ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামাল : জন্মদিনে তোমায় স্মরি । অধ্যক্ষ আসাদুল হক

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০১৫
  • ৩০৩ বার

আজ ৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ শেখ কামালের ৬৬তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪৯ সালের এই দিনে তিনি তদানীন্তন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাত্রিতে মাত্র ২৬ বছর বয়সে ঘৃণ্য শত্রুদের নির্মম-নিষ্ঠুর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করেন।

শেখ কামালের জীবন অধ্যায়ের শুরুর কথা বঙ্গবন্ধু তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে লিখেছেন এভাবে, হাচু মাঝে মাঝে খেলা ফেলে আমার কাছে আসে আর ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ বলে ডাকে। কামাল চেয়ে থাকে। একসময় কামাল হাচিনাকে বলছে, ‘হাচু আপা, হাচু আপ, তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি।’ আমি আর রেণু দুজনেই শুনলাম। আস্তে আস্তে বিছানা থেকে উঠে যেয়ে ওকে কোলে নিয়ে বললাম, ‘আমি তো তোমারও আব্বা।’ কামাল আমার কাছে আসতে চাইত না। আজ গলা ধরে পড়ে রইল। বুঝতে পারলাম, এখন আর ও সহ্য করতে পারছে না। নিজের ছেলেও অনেকদিন না দেখলে ভুলে যায়! আমি যখন জেলে যাই তখন ওর বয়স মাত্র কয়েক মাস। রাজনৈতিক কারণে একজনকে বিনা বিচারে বন্দি করে রাখা আর তার আত্মীয়স্বজন ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে দূরে রাখা যে কত বড় জঘন্য কাজ তা কে বুঝবে? মানুষ স্বার্থের জন্য অন্ধ হয়ে যায়।’

বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী শহীদ শেখ কামাল শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি.এ. অনার্স পাস করেন। এছাড়া ছায়ানট-এর সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কর্মসূচির পাশাপাশি সমাজের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে সমাজ চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণে মঞ্চনাটক আন্দোলনে তিনি প্রথমসারির সংগঠক ছিলেন। বন্ধু শিল্পীদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী। শেখ কামাল ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অভিনেতা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। শৈশব থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবলসহ নানারকম খেলাধুলায় প্রচণ্ড উৎসাহ ছিল তাঁর। তিনি উপমহাদেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়াসংগঠন, বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। শহীদ শেখ কামাল আমাদের দেশে নান্দনিক ফুটবল ও ক্রিকেটসহ অন্যান্য দেশীয় খেলার মান উন্নয়নে অক্লান্ত শ্রম দিয়ে অপরিসীম অবদান রেখেছিলেন। নতুন নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টির লক্ষে প্রশিক্ষণ শিবির গড়া এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলন করতেন। ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক শেখ কামাল অমর হয়ে থাকবেন তার সৃষ্টি আবাহনীর মাঝে। বাংলাদেশ তাকে মনে রাখবে আধুনিক সামগ্রিক ফুটবলের জনক হিসাবে। শেখ কামালই প্রথম আবাহনীর মাধ্যমে বিদেশী কোচ এনে এদেশে আধুনিক ফুটবলের সূচনা করেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে যে দুজন মানুষ নিজস্ব ধারায় বাংলাদেশের সঙ্গীত ও ক্রীড়া জগতে বিশাল ভুমিকা রাখেন তাদের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পপগুরু আজম খান এবং অপরজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল। দুজনই স্বাধীন বাংলাদেশে আলাদাভাবে সঙ্গীত জগতে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণে অশেষ ভূমিকা রাখেন। আজ দুজনই প্রয়াত। দুজনই পরকালে শান্তিতে থাকুন এই কামনা করি।

শেখ কামাল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত, সংগ্রামী, আদর্শবাদী কর্মী হিসেবে ’৬৯-র গণঅভ্যুত্থান ও ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে যথোচিত ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ রাতে পাকহানাদারবাহিনী কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ৩২ নম্বর বাসভবন আক্রান্ত হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে বাড়ি থেকে বের হয়ে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশনন্ড লাভ করেন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর শেখ কামাল সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেন। সাহসী যোদ্ধা লে. শেখ কামাল পরে ক্যাপ্টেন হিসাবে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন এবং শাহাদাত বরণের সময় বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন সমাজবিজ্ঞান বিভাগে, প্রেমে পড়েন একই বিভাগের ছাত্রী, ক্রীড়াবিদ সুলতানার, যাকে সবাই পূর্ব পাকিস্তানের গোল্ডেন গার্ল (Golden Girl of East Pakistan) বলে ডাকতো। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু দেশবরেণ্য অ্যাথলেট সুলতানা খুকুর সাথে তাঁর বিয়ে হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদাত বরণের সময় তিনি সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের এম. এ শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পরে শহীদ শেখ কামালকে নিয়ে অনেক কুৎসা ছড়ানো হয় কিন্তু ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, সেগুলো মিথ্যা। শেখ কামাল নিহত হবার পর অবৈধ সেনাশাসক জিয়া ইনভেনটরি করেও শেখ কামালের নামে কোন বাড়ী, ব্যাংক ব্যালেন্স বা ইন্ডাস্ট্রি পায়নি। মিথ্যে দিয়ে সত্যকে আড়াল করা যায় না। সত্যের জয় অবশ্যসম্ভাবী। শেখ কামাল ছিলেন সদাই ছিলে বন্ধু-বাৎসল, তারঁ অনেক বন্ধুরাই কামালের বন্ধু প্রীতি গুণের কথা অকপটে আজো স্বীকার করেন । আজ তিনি বেঁচে থাকলে এই বয়সেও হয়তো বন্ধুদের ভালোবাসায় মাতিয়ে রাখতেন।

শুভ জন্মদিন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামাল। তোমায় লাল সালাম ও বিনম্র শ্রদ্ধা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামাল : জন্মদিনে তোমায় স্মরি । অধ্যক্ষ আসাদুল হক

আপডেট টাইম : ০২:০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০১৫

আজ ৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ শেখ কামালের ৬৬তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৪৯ সালের এই দিনে তিনি তদানীন্তন গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাত্রিতে মাত্র ২৬ বছর বয়সে ঘৃণ্য শত্রুদের নির্মম-নিষ্ঠুর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করেন।

শেখ কামালের জীবন অধ্যায়ের শুরুর কথা বঙ্গবন্ধু তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে লিখেছেন এভাবে, হাচু মাঝে মাঝে খেলা ফেলে আমার কাছে আসে আর ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ বলে ডাকে। কামাল চেয়ে থাকে। একসময় কামাল হাচিনাকে বলছে, ‘হাচু আপা, হাচু আপ, তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি।’ আমি আর রেণু দুজনেই শুনলাম। আস্তে আস্তে বিছানা থেকে উঠে যেয়ে ওকে কোলে নিয়ে বললাম, ‘আমি তো তোমারও আব্বা।’ কামাল আমার কাছে আসতে চাইত না। আজ গলা ধরে পড়ে রইল। বুঝতে পারলাম, এখন আর ও সহ্য করতে পারছে না। নিজের ছেলেও অনেকদিন না দেখলে ভুলে যায়! আমি যখন জেলে যাই তখন ওর বয়স মাত্র কয়েক মাস। রাজনৈতিক কারণে একজনকে বিনা বিচারে বন্দি করে রাখা আর তার আত্মীয়স্বজন ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে দূরে রাখা যে কত বড় জঘন্য কাজ তা কে বুঝবে? মানুষ স্বার্থের জন্য অন্ধ হয়ে যায়।’

বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী শহীদ শেখ কামাল শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি.এ. অনার্স পাস করেন। এছাড়া ছায়ানট-এর সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কর্মসূচির পাশাপাশি সমাজের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে সমাজ চেতনায় উদ্বুদ্ধকরণে মঞ্চনাটক আন্দোলনে তিনি প্রথমসারির সংগঠক ছিলেন। বন্ধু শিল্পীদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী। শেখ কামাল ছিলেন ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অভিনেতা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। শৈশব থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবলসহ নানারকম খেলাধুলায় প্রচণ্ড উৎসাহ ছিল তাঁর। তিনি উপমহাদেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়াসংগঠন, বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবলের প্রবর্তক আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। শহীদ শেখ কামাল আমাদের দেশে নান্দনিক ফুটবল ও ক্রিকেটসহ অন্যান্য দেশীয় খেলার মান উন্নয়নে অক্লান্ত শ্রম দিয়ে অপরিসীম অবদান রেখেছিলেন। নতুন নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টির লক্ষে প্রশিক্ষণ শিবির গড়া এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত অনুশীলন করতেন। ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক শেখ কামাল অমর হয়ে থাকবেন তার সৃষ্টি আবাহনীর মাঝে। বাংলাদেশ তাকে মনে রাখবে আধুনিক সামগ্রিক ফুটবলের জনক হিসাবে। শেখ কামালই প্রথম আবাহনীর মাধ্যমে বিদেশী কোচ এনে এদেশে আধুনিক ফুটবলের সূচনা করেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে যে দুজন মানুষ নিজস্ব ধারায় বাংলাদেশের সঙ্গীত ও ক্রীড়া জগতে বিশাল ভুমিকা রাখেন তাদের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও পপগুরু আজম খান এবং অপরজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কামাল। দুজনই স্বাধীন বাংলাদেশে আলাদাভাবে সঙ্গীত জগতে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণে অশেষ ভূমিকা রাখেন। আজ দুজনই প্রয়াত। দুজনই পরকালে শান্তিতে থাকুন এই কামনা করি।

শেখ কামাল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত, সংগ্রামী, আদর্শবাদী কর্মী হিসেবে ’৬৯-র গণঅভ্যুত্থান ও ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে যথোচিত ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ রাতে পাকহানাদারবাহিনী কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ৩২ নম্বর বাসভবন আক্রান্ত হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে বাড়ি থেকে বের হয়ে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ওয়ার কোর্সে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে মুক্তিবাহিনীতে কমিশনন্ড লাভ করেন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানির এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর শেখ কামাল সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি নিয়ে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করেন। সাহসী যোদ্ধা লে. শেখ কামাল পরে ক্যাপ্টেন হিসাবে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ছিলেন এবং শাহাদাত বরণের সময় বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সংগঠন জাতীয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন সমাজবিজ্ঞান বিভাগে, প্রেমে পড়েন একই বিভাগের ছাত্রী, ক্রীড়াবিদ সুলতানার, যাকে সবাই পূর্ব পাকিস্তানের গোল্ডেন গার্ল (Golden Girl of East Pakistan) বলে ডাকতো। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু দেশবরেণ্য অ্যাথলেট সুলতানা খুকুর সাথে তাঁর বিয়ে হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শাহাদাত বরণের সময় তিনি সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের এম. এ শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের পরে শহীদ শেখ কামালকে নিয়ে অনেক কুৎসা ছড়ানো হয় কিন্তু ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, সেগুলো মিথ্যা। শেখ কামাল নিহত হবার পর অবৈধ সেনাশাসক জিয়া ইনভেনটরি করেও শেখ কামালের নামে কোন বাড়ী, ব্যাংক ব্যালেন্স বা ইন্ডাস্ট্রি পায়নি। মিথ্যে দিয়ে সত্যকে আড়াল করা যায় না। সত্যের জয় অবশ্যসম্ভাবী। শেখ কামাল ছিলেন সদাই ছিলে বন্ধু-বাৎসল, তারঁ অনেক বন্ধুরাই কামালের বন্ধু প্রীতি গুণের কথা অকপটে আজো স্বীকার করেন । আজ তিনি বেঁচে থাকলে এই বয়সেও হয়তো বন্ধুদের ভালোবাসায় মাতিয়ে রাখতেন।

শুভ জন্মদিন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শেখ কামাল। তোমায় লাল সালাম ও বিনম্র শ্রদ্ধা।