ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তারেক রহমান ও বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন খলিলুর রহমান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০ বার

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন খলিলুর রহমান। তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে মনোনয়ন দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সূচনা বক্তব্যে তিনি এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

খলিলুর রহমান বলেন, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আস্থা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। সততা, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনেরও অঙ্গীকার করেন তিনি।

নিজের পূর্বসূরি আনালেনা বায়েরবককে ধন্যবাদ জানিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, চ্যালেঞ্জিং একটি সময়ে সাধারণ পরিষদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের বর্তমান ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, আট দশকের বেশি সময়ে এই সংস্থা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে জাতিসংঘ।

তবে সংঘাত, মানবিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ায় বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংলাপ, সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি।

এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর পরিচালনা: সবার জন্য কার্যকর এক জাতিসংঘ।’

আগামী এক বছরের জন্য ছয়টি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন খলিলুর রহমান। এগুলো হলো— শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), জলবায়ু ও পরিবেশ, মানবাধিকার ও মানবিক সুরক্ষা, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তর এবং জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।

মানবাধিকার ও মানবিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কথাও উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানো, ডিজিটাল বৈষম্য কমানো, জাতিসংঘের আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

খলিলুর রহমান জানান, তার দপ্তরে বৈচিত্র্য, ভৌগোলিক ভারসাম্য ও লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে মন্ত্রিসভার ৬০ শতাংশ সদস্য নারী।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম এবং বিশ্বের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে— এমন একটি জাতিসংঘ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে অটোরিকশা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তারেক রহমান ও বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানালেন খলিলুর রহমান

আপডেট টাইম : ১১:৩০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন খলিলুর রহমান। তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে মনোনয়ন দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সূচনা বক্তব্যে তিনি এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

খলিলুর রহমান বলেন, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আস্থা ও সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। সততা, নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনেরও অঙ্গীকার করেন তিনি।

নিজের পূর্বসূরি আনালেনা বায়েরবককে ধন্যবাদ জানিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, চ্যালেঞ্জিং একটি সময়ে সাধারণ পরিষদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের বর্তমান ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, আট দশকের বেশি সময়ে এই সংস্থা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছে জাতিসংঘ।

তবে সংঘাত, মানবিক সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ায় বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংলাপ, সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি।

এবারের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর পরিচালনা: সবার জন্য কার্যকর এক জাতিসংঘ।’

আগামী এক বছরের জন্য ছয়টি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন খলিলুর রহমান। এগুলো হলো— শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি), জলবায়ু ও পরিবেশ, মানবাধিকার ও মানবিক সুরক্ষা, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তর এবং জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার।

মানবাধিকার ও মানবিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কথাও উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানো, ডিজিটাল বৈষম্য কমানো, জাতিসংঘের আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

খলিলুর রহমান জানান, তার দপ্তরে বৈচিত্র্য, ভৌগোলিক ভারসাম্য ও লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে মন্ত্রিসভার ৬০ শতাংশ সদস্য নারী।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম এবং বিশ্বের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারে— এমন একটি জাতিসংঘ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।