, কেননা ওদের শিকড় বহু গভীর পর্যন্ত যায়৷ সেই সাথে আমরা এই ছোট গাছগুলোকে রেখেছি৷ ছোট গাছগুলো একা মাটির ক্ষয় রুখতে পারে না – সে কাজের জন্য ওরা এখনো বড়ই ছোট৷”

পর্যটন
টুরিস্ট গাইড হোসে ক্রুস ইয়াতাসের কফির চাষ আছে৷ হোসে এক পরিচিত লোকের কাছ থেকে কয়েক হেক্টার জমি ইজারা নিয়েছেন এবং সেখানে কফি ও কলাগাছ লাগিয়েছেন৷ এ সব গাছপালা তার নিজের লাগানো৷ গাছপালা লাগানো যাবৎ ফসল বেড়েছে, জানালেন হোসে৷ তিনি বলেন, ‘‘টুরিজম আজ সান মার্তিনের আশেপাশের এলাকার মানুষজনের পক্ষে একটা বিরাট লাভ, এখানকার সবার জন্যেই৷ টুরিস্টরা আজকাল বেশি করে আসছেন, এমনকি বিদেশ থেকেও৷ তারা পয়সা খরচ করেন, যা থেকে এখানকার মানুষজনের সত্যিই সাহায্য হয়৷”

কিন্তু হোসের টুরিস্টরা শুধু ততোদিনই আসবেন, যতোদিন বনজঙ্গল ভালো থাকবে৷

সূত্র : ডয়চে ভেল

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

মহাসত্যের সন্ধানে সালমান ফারসি (রা.)

জঙ্গল বাঁচিয়ে কফির চাষ

আপডেট টাইম : ০৯:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫

চা বাগানের মতো কফি চাষের ক্ষেত্রেও শেড ট্রি ছায়া দেয়৷ উত্তর পেরুর শামপুইয়াকু অঞ্চলে কফিঝোপের পাশে নানা ধরনের গাছ লাগানো হচ্ছে, শুধু ছায়া দেয়ার জন্য নয়, টুরিস্টদের মন কাড়ার জন্যও৷

পেরুর উত্তরে মূলত কফি চাষ করা হয়৷ বিশেষ করে বিশ্ববাজারে কফির দাম যখন বছরের পর বছর বেড়েই চলেছে৷

শামপুইয়াকু পৌর এলাকায় এককালে চার হাজার হেক্টার জঙ্গল ছিল, জঙ্গল বলতে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্য৷ আজ সেই বনভূমির মাত্র ছয় শ’ হেক্টার উদ্বৃত্ত৷ শামপুইয়াকু অঞ্চল আজ আইইউসিএন অর্থাৎ ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার’ সংগঠনের একটি অরণ্য সংরক্ষণ প্রকল্পের অঙ্গ৷

সংরক্ষণ
কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের আলোন্সো কাস্ত্রো বলেন, ‘‘আমরা বর্তমানে যা করছি – যেহেতু আমরা একদিকে অরণ্য সংরক্ষণে আগ্রহী, সেই কারণে আমরা কফি চাষিদের অন্যান্য নানা পদ্ধতি শেখাচ্ছি, যাতে তারা জঙ্গল না কেটে কিংবা পুড়িয়ে আরো বেশি পরিমাণে উচ্চ মানের কফি ফলাতে পারেন৷”

গ্রামের মহিলারা কফির আবাদের দিকে চলেছেন৷ তারাই প্রথম অরণ্য সংরক্ষণের কাজে শামিল হয়েছেন, রাসায়নিক সারের বদলে প্রকৃতিজাত সার ব্যবহার করা শুরু করেছেন৷ এভাবে ফসল বাড়াতে সক্ষম হয়েছেন৷ পুরুষরাও স্বভাবত এই সাফল্যে উদ্বুদ্ধ৷

শামপুইয়াকুর অধিবাসী এলিতা তিঙ্গাল বলেন, ‘‘এই প্রকল্পের আগে জঙ্গলের অবস্থা ভালো ছিল না৷ যা পাওয়া যায়, যেটুকু পাওয়া যায়, সব আমরা জঙ্গল থেকে নিতাম৷ আজ আমরা অন্যভাবে কাজ করি, জঙ্গলকে কিছু কিছু ফেরতও দিই৷”

গাঁয়ের মোড়ল টোমাস ওয়াহাহাই টুভিটস অতিথিদের তার ‘জঙ্গল কিন্ডারগার্টেন’ দেখাতে ভালোবাসেন৷ অন্য সব চাষির মতো তার বাড়ির পিছনেই কফিগাছ লাগিয়েছেন৷ কফিঝোপের পাশে কচি কচি গাছের চারা লাগানো হয়েছে, সব মিলিয়ে প্রায় হাজার খানেক৷ এগুলো কফিগাছের পাশাপাশি বেড়ে উঠবে৷

মোড়ল বলেন, ‘‘মানুষজনকে গাছ লাগাতে রাজি করাতে, তার সুবিধা বোঝাতে, খুব বেগ পেতে হয়েছে৷ আমরা সবার সাথে কথা বলেছি৷ আজ ক্রমেই আরো বেশি মানুষ তাই করছেন, কফি চাষের সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের গাছপালা লাগাচ্ছেন৷ পরে এই গাছগুলোই কফি বাগানে ছায়া দেবে৷”

মহিলা মহল
পৌরভবনে গাঁয়ের মহিলারা জঙ্গল থেকে কলা, আম, মুলো, নারকেল বিভিন্ন ফল নিয়ে আসেন৷ তারা কম বয়সী মেয়েদের বোঝান, এই সব ফল দিয়ে কী করা যায়, বনজঙ্গল ঠিক থাকলে তা থেকে কতো রকমের খাবার পাওয়া যায়, রোজগারের পথ খোলে৷ নানি-দাদির ঐতিহ্য এ ভাবে বেঁচে-বর্তে থাকছে৷ সেটাও প্রকল্পের অঙ্গ৷

কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের আলোন্সো কাস্ত্রো বলেন, ‘‘আমরা এখানে প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছি, জমির ক্ষয় রোধ করা, জঙ্গলের সুযোগ-সুবিধাগুলোর সদ্ব্যবহার করা৷ ফলমূল, চিকিৎসার জন্য জড়িবুটি, ঔষধি৷ তা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারাই লাভবান হন৷”

পৌরভবন থেকে বিশ মিনিট পায়ে হেঁটে নারানহিয়ো নদী৷ নদীতীরের ঘন জঙ্গল বহুদিন আগেই উধাও হয়েছে৷ নদীর স্রোতে পাড় ভাঙছে, কেননা গাছেদের শিকড়বাকড়ই মাটিকে ধরে রাখে৷

আলন্সো কাস্ত্রো এখানেও প্রচুর গাছ লাগিয়েছেন নদীতীরের খেতগুলোর ঠিক মাঝখানে৷ শুধু গাছই নয়, সেই সাথে প্রচুর ঝোপঝাড়৷ আলোন্সো বলেন, ‘‘এই ঝোপগুলো এখানে জমিটাকে ধরে রেখেছে, কেননা ওদের শিকড় বহু গভীর পর্যন্ত যায়৷ সেই সাথে আমরা এই ছোট গাছগুলোকে রেখেছি৷ ছোট গাছগুলো একা মাটির ক্ষয় রুখতে পারে না – সে কাজের জন্য ওরা এখনো বড়ই ছোট৷”

পর্যটন
টুরিস্ট গাইড হোসে ক্রুস ইয়াতাসের কফির চাষ আছে৷ হোসে এক পরিচিত লোকের কাছ থেকে কয়েক হেক্টার জমি ইজারা নিয়েছেন এবং সেখানে কফি ও কলাগাছ লাগিয়েছেন৷ এ সব গাছপালা তার নিজের লাগানো৷ গাছপালা লাগানো যাবৎ ফসল বেড়েছে, জানালেন হোসে৷ তিনি বলেন, ‘‘টুরিজম আজ সান মার্তিনের আশেপাশের এলাকার মানুষজনের পক্ষে একটা বিরাট লাভ, এখানকার সবার জন্যেই৷ টুরিস্টরা আজকাল বেশি করে আসছেন, এমনকি বিদেশ থেকেও৷ তারা পয়সা খরচ করেন, যা থেকে এখানকার মানুষজনের সত্যিই সাহায্য হয়৷”

কিন্তু হোসের টুরিস্টরা শুধু ততোদিনই আসবেন, যতোদিন বনজঙ্গল ভালো থাকবে৷

সূত্র : ডয়চে ভেল