ঢাকা ০২:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

সবুজ ধান ক্ষেতের ফাঁকে ফাঁকে হাজার ভিটায় ফলে নানা ফসল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:৫৭:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মার্চ ২০১৭
  • ৩৮৭ বার

বসন্তে বদলে গেছে আড়িয়ল বিলের সৌন্দর্য। শীত শেষের বসন্তেও এখন এ বিলজুড়ে হাসছে শাক-সবজির ক্ষেত। রোপন করা ধানের জমির ফাঁকে ফাঁকে জলাধারে মিলছে হরেক প্রজাতির মাছ। ক্ষেতের আইলে আলো ছড়াচ্ছে মিষ্টি কুমড়‍া-লাউ। দল বেঁধে শাক তুলছে কিশোরীর দল। মৌসুমের কিছুটা অবসরে মেলা বসছে বিভিন্ন স্থানে। সবমিলিয়ে তাই বসন্তে অনেক প্রাণবন্ত আড়িয়ল বিলের জীবন-জীবিকা।

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলায় এই জলাভূমির অবস্থান। তবে বেশির ভাগ অংশ পড়েছে মুন্সীগঞ্জে। মুন্সীগঞ্জের ৭ হাজার ৯৭০ হেক্টর আবাদযোগ্য ভূমি রয়েছে আড়িয়ল বিলে। বছরের সব ঋতুতেই এখানে ফলন হয়। বর্ষায় মাছে ভরা থাকে। এই মাছ পাওয়া যায় মাঠ শুকানোর আগ পর্যন্ত।

শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের গাদিঘাটা এলাকায় পাইকারী করলা ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, আড়িয়ল বিলে প্রচুর করলা হয়। এখান থেকে আমরা মাল কারওয়ানবাজার, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর ইত্যাদী এলাকার আড়তে পাঠাই। সেখান থেকে যায় সারা বাংলাদেশে। প্রতিদিন শ’চারেক মণ করলা এখান থেকে বাজারজাত হয়।আড়িয়ল বিলের মেলা। ছবি: আল মামুন
কুমড়ার এবার ফলন ভাল হওয়ায় খুশি স্থানীয় ছালাম মিয়া। তিনি বলেন, আড়িয়ল বিলের মিষ্টি কুমড়া সেরা। আমার পাঁচটি ভিটায় এবার ৫/৬ গাড়ি (মাঝারি ট্রাক) কুমড়া হয়েছে। এখানকার একটি কুমড়া সর্বোচ্চ দেড় মণেরও বেশি হয় এবং বিভিন্ন সাইজের হতে পারে। এখান থেকে ভাল লাভ হয়েছে এবার। ষোল আনার মধ্যে চারআনা খরচ আর বারো আনাই লাভ। ফালগুনে প্রতিদিন আড়িয়ল বিলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অন্তত ১০ ট্রাক কুমড়া বাজারে যায়। মাঠে এখনও অনেক কুমড়া আছে।

সবুজ ধান ক্ষেতের ফাঁকে ফাঁকে কয়েক হাজার ভিটায় ফলে আরো নানা ফসল। লাউ, কলা, বেগুন ইত্যাদি ফলে এখানে। ক্ষেতের আইলে (দুই ক্ষেতের মাঝে সরু রাস্তা) পাওয়া যায় হেচি শাক, ক্ষুদুইরা শাক ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের শাক। এখানকার মানুষের অনেক কিছুই কিনে খেতে হয় না, বিলেই পাওয়া যায়। এখানকার নারী-কিশোরীদের অবসরের সবচেয়ে ভাল বিনোদন দল বেঁধে শাক তোলা। মোট কথা, উৎপাদনশীল আড়িয়ল বিলকে সবাই উপভোগ করে যে যার যার মতো। লাউ নিয়ে নিজের ভিটা থেকে ফেরার সময় আব্দুল বাতেন বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের খাবার নিয়ে আল্লাহর রহমতে চিন্তা করতে হয় না।

শীত জুড়ে শুকিয়ে আসা পুরো বিলের অসংখ্য জলাধারে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ মাছ। মাছ ধরায় ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকেই। বশির মিয়া বলেন, আমার ভিটার পাশে একটা ডোবা আছে, সেখান থেকে ভাল পরিমাণ মাছ পাই। আত্মীয়-স্বজন নিয়ে খাওয়ার পরেও বিক্রি করা যায়। সব মিলিয়ে ভাল আছি।আড়িয়ল বিলের করল্লা। ছবি: আল মামুন
বসন্তে আড়িয়ল বিলের আশপাশের মানুষের আপাতত কর্মব্যস্ততা তুলনামূলক কম। তাই এখানে বিভিন্ন জায়গায় বসে মেলা। বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয় ওয়াজ মাহফিল। বিল পাড়ের মানুষে সব ঋতুতেই এমনই ভালো থাকে, প্রাণবন্ত থাকে। বাংলানিউজ

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

সবুজ ধান ক্ষেতের ফাঁকে ফাঁকে হাজার ভিটায় ফলে নানা ফসল

আপডেট টাইম : ১২:৫৭:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মার্চ ২০১৭

বসন্তে বদলে গেছে আড়িয়ল বিলের সৌন্দর্য। শীত শেষের বসন্তেও এখন এ বিলজুড়ে হাসছে শাক-সবজির ক্ষেত। রোপন করা ধানের জমির ফাঁকে ফাঁকে জলাধারে মিলছে হরেক প্রজাতির মাছ। ক্ষেতের আইলে আলো ছড়াচ্ছে মিষ্টি কুমড়‍া-লাউ। দল বেঁধে শাক তুলছে কিশোরীর দল। মৌসুমের কিছুটা অবসরে মেলা বসছে বিভিন্ন স্থানে। সবমিলিয়ে তাই বসন্তে অনেক প্রাণবন্ত আড়িয়ল বিলের জীবন-জীবিকা।

ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও সিরাজদিখান উপজেলায় এই জলাভূমির অবস্থান। তবে বেশির ভাগ অংশ পড়েছে মুন্সীগঞ্জে। মুন্সীগঞ্জের ৭ হাজার ৯৭০ হেক্টর আবাদযোগ্য ভূমি রয়েছে আড়িয়ল বিলে। বছরের সব ঋতুতেই এখানে ফলন হয়। বর্ষায় মাছে ভরা থাকে। এই মাছ পাওয়া যায় মাঠ শুকানোর আগ পর্যন্ত।

শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের গাদিঘাটা এলাকায় পাইকারী করলা ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, আড়িয়ল বিলে প্রচুর করলা হয়। এখান থেকে আমরা মাল কারওয়ানবাজার, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর ইত্যাদী এলাকার আড়তে পাঠাই। সেখান থেকে যায় সারা বাংলাদেশে। প্রতিদিন শ’চারেক মণ করলা এখান থেকে বাজারজাত হয়।আড়িয়ল বিলের মেলা। ছবি: আল মামুন
কুমড়ার এবার ফলন ভাল হওয়ায় খুশি স্থানীয় ছালাম মিয়া। তিনি বলেন, আড়িয়ল বিলের মিষ্টি কুমড়া সেরা। আমার পাঁচটি ভিটায় এবার ৫/৬ গাড়ি (মাঝারি ট্রাক) কুমড়া হয়েছে। এখানকার একটি কুমড়া সর্বোচ্চ দেড় মণেরও বেশি হয় এবং বিভিন্ন সাইজের হতে পারে। এখান থেকে ভাল লাভ হয়েছে এবার। ষোল আনার মধ্যে চারআনা খরচ আর বারো আনাই লাভ। ফালগুনে প্রতিদিন আড়িয়ল বিলের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অন্তত ১০ ট্রাক কুমড়া বাজারে যায়। মাঠে এখনও অনেক কুমড়া আছে।

সবুজ ধান ক্ষেতের ফাঁকে ফাঁকে কয়েক হাজার ভিটায় ফলে আরো নানা ফসল। লাউ, কলা, বেগুন ইত্যাদি ফলে এখানে। ক্ষেতের আইলে (দুই ক্ষেতের মাঝে সরু রাস্তা) পাওয়া যায় হেচি শাক, ক্ষুদুইরা শাক ইত্যাদি বিভিন্ন রকমের শাক। এখানকার মানুষের অনেক কিছুই কিনে খেতে হয় না, বিলেই পাওয়া যায়। এখানকার নারী-কিশোরীদের অবসরের সবচেয়ে ভাল বিনোদন দল বেঁধে শাক তোলা। মোট কথা, উৎপাদনশীল আড়িয়ল বিলকে সবাই উপভোগ করে যে যার যার মতো। লাউ নিয়ে নিজের ভিটা থেকে ফেরার সময় আব্দুল বাতেন বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের খাবার নিয়ে আল্লাহর রহমতে চিন্তা করতে হয় না।

শীত জুড়ে শুকিয়ে আসা পুরো বিলের অসংখ্য জলাধারে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ মাছ। মাছ ধরায় ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকেই। বশির মিয়া বলেন, আমার ভিটার পাশে একটা ডোবা আছে, সেখান থেকে ভাল পরিমাণ মাছ পাই। আত্মীয়-স্বজন নিয়ে খাওয়ার পরেও বিক্রি করা যায়। সব মিলিয়ে ভাল আছি।আড়িয়ল বিলের করল্লা। ছবি: আল মামুন
বসন্তে আড়িয়ল বিলের আশপাশের মানুষের আপাতত কর্মব্যস্ততা তুলনামূলক কম। তাই এখানে বিভিন্ন জায়গায় বসে মেলা। বিভিন্ন জায়গায় আয়োজন করা হয় ওয়াজ মাহফিল। বিল পাড়ের মানুষে সব ঋতুতেই এমনই ভালো থাকে, প্রাণবন্ত থাকে। বাংলানিউজ