ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ঢাকার যানজট নিরসনে ৭ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের আশ্বাস দিয়ে ৬০ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ জ্বালানি সংকট ১৭ বছরের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: তিতুমীর মন্ত্রিসভায় সোমবার ফাইল উঠলে বৃহস্পতিবারই গেজেট ছয় মাসে দেশে কোনো গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাসনাত আব্দুল্লাহর দুঃখ প্রকাশের পর কওমি ছাত্রদের কর্মসূচি প্রত্যাহার বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম সবচেয়ে ভয়ংকর: প্রধানমন্ত্রী জনগণকে নিয়ে অপরাধ দমনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশ আইজিপির জলের বুকে লাল শাপলার নকশিকাঁথা শাড়িকাণ্ডের আরেক মামলায় তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ, নারাজি দেবেন বাদী

বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছেই

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৪৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৭
  • ৪৭৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বন্যার অজুহাতে বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। সবজি থেকে শুরু করে সব ধরনের খাদ্যপণ্য, ভোজ্য তেল ও মসলার দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অজুহাত একটাই, বন্যা; যদিও বন্যার কারণে সরবরাহে কোনো টান পড়েনি। পরিবহন খরচ সামান্য বাড়লেও বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। বরং পরিবহন খরচের তুলনায় মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক। ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার প্রবণতাই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মূল কারণ বলে ধরা হচ্ছে।

বাজারে মূল্যবৃদ্ধির এ প্রবণতা শুরু হয় চালের মূল্যবৃদ্ধি দিয়ে। হাওরে বন্যা পরিস্থিতির কারণে ফসল উঠতে পারেনি। সরকার দ্রুত চাল আমদানির ব্যবস্থা নিলেও বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। ওদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত বছরের এই সময়ে ভারতীয় যে চালের দাম ছিল ৩৬৭ ডলার, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৪০৪ ডলারে।

থাইল্যান্ডের যে চাল গত বছর টনপ্রতি ৩৯৪ ডলারে বিক্রি হয়েছে, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৪৭ ডলারে। সরকার চালের আমদানি শুল্ক সর্বনিম্ন নির্ধারণ করার পরও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে এখানে দাম স্থির থাকছে না। অবশ্য এর পেছনে ব্যবসায়ীদের কোনো কারসাজি নেই—এমন কথাও বলা যাবে না। ঘূর্ণিঝড় মোরা, পাহাড়ধস ও হাওর এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বর্ধিত হারে ত্রাণ বিতরণ এবং বোরো ফসল থেকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় চাল সংগ্রহ করতে না পারার জন্য মজুদ হ্রাস পায়। অনিবার্যভাবেই বাজারে তার প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে কাঁচা পণ্যের বাজারেও অব্যাহতভাবে মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে থাকে। খুচরা বাজারে আগে যে পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন পাইকারি বাজারেই ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। ৮০ টাকা কেজির কাঁচা মরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শিম ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেড়ে গেছে পুষ্টির সহজ উপাদান ডিমের দামও। আগে যে ডিম ডজনপ্রতি ৮০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা পর্যন্ত।

উৎপাদন ব্যাহত হলে বা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তা সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে গেলে সংকট দেখা দেবে। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি এখন থেকেই ভেবে দেখতে হবে। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের বাজার যাতে অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার যানজট নিরসনে ৭ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছেই

আপডেট টাইম : ১১:৪৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বন্যার অজুহাতে বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। সবজি থেকে শুরু করে সব ধরনের খাদ্যপণ্য, ভোজ্য তেল ও মসলার দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অজুহাত একটাই, বন্যা; যদিও বন্যার কারণে সরবরাহে কোনো টান পড়েনি। পরিবহন খরচ সামান্য বাড়লেও বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। বরং পরিবহন খরচের তুলনায় মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক। ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার প্রবণতাই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মূল কারণ বলে ধরা হচ্ছে।

বাজারে মূল্যবৃদ্ধির এ প্রবণতা শুরু হয় চালের মূল্যবৃদ্ধি দিয়ে। হাওরে বন্যা পরিস্থিতির কারণে ফসল উঠতে পারেনি। সরকার দ্রুত চাল আমদানির ব্যবস্থা নিলেও বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। ওদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত বছরের এই সময়ে ভারতীয় যে চালের দাম ছিল ৩৬৭ ডলার, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৪০৪ ডলারে।

থাইল্যান্ডের যে চাল গত বছর টনপ্রতি ৩৯৪ ডলারে বিক্রি হয়েছে, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৪৭ ডলারে। সরকার চালের আমদানি শুল্ক সর্বনিম্ন নির্ধারণ করার পরও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে এখানে দাম স্থির থাকছে না। অবশ্য এর পেছনে ব্যবসায়ীদের কোনো কারসাজি নেই—এমন কথাও বলা যাবে না। ঘূর্ণিঝড় মোরা, পাহাড়ধস ও হাওর এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বর্ধিত হারে ত্রাণ বিতরণ এবং বোরো ফসল থেকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় চাল সংগ্রহ করতে না পারার জন্য মজুদ হ্রাস পায়। অনিবার্যভাবেই বাজারে তার প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে কাঁচা পণ্যের বাজারেও অব্যাহতভাবে মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে থাকে। খুচরা বাজারে আগে যে পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন পাইকারি বাজারেই ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। ৮০ টাকা কেজির কাঁচা মরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে। বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শিম ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেড়ে গেছে পুষ্টির সহজ উপাদান ডিমের দামও। আগে যে ডিম ডজনপ্রতি ৮০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা পর্যন্ত।

উৎপাদন ব্যাহত হলে বা সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে বাজারে পণ্যের দাম বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তা সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে চলে গেলে সংকট দেখা দেবে। সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে সরকারকে বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টি এখন থেকেই ভেবে দেখতে হবে। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের বাজার যাতে অস্বাভাবিক হয়ে উঠতে না পারে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।