ঢাকা ১০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শূন্য থেকে শিখরে ওঠার গল্প, ‘স্মার্ট উদ্যোক্তা’ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার জন্য নয়, রাজনীতি হতে হবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য : এলজিআরডি মন্ত্রী ৭ নভেম্বর গ্রাম পুলিশ সমাবেশ, প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১১ কর্মকর্তার পদোন্নতি ধর্ম যার যার এই বাংলাদেশ সবার: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা এখন রিকশাচালক হিসেবে হাজির হয়েছে : চিফ হুইপ নিষেধাজ্ঞার মাঝেও চলছে ইলিশ শিকার নতুন বাজেটে প্রবাসী শ্রমিকদের সুখবর দিল মালয়েশিয়া

ইংরেজি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে হবে শিক্ষার্থীদের: ববি হাজ্জাজ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:২২:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দ্বিগুণ করার লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের দক্ষ, কর্মক্ষম ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেছেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এসব দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এ টেসলবিডি ও ইউল্যাবের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘২য় ইউল্যাব-টেসলবিডি আন্তর্জাতিক ইএসপি (ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাস) কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি জ্ঞান অর্জন করতে এবং নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে। কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি না হলে শুধু ডিগ্রি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। একজন শিক্ষার্থীকে এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে তিনি অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারেন এবং কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন।

ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার ঘাটতি তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শেখানো ও শেখার ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানোর জন্য শিক্ষকদের নিজেদেরও ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজিতে পড়াশোনা করেও অনেক শিক্ষার্থীর সাবলীলভাবে কথা বলা, লিখিতভাবে ভাব প্রকাশ করা এবং পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে ভাষার ব্যবহারিক প্রয়োগ ও যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা কেবল যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, ব্যবসা, অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞান অর্জনের জন্যও এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত নির্দেশনা এবং পেশাগত তথ্যের বড় একটি অংশ ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়। ফলে ভাষাগত দক্ষতার অভাব অনেক সময় মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও জ্ঞান অর্জন ও কর্মক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে ইংরেজির পাশাপাশি নিজস্ব ভাষায় জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিভাষা সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে যথাযথ দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে তারা জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠবে। তরুণদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান, স্থিতিশীল আয় এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের সামনে বাস্তবসম্মত বিকল্প তৈরি করা গেলে তারা অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে থেকে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মমুখী শিক্ষা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ইউল্যাবের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, রিয়েলিইংলিশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাইজেল কিলিক এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক। এছাড়া টেসল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সদস্য এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শূন্য থেকে শিখরে ওঠার গল্প, ‘স্মার্ট উদ্যোক্তা’ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন

ইংরেজি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে হবে শিক্ষার্থীদের: ববি হাজ্জাজ

আপডেট টাইম : ০৮:২২:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দ্বিগুণ করার লক্ষ্য অর্জনে তরুণদের দক্ষ, কর্মক্ষম ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেছেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এসব দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে পারলে দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এ টেসলবিডি ও ইউল্যাবের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘২য় ইউল্যাব-টেসলবিডি আন্তর্জাতিক ইএসপি (ইংলিশ ফর স্পেসিফিক পারপাস) কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি জ্ঞান অর্জন করতে এবং নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে। কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষতা তৈরি না হলে শুধু ডিগ্রি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। একজন শিক্ষার্থীকে এমনভাবে প্রস্তুত হতে হবে, যাতে তিনি অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারেন এবং কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন।

ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার ঘাটতি তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শেখানো ও শেখার ক্ষেত্রে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানোর জন্য শিক্ষকদের নিজেদেরও ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইংরেজিতে পড়াশোনা করেও অনেক শিক্ষার্থীর সাবলীলভাবে কথা বলা, লিখিতভাবে ভাব প্রকাশ করা এবং পেশাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে ভাষার ব্যবহারিক প্রয়োগ ও যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা কেবল যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, ব্যবসা, অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞান অর্জনের জন্যও এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত নির্দেশনা এবং পেশাগত তথ্যের বড় একটি অংশ ইংরেজিতে প্রকাশিত হয়। ফলে ভাষাগত দক্ষতার অভাব অনেক সময় মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও জ্ঞান অর্জন ও কর্মক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে ইংরেজির পাশাপাশি নিজস্ব ভাষায় জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পরিভাষা সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে যথাযথ দক্ষতায় গড়ে তুলতে পারলে তারা জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠবে। তরুণদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান, স্থিতিশীল আয় এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তরুণদের সামনে বাস্তবসম্মত বিকল্প তৈরি করা গেলে তারা অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে থেকে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। এজন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মমুখী শিক্ষা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ইউল্যাবের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. শামসাদ মর্তুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব, রিয়েলিইংলিশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাইজেল কিলিক এবং বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আনিসুল হক। এছাড়া টেসল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সদস্য এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।