তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে বিএনপির প্রবীণ এই নীতিনির্ধারক
হাওর বার্তা ডেস্কঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবার দেশের ‘এক নম্বর’ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে রাষ্ট্রপতির কাছে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ড. মঈন খান। শপথের পর রাতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর পর ক্রমিক নম্বর-১ মন্ত্রী হিসেবে স্থান পেয়েছেন তিনি।
এর আগে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের আগে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নতুন করে ড. মঈন খানকে আনা হয়।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ মুখ
ড. আবদুল মঈন খান বিএনপির অন্যতম প্রবীণ ও নীতিনির্ধারণী নেতা। বর্তমানে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হয়ে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়েছেন তিনি।
২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন ড. মঈন খান। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নীতিনির্ধারণী কর্মকাণ্ডে তাকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে।
তিনি বিএনপির সাবেক রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী আবদুল মোমেন খানের ছেলে। বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে তার প্রবেশ। তবে রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরেও নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
আগেও সামলেছেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়
বিএনপি সরকারের আমলে ড. মঈন খান একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তথ্য মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলান তিনি।
এবার দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তৃত পরিসরের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন এই প্রবীণ নেতা।
রাজনৈতিক অঙ্গনে দলীয় বক্তব্যের পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে সুশীল, যুক্তিনির্ভর ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার জন্যও ড. মঈন খান বিশেষভাবে পরিচিত।
মেধাবী শিক্ষার্থী থেকে খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ
ড. আবদুল মঈন খানের শিক্ষাজীবনও ছিল অত্যন্ত কৃতিত্বপূর্ণ। ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট সম্পন্ন করেন তিনি।
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ কৌশল বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে বিএসসি (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশলবিদ্যায় পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ড. মঈন খান। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স ও টেকনোলজি বিভাগেও অধ্যাপনা করেন।
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার একাধিক গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
এবার বড় দায়িত্ব, বড় প্রত্যাশা
রাজনীতির মাঠে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষা-গবেষণায় সমৃদ্ধ পেশাগত জীবন—সব মিলিয়ে ড. আবদুল মঈন খানের সামনে এবার বড় দায়িত্ব।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মতো বিশাল একটি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এসে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে সেবা কার্যক্রমের গতি বাড়ানো, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখেন—সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
হাওর বার্তা মনে করে, দীর্ঘ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তার শিক্ষাবিদসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি নতুন দায়িত্ব পালনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, দেশের ‘এক নম্বর’ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ড. মঈন খান কীভাবে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে তার সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটান।
Reporter Name 




















