ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড দারুণ ফিচার চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হারের নেপথ্যে শরীরে নেই পোশাক, ব্রাজিলীয় সুন্দরীর কান্ড মামলার কারণে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে আছে : শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কারণে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশু আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ৬ টুকরো : আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড সংসদে ‘অঙ্গুলিনির্দেশ’ এক্সপাঞ্জের দাবি হিলালীর, স্পিকার বললেন—‘করা যাবে না’ হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অপরিষ্কার পরিবেশ দেখে ক্ষোভ বাজেট-জনবল সংকটের অজুহাতে নাগরিক সেবা ব্যাহত করা যাবে না

শতাধিক কৃষক লাখপতি সবজির চারা উৎপাদনে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:১০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭
  • ৯৭৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ শীতকালীন সবজি উৎপাদন নয়, শুধুমাত্র বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে লাখপতি হয়েছেন যশোরের শতাধিক কৃষক।

মৌসুমের আষাঢ় মাস থেকে শুরু হওয়া চারা উৎপাদন চলতি কার্তিক মাসের শেষ অবধি চলবে। এতে একই জমিতে তিন বার পর্যন্ত বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করছে কৃষকরা। ইতোমধ্যে কোনো কোনো কৃষক সবজির চারা বিক্রি করে ৩/৫ লাখ টাকা লাভের মুখ দেখেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সবজি চাষে নামকরা যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ও চুড়ামনকাঠি ইউনিয়ন। ওই দুটি ইউনিয়নে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। অধিকাংশ জমিতে উন্নত পদ্ধতিতে মাচায় সবজি চাষ করা হয়। তবে সবজি চাষের পাশাপাশি দুই ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক ঝুঁকেছেন চারা উৎপাদনে।

চুড়ামনকাঠি ও হৈবতপুর এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের আষাঢ় মাস থেকে বীজতলা প্রস্তুত করে বাঁধাকপি ও ফুলকপির বীজ বপন করা হয়। ওই বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা গজালে তা পরিচর্যা করে এক মাস বয়সে তুলে অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে বাজারে প্রতিটি ভালো মানের প্রতিটি ফুলকপির চারা ১ টাকা ৮০ পয়সা এবং বাঁধা কপির চারা মানভেদে ৫৫ পয়সা থেকে ৭৫ পয়সা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। যশোরের ঝিকরগাছা, গদখালী, নাভারণ, চৌগাছা, মণিরামপুর ছাড়াও পাশ্ববর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার জীবনডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, নড়াইল, লোহাগড়া, সাতক্ষীরা, শ্যামনগর, কালীগঞ্জ এলাকার কৃষক ও সবজি চারার পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের পোলতাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম হাওর বার্তাকে বলেন, জন্মের পর জ্ঞান হওয়া থেকেই বাবা-দাদার হাত ধরে কৃষি কাজে নেমেছি। চলতি মৌসুমে তিনি নয় বিঘা  জমিতে সবজির চাষ করছেন। তবে, গত দুই বছরের মতো তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে বীজ বোপনের পর চারা উৎপাদন করে অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছেন। এতে তিনি লাভের মুখ দেখেছেন তিন ল‍াখ টাকা।

চারা উৎপাদনকারী কৃষকরা হাওর বার্তাকে জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ফুলকপির বীজ বপন করে চারা উৎপাদন পর্যন্ত (এক মাস) অন্তত দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়। তবে এতে তিন লাখ চারা উৎপাদন করে আনুসাঙ্গিক খরচ বাদেও অন্তত তিন লাখ টাকা বিক্রি হয়। পরবর্তীতে ওই চারা অন্য কৃষকরা কিনে অন্তত তিনমাস পরিচর্যা করে বিক্রির উপযোগী করে তোলে।

এছাড়া, প্রতি বিঘা জমিতে বাঁধাকপির বীজ বপন করে চারা উৎপাদন পর্যন্ত (এক মাস) অন্তত ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা খরচ হয়। তবে এতে উৎপাদিত চারা দুই লাখ থেকে দু্ই লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। তবে বীজ থেকে চারা উৎপাদনের পাশাপাশি এ সকল কৃষকরা সবজি উৎপাদন (খাওয়ার উপযোগী) করে বাড়তি আয়ও করছেন।

কৃষকদের মতে, ধানের তুলনায় সবজি চাষে বেশি লাভবান হওয়ায় তারা দিনদিন চাষের পরিধি বাড়াচ্ছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড

শতাধিক কৃষক লাখপতি সবজির চারা উৎপাদনে

আপডেট টাইম : ০৩:১০:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ শীতকালীন সবজি উৎপাদন নয়, শুধুমাত্র বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে লাখপতি হয়েছেন যশোরের শতাধিক কৃষক।

মৌসুমের আষাঢ় মাস থেকে শুরু হওয়া চারা উৎপাদন চলতি কার্তিক মাসের শেষ অবধি চলবে। এতে একই জমিতে তিন বার পর্যন্ত বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা উৎপাদন করছে কৃষকরা। ইতোমধ্যে কোনো কোনো কৃষক সবজির চারা বিক্রি করে ৩/৫ লাখ টাকা লাভের মুখ দেখেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সবজি চাষে নামকরা যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ও চুড়ামনকাঠি ইউনিয়ন। ওই দুটি ইউনিয়নে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। অধিকাংশ জমিতে উন্নত পদ্ধতিতে মাচায় সবজি চাষ করা হয়। তবে সবজি চাষের পাশাপাশি দুই ইউনিয়নের শতাধিক কৃষক ঝুঁকেছেন চারা উৎপাদনে।

চুড়ামনকাঠি ও হৈবতপুর এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মৌসুমের আষাঢ় মাস থেকে বীজতলা প্রস্তুত করে বাঁধাকপি ও ফুলকপির বীজ বপন করা হয়। ওই বীজ অঙ্কুরোদগমের মাধ্যমে চারা গজালে তা পরিচর্যা করে এক মাস বয়সে তুলে অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হয়। বর্তমানে বাজারে প্রতিটি ভালো মানের প্রতিটি ফুলকপির চারা ১ টাকা ৮০ পয়সা এবং বাঁধা কপির চারা মানভেদে ৫৫ পয়সা থেকে ৭৫ পয়সা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। যশোরের ঝিকরগাছা, গদখালী, নাভারণ, চৌগাছা, মণিরামপুর ছাড়াও পাশ্ববর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার জীবনডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, নড়াইল, লোহাগড়া, সাতক্ষীরা, শ্যামনগর, কালীগঞ্জ এলাকার কৃষক ও সবজি চারার পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

সদর উপজেলার চুড়ামনকাঠি ইউনিয়নের পোলতাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম হাওর বার্তাকে বলেন, জন্মের পর জ্ঞান হওয়া থেকেই বাবা-দাদার হাত ধরে কৃষি কাজে নেমেছি। চলতি মৌসুমে তিনি নয় বিঘা  জমিতে সবজির চাষ করছেন। তবে, গত দুই বছরের মতো তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে বীজ বোপনের পর চারা উৎপাদন করে অন্য কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছেন। এতে তিনি লাভের মুখ দেখেছেন তিন ল‍াখ টাকা।

চারা উৎপাদনকারী কৃষকরা হাওর বার্তাকে জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ফুলকপির বীজ বপন করে চারা উৎপাদন পর্যন্ত (এক মাস) অন্তত দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়। তবে এতে তিন লাখ চারা উৎপাদন করে আনুসাঙ্গিক খরচ বাদেও অন্তত তিন লাখ টাকা বিক্রি হয়। পরবর্তীতে ওই চারা অন্য কৃষকরা কিনে অন্তত তিনমাস পরিচর্যা করে বিক্রির উপযোগী করে তোলে।

এছাড়া, প্রতি বিঘা জমিতে বাঁধাকপির বীজ বপন করে চারা উৎপাদন পর্যন্ত (এক মাস) অন্তত ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা খরচ হয়। তবে এতে উৎপাদিত চারা দুই লাখ থেকে দু্ই লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। তবে বীজ থেকে চারা উৎপাদনের পাশাপাশি এ সকল কৃষকরা সবজি উৎপাদন (খাওয়ার উপযোগী) করে বাড়তি আয়ও করছেন।

কৃষকদের মতে, ধানের তুলনায় সবজি চাষে বেশি লাভবান হওয়ায় তারা দিনদিন চাষের পরিধি বাড়াচ্ছেন।