ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড দারুণ ফিচার চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হারের নেপথ্যে শরীরে নেই পোশাক, ব্রাজিলীয় সুন্দরীর কান্ড মামলার কারণে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে আছে : শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কারণে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশু আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ৬ টুকরো : আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড সংসদে ‘অঙ্গুলিনির্দেশ’ এক্সপাঞ্জের দাবি হিলালীর, স্পিকার বললেন—‘করা যাবে না’ হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অপরিষ্কার পরিবেশ দেখে ক্ষোভ বাজেট-জনবল সংকটের অজুহাতে নাগরিক সেবা ব্যাহত করা যাবে না

শীতের সবজি মিলছে বর্ষায়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:০১:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০১৭
  • ৩৩৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  সবজির মতো টমেটোতে রেকর্ড গড়েছে যশোর। এই তথ্য জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। একসময় গ্রীষ্মকালে টমোটোর স্বাদ পাওয়া যেত না। যশোরের বাঘারপাড়াসহ বিভিন্ন মাঠের মাচায় থরে থরে ঝুলে আছে কাঁচাপাকা বর্ষাকালীন টমেটো। দেখতে অবিকল আঙ্গুরের মতো। টমেটো সাধারণত শীতকালীন সবজি। এখন পুরাদমে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা বলেছেন, চাষিরা টমেটো আবাদ করে লাভবান হয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধীনস্থ উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রের সবজি বিভাগ বিভিন্ন প্রকার সবজির নতুন নতুন উচ্চফলনশীল ও গুনগত মানসম্পন্ন জাত উদ্ভাবন করছে। গবেষণার ফলাফল হিসেবে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর কয়েকটি জাত কৃষক পর্যায়ে চাষের জন্য ২০১২ সালে মুক্তায়িত করা হয়। গ্রীষ্মকালীন টমেটোর জাতগুলো বাংলাদেশের আবহাওয়ায় টমেটো উৎপাদনে সক্ষম। পরীক্ষামূলকভাবে যশোরে নতুন উদ্ভাবিত গ্রীষ্মকালীন জাতের হাইব্রিড টমেটো আবাদ শুরু হয়। যশোরে নেটহাউজ পদ্ধতিতে টমেটো আবাদ ও উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া পড়ে চাষিদের মাঝে। বর্তমানে যশোরের হাট-বাজারে প্রচুর বর্ষাকালীন টমেটো পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে টমেটো অভ্যন্তরীণ চালান হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে।
সংশ্লিষ্টদের হিসাবমতে, প্রতিবিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো আবাদ করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আয় করা যাচ্ছে খরচাদি বাদে। একবার আবাদ করে কয়েকমাস টমেটো পাওয়া যায়। যার জন্য খরচও হয় কম। টমেটো চাষীরা জানিয়েছেন, চারা লাগানোর ৬০ দিনের মধ্যে পাকা টমেটো জমি থেকে সংগ্রহ করা যায়। কাঁচা টমেটো সংগ্রহ হয় তার আগেই। মাচায় টমেটো আবাদের কারণে গাছে পোকা মাকড়ের আক্রমণ খুব একটা হয় না। সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় একেবারেই কম। টমেটো অবাদ ও উৎপাদনের বিরাট সাফল্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও খুশী। সেজন্য মাঠে মাঠে চাষীদের মাঝে টমেটোর উৎপাদন প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট।
কৃষি বিজ্ঞানীরা জানান, টমেটোর গাছ বাঁচিয়ে রাখতে বাঁশের কাঠামোতে নৌকার ছইয়ের আকৃতি করে স্বচ্ছ পলিথিনের ছাউনি দিতে হয়। তাতে টমেটো নষ্ট হয় না। নতুন চাষ পদ্ধতিতে নতুন জাতের গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ ও উৎপাদন বেড়েছে যশোরের বিভিন্ন মাঠে। কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রযুক্তি নিয়ে মাঠে মাঠে কৃষকরা এখন হাইব্রিড টমেটো আবাদ ও উৎপাদন করছে। চাষি ও সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা গ্রীষ্মকালীন টমেটোর ফলন দেখে অভিভুত হন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড

শীতের সবজি মিলছে বর্ষায়

আপডেট টাইম : ১০:০১:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০১৭

হাওর বার্তা ডেস্কঃ  সবজির মতো টমেটোতে রেকর্ড গড়েছে যশোর। এই তথ্য জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। একসময় গ্রীষ্মকালে টমোটোর স্বাদ পাওয়া যেত না। যশোরের বাঘারপাড়াসহ বিভিন্ন মাঠের মাচায় থরে থরে ঝুলে আছে কাঁচাপাকা বর্ষাকালীন টমেটো। দেখতে অবিকল আঙ্গুরের মতো। টমেটো সাধারণত শীতকালীন সবজি। এখন পুরাদমে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা বলেছেন, চাষিরা টমেটো আবাদ করে লাভবান হয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধীনস্থ উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রের সবজি বিভাগ বিভিন্ন প্রকার সবজির নতুন নতুন উচ্চফলনশীল ও গুনগত মানসম্পন্ন জাত উদ্ভাবন করছে। গবেষণার ফলাফল হিসেবে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর কয়েকটি জাত কৃষক পর্যায়ে চাষের জন্য ২০১২ সালে মুক্তায়িত করা হয়। গ্রীষ্মকালীন টমেটোর জাতগুলো বাংলাদেশের আবহাওয়ায় টমেটো উৎপাদনে সক্ষম। পরীক্ষামূলকভাবে যশোরে নতুন উদ্ভাবিত গ্রীষ্মকালীন জাতের হাইব্রিড টমেটো আবাদ শুরু হয়। যশোরে নেটহাউজ পদ্ধতিতে টমেটো আবাদ ও উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া পড়ে চাষিদের মাঝে। বর্তমানে যশোরের হাট-বাজারে প্রচুর বর্ষাকালীন টমেটো পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে টমেটো অভ্যন্তরীণ চালান হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে।
সংশ্লিষ্টদের হিসাবমতে, প্রতিবিঘা জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটো আবাদ করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আয় করা যাচ্ছে খরচাদি বাদে। একবার আবাদ করে কয়েকমাস টমেটো পাওয়া যায়। যার জন্য খরচও হয় কম। টমেটো চাষীরা জানিয়েছেন, চারা লাগানোর ৬০ দিনের মধ্যে পাকা টমেটো জমি থেকে সংগ্রহ করা যায়। কাঁচা টমেটো সংগ্রহ হয় তার আগেই। মাচায় টমেটো আবাদের কারণে গাছে পোকা মাকড়ের আক্রমণ খুব একটা হয় না। সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় একেবারেই কম। টমেটো অবাদ ও উৎপাদনের বিরাট সাফল্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও খুশী। সেজন্য মাঠে মাঠে চাষীদের মাঝে টমেটোর উৎপাদন প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান দেয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট।
কৃষি বিজ্ঞানীরা জানান, টমেটোর গাছ বাঁচিয়ে রাখতে বাঁশের কাঠামোতে নৌকার ছইয়ের আকৃতি করে স্বচ্ছ পলিথিনের ছাউনি দিতে হয়। তাতে টমেটো নষ্ট হয় না। নতুন চাষ পদ্ধতিতে নতুন জাতের গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ ও উৎপাদন বেড়েছে যশোরের বিভিন্ন মাঠে। কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রযুক্তি নিয়ে মাঠে মাঠে কৃষকরা এখন হাইব্রিড টমেটো আবাদ ও উৎপাদন করছে। চাষি ও সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা গ্রীষ্মকালীন টমেটোর ফলন দেখে অভিভুত হন।