ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড দারুণ ফিচার চালু করছে হোয়াটসঅ্যাপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হারের নেপথ্যে শরীরে নেই পোশাক, ব্রাজিলীয় সুন্দরীর কান্ড মামলার কারণে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি আটকে আছে : শিক্ষামন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কারণে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশু আয়াতকে হত্যার পর মরদেহ ৬ টুকরো : আসামি আবীরের মৃত্যুদণ্ড সংসদে ‘অঙ্গুলিনির্দেশ’ এক্সপাঞ্জের দাবি হিলালীর, স্পিকার বললেন—‘করা যাবে না’ হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অপরিষ্কার পরিবেশ দেখে ক্ষোভ বাজেট-জনবল সংকটের অজুহাতে নাগরিক সেবা ব্যাহত করা যাবে না

মটর মেকানিক সোহেল রানার অভিনব স্পীডবোট আবিস্কার

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪১:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৭
  • ৪৩৬ বার

সড়কপথের অন্যতম বাহন মটরসাইকেল যদি নদীপথে ঠিক একইভাবে চলাচল করে তাহলে বিষয়টি কেমন দেখাবে? জ্বী, ঠিকই ধরেছেন। এমনটি সত্যিই অভিনব ব্যাপার হবে। আর এই অভিনব ব্যাপারটিই করে দেখিয়েছেন বরগুনার পূর্ব বুড়িরচর গ্রামের মো. সোহেল রানা (৩২)।

মটর সাইকেলের পুরনো বডি ব্যবহার করে দ্রুতগতিসম্পন্ন স্পীডবোট তৈরি করেছেন বরগুনার পূর্ব বুড়িরচর গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের ফরিদ হাওলাদারের ছেলে সোহেল রানা। পেশায় মটর মেকানিক সোহেল রানার তৈরিকৃত স্পীডবোট ৩ জন যাত্রী নিয়ে ১ লিটার তৈল ব্যবহার করে নদীপথের প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়া সম্ভব।

সোহেল রানা এর আগেও বেশ কয়েকবার এরকম স্পীডবোট তৈরি করে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছিল। নানাবিধ কারণে বিগত দিনে তাঁর তৈরি করা স্পীডবোট আশানুরূপ সাফল্যের মুখ দেখতে না পারলেও অবশেষে সফল হলেন সোহেল রানা।

অভিনব স্পীডবোটের আবিস্কারক মটর মেকানিক সোহেল রানা জানান, আমি খুব ছোটবেলা থেকেই ব্যতিক্রম কিছু করার জন্য চিন্তা-ভাবনা করতাম। কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে খুব একটা কুলিয়ে উঠতে পারতাম না।

সোহেল রানা আরও বলেন, এই স্পীডবোট তৈরি করতে গিয়ে বিভিন্ন মানুষের অনেক বাজে কথা শুনতে হয়েছে। ‘কাম-কাজ না কইরা আমি নাকি অযথাই সময় নষ্ট করতাছি’ এরকম অভিযোগ শুনতে হয়েছে এই গত দুই দিন আগে থেকেও।

সফলভাবে স্পীডবোটটি নদীতে চলাচলের পর থেকে অবশ্য ‘বাজে কথা’ বলা লোকগুলো এখন সোহেল রানাকে ব্যাপক উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে!

স্পীডবোট তৈরি করতে গিয়ে অনেক সময় বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন পড়তো। দিনের আলোয় এসব কাজ করতে গেলে লোকজনের মন্দ কথা শুনতে হবে বলে রাতের অন্ধকারেও কাজ করতে হয়েছে সোহেল রানাকে।

অভিনব স্পীডবোটটি তৈরিতে সোহেল রানার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। একজন মটর মেকানিকের পক্ষে ৬০ হাজার বিরাট অংকের অর্থ। দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল হিসেবে জমানো টাকাগুলো দিয়ে এরকম স্পীডবোট তৈরি করা রীতিমত দুঃসাহসিকতার কাজ সোহেল রানাদের মতো নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে।

সোহেল রানার সাথে আলাপকালে জানা যায়, তিনি এরকম অভিনব কাজ আরো করে দেখাতে চান। এমনকি এর থেকেও বেশি কিছু। সরকারি কিংবা বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতা পেলে সোহেল রানা ‘উড়ন্ত স্পীডবোটও’ তৈরি করে দেখাতে পারবেন বলে বেশ ‘আত্মবিশ্বাসের’ সাথেই জানিয়েছেন তিনি।

প্রয়োজনে যথাযথ খোঁজ-খবর নিয়ে এবং তাঁর (সোহেল রানা) ‘ভাবনাগুলো’ গ্রহণযোগ্য মনে হলেও যেন অন্তত কেউ এগিয়ে এসে তাকে সহযোগিতা করে এমনটাই প্রত্যাশা আত্মবিশ্বাসী মটর মেকানিক সোহেল রানার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড

মটর মেকানিক সোহেল রানার অভিনব স্পীডবোট আবিস্কার

আপডেট টাইম : ১০:৪১:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ এপ্রিল ২০১৭

সড়কপথের অন্যতম বাহন মটরসাইকেল যদি নদীপথে ঠিক একইভাবে চলাচল করে তাহলে বিষয়টি কেমন দেখাবে? জ্বী, ঠিকই ধরেছেন। এমনটি সত্যিই অভিনব ব্যাপার হবে। আর এই অভিনব ব্যাপারটিই করে দেখিয়েছেন বরগুনার পূর্ব বুড়িরচর গ্রামের মো. সোহেল রানা (৩২)।

মটর সাইকেলের পুরনো বডি ব্যবহার করে দ্রুতগতিসম্পন্ন স্পীডবোট তৈরি করেছেন বরগুনার পূর্ব বুড়িরচর গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের ফরিদ হাওলাদারের ছেলে সোহেল রানা। পেশায় মটর মেকানিক সোহেল রানার তৈরিকৃত স্পীডবোট ৩ জন যাত্রী নিয়ে ১ লিটার তৈল ব্যবহার করে নদীপথের প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়া সম্ভব।

সোহেল রানা এর আগেও বেশ কয়েকবার এরকম স্পীডবোট তৈরি করে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছিল। নানাবিধ কারণে বিগত দিনে তাঁর তৈরি করা স্পীডবোট আশানুরূপ সাফল্যের মুখ দেখতে না পারলেও অবশেষে সফল হলেন সোহেল রানা।

অভিনব স্পীডবোটের আবিস্কারক মটর মেকানিক সোহেল রানা জানান, আমি খুব ছোটবেলা থেকেই ব্যতিক্রম কিছু করার জন্য চিন্তা-ভাবনা করতাম। কিন্তু পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে খুব একটা কুলিয়ে উঠতে পারতাম না।

সোহেল রানা আরও বলেন, এই স্পীডবোট তৈরি করতে গিয়ে বিভিন্ন মানুষের অনেক বাজে কথা শুনতে হয়েছে। ‘কাম-কাজ না কইরা আমি নাকি অযথাই সময় নষ্ট করতাছি’ এরকম অভিযোগ শুনতে হয়েছে এই গত দুই দিন আগে থেকেও।

সফলভাবে স্পীডবোটটি নদীতে চলাচলের পর থেকে অবশ্য ‘বাজে কথা’ বলা লোকগুলো এখন সোহেল রানাকে ব্যাপক উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে!

স্পীডবোট তৈরি করতে গিয়ে অনেক সময় বিভিন্ন ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন পড়তো। দিনের আলোয় এসব কাজ করতে গেলে লোকজনের মন্দ কথা শুনতে হবে বলে রাতের অন্ধকারেও কাজ করতে হয়েছে সোহেল রানাকে।

অভিনব স্পীডবোটটি তৈরিতে সোহেল রানার খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। একজন মটর মেকানিকের পক্ষে ৬০ হাজার বিরাট অংকের অর্থ। দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল হিসেবে জমানো টাকাগুলো দিয়ে এরকম স্পীডবোট তৈরি করা রীতিমত দুঃসাহসিকতার কাজ সোহেল রানাদের মতো নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে।

সোহেল রানার সাথে আলাপকালে জানা যায়, তিনি এরকম অভিনব কাজ আরো করে দেখাতে চান। এমনকি এর থেকেও বেশি কিছু। সরকারি কিংবা বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতা পেলে সোহেল রানা ‘উড়ন্ত স্পীডবোটও’ তৈরি করে দেখাতে পারবেন বলে বেশ ‘আত্মবিশ্বাসের’ সাথেই জানিয়েছেন তিনি।

প্রয়োজনে যথাযথ খোঁজ-খবর নিয়ে এবং তাঁর (সোহেল রানা) ‘ভাবনাগুলো’ গ্রহণযোগ্য মনে হলেও যেন অন্তত কেউ এগিয়ে এসে তাকে সহযোগিতা করে এমনটাই প্রত্যাশা আত্মবিশ্বাসী মটর মেকানিক সোহেল রানার।