রফিকুল ইসলাম: আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সহজলভ্য উপায়ে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, ফসলের রোগবালাই দমন ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং অধিক ফলনের লক্ষ্যে উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি ও কলাকৌশল কৃষকদের হাতে-কলমে শেখানোর পাশাপাশি এসব কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বেস্ট এসএএও অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অর্জন করেছেন কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম।
গত ২৬ অক্টোবর মিঠামইন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমানের পদোন্নতিজনিত বিদায় অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
‘সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন’ ক্যাটাগরিতে কৃষি সম্প্রসারণ সেবায় অসামান্য অবদান, পেশাগত নিষ্ঠা, দক্ষতার ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে ২০২৬ সালের সেরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল ইসলাম খান অপু। সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) মো. ইমরুল কায়েস, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. শাহিনুল ইসলাম এবং জেলা ট্রেনিং অফিসার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
তার এ অর্জন প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিসেবা সম্প্রসারণে নতুন প্রেরণা জোগাবে এবং কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক কৃষিচর্চায় আরও উৎসাহিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং কৃষকের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কাছে আধুনিক ও উন্নত কৃষি প্রযুক্তি সহজলভ্যভাবে পৌঁছে দিতে কাজ করছেন।
ফসলের বিভিন্ন রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ ও দমন ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাতের ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং অধিক ফলন অর্জনের উপযোগী চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন তিনি। ফলে কৃষকরা মাঠপর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কৃষি তথ্য ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে তাজুল ইসলাম মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রম, প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ, রোগবালাই দমন পদ্ধতি, উন্নত চাষাবাদের কলাকৌশল এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে আসছেন।
এর ফলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ও কৃষিবিষয়ক প্রয়োজনীয় তথ্য বৃহত্তর কৃষকসমাজের কাছে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষকরা ফসলের রোগবালাইয়ের লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং অধিক ফলনের আধুনিক কৌশল সম্পর্কে সহজে জানতে পারছেন।
মাঠপর্যায়ে সরাসরি কৃষি পরামর্শ প্রদান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার এ সমন্বিত উদ্যোগ কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সহজলভ্য ও জনমুখী করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
তাজুল ইসলামের এ অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত পেশাগত স্বীকৃতি নয়; বরং কৃষকবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে কৃষি জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার একটি উৎসাহব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত।
তার এ সাফল্য মাঠপর্যায়ে কর্মরত অন্য কৃষি কর্মকর্তাদেরও উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমে উৎসাহিত করবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Reporter Name 
























