ঢাকা ০৯:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনে বিএনপি, রাতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করে সাতক্ষীরার চারটি আসনে বিএনপিকে হারানো হয়েছে: আইনমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ বার

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে দলের কিছু নেতাকর্মীর ভূমিকা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‌‘দিনে বিএনপি, রাতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করে বিএনপির প্রার্থীদের হারানো হয়েছিল।’

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা পরাজিত হন। চারটি আসনেই জয়ী হন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের দল যখন একজনকে নমিনেশন (মনোনয়ন) দেয়, দল যদি আপনি করেন, তাহলে তার পেছনেই আপনাকে থাকতে হবে। আর যদি সেটা না করেন, আপনার সারা জীবনের অর্জন ওইখানেই ধ্বংস হয়ে যাবে। রাজনীতি খুব নিষ্ঠুর জায়গা।’

দলের প্রার্থীদের হারাতে কিছু নেতা বিভিন্ন আসন থেকে লোকজন ডেকে রাতে বৈঠক করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন আসাদুজ্জামান। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এটা করেছেন, আমি তাদের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান রেকর্ডসহ বলবো। দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা করলে দল কিন্তু আপনার সঙ্গে থাকবে না, আপনাকে বর্জন করবে।’

সভায় দলের নেতাকর্মীদের বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সভায় বক্তব্য দেওয়া অধিকাংশ নেতা আমি শব্দটি ব্যবহার করেছেন। আমি সব করেছি, আমিই ত্যাগ করেছি, আমি নির্যাতিত হয়েছি, এভাবে বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ দলের মৌলিক আদর্শের জায়গা হলো “আমরা”। আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলে গেছেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আমরা যদি “আমরা” শব্দটা ব্যবহার করতে না পারি বক্তৃতায়, তাহলে সাতক্ষীরা বিএনপি, জেলা বিএনপি কখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’

দলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের ‘আমিত্বকে আমরাতে রূপান্তরিত’ করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি করতে পারলে দলের মধ্যে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা উত্তরণে সমস্যা হবে না।

চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘কোনও নেতাকর্মী যত ত্যাগী বা দলের প্রতি যতটা নিবেদিতই হোন না কেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো কাজে জড়ালে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনে বিএনপি, রাতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করে সাতক্ষীরার চারটি আসনে বিএনপিকে হারানো হয়েছে: আইনমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১০:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে দলের কিছু নেতাকর্মীর ভূমিকা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‌‘দিনে বিএনপি, রাতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করে বিএনপির প্রার্থীদের হারানো হয়েছিল।’

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা পরাজিত হন। চারটি আসনেই জয়ী হন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের দল যখন একজনকে নমিনেশন (মনোনয়ন) দেয়, দল যদি আপনি করেন, তাহলে তার পেছনেই আপনাকে থাকতে হবে। আর যদি সেটা না করেন, আপনার সারা জীবনের অর্জন ওইখানেই ধ্বংস হয়ে যাবে। রাজনীতি খুব নিষ্ঠুর জায়গা।’

দলের প্রার্থীদের হারাতে কিছু নেতা বিভিন্ন আসন থেকে লোকজন ডেকে রাতে বৈঠক করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন আসাদুজ্জামান। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এটা করেছেন, আমি তাদের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান রেকর্ডসহ বলবো। দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা করলে দল কিন্তু আপনার সঙ্গে থাকবে না, আপনাকে বর্জন করবে।’

সভায় দলের নেতাকর্মীদের বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সভায় বক্তব্য দেওয়া অধিকাংশ নেতা আমি শব্দটি ব্যবহার করেছেন। আমি সব করেছি, আমিই ত্যাগ করেছি, আমি নির্যাতিত হয়েছি, এভাবে বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ দলের মৌলিক আদর্শের জায়গা হলো “আমরা”। আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলে গেছেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আমরা যদি “আমরা” শব্দটা ব্যবহার করতে না পারি বক্তৃতায়, তাহলে সাতক্ষীরা বিএনপি, জেলা বিএনপি কখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’

দলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের ‘আমিত্বকে আমরাতে রূপান্তরিত’ করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি করতে পারলে দলের মধ্যে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা উত্তরণে সমস্যা হবে না।

চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘কোনও নেতাকর্মী যত ত্যাগী বা দলের প্রতি যতটা নিবেদিতই হোন না কেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো কাজে জড়ালে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু প্রমুখ।