ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী ওএসডি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তিন যুগ পর ভোটগ্রহণ অধিবেশন ডাকা হবে না: চিফ হুইপ ম্যানেজিং কমিটির হাতে যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রদল সভাপতি বললেন ‘গুজব’ ঢাকায় ‘র’ প্রধানের রহস্যজনক সফর আদালতে আসেননি পরীমনি, মাদক মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানি পেছাল ‘ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, গায়ে পড়ে ঝগড়া বাধাতে আসবেন না’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন বিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও থাকছে না পোস্টার, আচরণবিধি চূড়ান্ত করল ইসি

মওদুদ সাহেব, ৮২ সালের উচ্ছেদ ভুলি নাই, ভুলবো না

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০১৭
  • ৩৮৮ বার

১০০ টাকায় দলিল করা প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বাড়ি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর চরমভাবে ক্ষুব্ধ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। রাজউক বাড়িটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সিলগালা করে দিয়েছে।

মওদুদের অভিযোগ, উচ্চ আদালত তার বাড়ির মালিকানা অবৈধ ঘোষণা করলেও রাজউক বিনা নোটিশে তাকে উচ্ছেদ করে বেআইনি কাজ করেছে। আর এর প্রতিবাদে তিনি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছেন।

তবে, মওদুদের এই বক্তব্যের জবাবে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ। শাওন জানান, ১৯৮২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের দেয়া বাড়ি থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়। আর সেটাও করা হয় এক দিনের নোটিশে।

গুলশান-২ এর ১৫৯ নম্বরের যে বাড়িতে মওদুদ তিন দশক ধরে থাকছেন, সেটি তিনি অবৈধভাবে দখল করেছেন বলে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত।

গত ৪ জুন আপিল বিভাগ এই রায় দেয়ার পর বুধবার সেই বাড়ি থেকে মওদুদকে উচ্ছেদ করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে মওদুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেন তাকে নোটিশ না দিয়ে উচ্ছেদ করা হল।

বাড়ির সামনে দাঁড়ানো মওদুদের ছবিটির কথা উল্লেখ করে বুদ্ধিজীবী কন্যা লেখেন, অনেক শরীর খারাপেও এই ছবিটা আমাকে সকাল সকাল সোজা করে দাঁড়িয়ে দিলো। দেশ স্বাধীন হবার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শহীদ পরিবারদের বেশ কিছু বাড়ি নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে উপহার দিয়েছিলেন। তার মধ্যে আমাদের বাড়িটি ছিল ১ নং মালিবাগ।

শাওন বলেন, ৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একদিনের নোটিশে সে বাড়িটি থেকে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়। একটা কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে স্যুটকেসের ওপর মা বসিয়ে রেখেছিলেন আমায়। বসে বসে পুলিশের তাণ্ডব দেখেছিলাম সেদিন। দোতলা থেকে বাবার ব্যাগ ফেলছিল ওরা। এলপি রেকর্ডগুলা চূর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলছিল বারান্দা থেকে। নীচের তলার সংগীত স্কুলের হারমোনিয়াম তবলা তানপুরা উঠোনের এখান ওখানে ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলছিল ওরা। আমি জানতাম না রাতে কোথায় থাকব সেদিন।

শাওন ফেসবুকে লেখেন,সেই উচ্ছেদ প্রকল্পের প্রধান উদোক্তা মওদুদকে স্যুট পরে মাধবীলতা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে তার উচ্ছেদ হওয়া বাসার সামনে বলতে শুনলাম যে, তিনি (মওদুদ) ফুটপাতে থাকবেন। হা হা হা মওদুদ সাহেব. ৮২ সালের উচ্ছেদ ভুলি নাই। ভুলবো না। ইটটি মারিলে পাটকেলটি খাইতে হয়। ওহ্ আরেকটা কথা, সেদিন আমরা যদিও জানতাম না কোথায় থাকবো তারপরও ফুটপাতে থাকবার কথা ভাবিনি। প্রতিবেশীর খালি বাসাটা তাৎক্ষণিক ভাড়া নিয়ে নিয়েছিলাম আমরা।’

শেষে শাওন মাহমুদ লেখেন, আমি একশো বছর বাঁচবো। হিসাব নিয়ে তারপর যাবো। ‘

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি হেফাজতের

মওদুদ সাহেব, ৮২ সালের উচ্ছেদ ভুলি নাই, ভুলবো না

আপডেট টাইম : ০৮:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জুন ২০১৭

১০০ টাকায় দলিল করা প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বাড়ি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর চরমভাবে ক্ষুব্ধ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। রাজউক বাড়িটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সিলগালা করে দিয়েছে।

মওদুদের অভিযোগ, উচ্চ আদালত তার বাড়ির মালিকানা অবৈধ ঘোষণা করলেও রাজউক বিনা নোটিশে তাকে উচ্ছেদ করে বেআইনি কাজ করেছে। আর এর প্রতিবাদে তিনি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেছেন।

তবে, মওদুদের এই বক্তব্যের জবাবে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ। শাওন জানান, ১৯৮২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকারের দেয়া বাড়ি থেকে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়। আর সেটাও করা হয় এক দিনের নোটিশে।

গুলশান-২ এর ১৫৯ নম্বরের যে বাড়িতে মওদুদ তিন দশক ধরে থাকছেন, সেটি তিনি অবৈধভাবে দখল করেছেন বলে রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত।

গত ৪ জুন আপিল বিভাগ এই রায় দেয়ার পর বুধবার সেই বাড়ি থেকে মওদুদকে উচ্ছেদ করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে মওদুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কেন তাকে নোটিশ না দিয়ে উচ্ছেদ করা হল।

বাড়ির সামনে দাঁড়ানো মওদুদের ছবিটির কথা উল্লেখ করে বুদ্ধিজীবী কন্যা লেখেন, অনেক শরীর খারাপেও এই ছবিটা আমাকে সকাল সকাল সোজা করে দাঁড়িয়ে দিলো। দেশ স্বাধীন হবার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শহীদ পরিবারদের বেশ কিছু বাড়ি নামমাত্র অর্থের বিনিময়ে উপহার দিয়েছিলেন। তার মধ্যে আমাদের বাড়িটি ছিল ১ নং মালিবাগ।

শাওন বলেন, ৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একদিনের নোটিশে সে বাড়িটি থেকে আমাদের উচ্ছেদ করা হয়। একটা কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে স্যুটকেসের ওপর মা বসিয়ে রেখেছিলেন আমায়। বসে বসে পুলিশের তাণ্ডব দেখেছিলাম সেদিন। দোতলা থেকে বাবার ব্যাগ ফেলছিল ওরা। এলপি রেকর্ডগুলা চূর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলছিল বারান্দা থেকে। নীচের তলার সংগীত স্কুলের হারমোনিয়াম তবলা তানপুরা উঠোনের এখান ওখানে ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলছিল ওরা। আমি জানতাম না রাতে কোথায় থাকব সেদিন।

শাওন ফেসবুকে লেখেন,সেই উচ্ছেদ প্রকল্পের প্রধান উদোক্তা মওদুদকে স্যুট পরে মাধবীলতা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে তার উচ্ছেদ হওয়া বাসার সামনে বলতে শুনলাম যে, তিনি (মওদুদ) ফুটপাতে থাকবেন। হা হা হা মওদুদ সাহেব. ৮২ সালের উচ্ছেদ ভুলি নাই। ভুলবো না। ইটটি মারিলে পাটকেলটি খাইতে হয়। ওহ্ আরেকটা কথা, সেদিন আমরা যদিও জানতাম না কোথায় থাকবো তারপরও ফুটপাতে থাকবার কথা ভাবিনি। প্রতিবেশীর খালি বাসাটা তাৎক্ষণিক ভাড়া নিয়ে নিয়েছিলাম আমরা।’

শেষে শাওন মাহমুদ লেখেন, আমি একশো বছর বাঁচবো। হিসাব নিয়ে তারপর যাবো। ‘