ঢাকা ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

পিটিআই মুখপাত্র ইমরান খান মুক্তি পেলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে যাবেন না

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:১৭:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ০ বার

কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মুক্তি পেলে দেশটির সামরিক বাহিনী বা সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবেন না বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি। তার এ বক্তব্যকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পিটিআইয়ের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুখারি বলেন, ইমরান খান হঠাৎ মুক্তি পেলেও দেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। বরং দেশের স্বার্থে নিজের ক্ষোভ ও কষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখবেন তিনি।

বুখারি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে আপনি সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে যাবেন। দেশের কল্যাণের জন্য নিজের কষ্ট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নিজের যন্ত্রণা গিলে ফেলতে হবে।’

ইমরান খানের দল ও সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে সরব। ২০২৩ সালে ইমরান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে তার দলের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। ইমরান নিজেও অতীতে মুনিরকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন।

তবে মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ার পর পিটিআইয়ের বক্তব্যে তুলনামূলকভাবে সমঝোতার সুর দেখা যাচ্ছে। বুখারি আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘নতুন আশার আলো’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি জানান, হাসপাতালের সামনে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত না করার বিষয়ে আদালতের নির্দেশ পিটিআই মেনে চলবে। তবে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে স্থানান্তরের বিরুদ্ধে করা একটি আবেদন কারিগরি কারণে খারিজ হয়েছিল। সেটি আবার চ্যালেঞ্জ করা হবে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।

বুখারি দাবি করেন, পিটিআইয়ের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কোনো আলোচনা চলছে না। তবে তিনি আসিম মুনিরকে পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, মুনির যদি একদিন সিদ্ধান্ত নেন যে দেশের পরিস্থিতি বদলাতে হবে এবং ‘নিরাময়ের হাত’ বাড়িয়ে দেন, তাহলে তিনি দেশের পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারেন। এমনকি বুখারির মতে, সে ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, কারাগারে থাকা ইমরান খানের অবস্থান তার দলের বাইরে থাকা নেতাদের বর্তমান বক্তব্যের সঙ্গে নাও মিলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকার কারণে পিটিআইয়ের সাংগঠনিক কাঠামোর বড় অংশ ভেঙে পড়েছে এবং দলের অনেক শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন।

আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ইমরান খান কারাগারে থাকা অবস্থায় পিটিআইয়ের বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতার জন্য ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরির সক্ষমতা কতটা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বুখারি নিজেও বর্তমানে দুবাইয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন। তার দাবি, পিটিআই নেতারা প্রায় আট মাস ধরে ইমরান খানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেননি।

ইমরান খানকে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর বন্দিদশায় রাখা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে। গত বছরের নভেম্বরে তার নামে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি আসিম মুনিরকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে স্বৈরাচারী শাসক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং নিজের ও স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, যত কিছুই করা হোক না কেন, তিনি সামরিক নেতৃত্বের কাছে মাথা নত করবেন না।

২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরান খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রি, সামরিক ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় সহিংস হামলায় উসকানি এবং বেআইনি বিয়েসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা হয়েছে। তবে তাঁর প্রায় সব সাজাই স্থগিত বা বাতিল হয়েছে; একটি মামলার সাজা এখনো বহাল রয়েছে। ইমরান সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও পিটিআইয়ের আন্দোলন থামছে না। বুখারি জানিয়েছেন, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইমরান খানকে ঘিরে দেশব্যাপী পদযাত্রা করবে দলটি। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হোক বা না হোক, কর্মসূচি চলবে।

এই আন্দোলনে ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, পরিবার, চিকিৎসক, আইনজীবী ও দলীয় নেতাদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া, মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি এবং শেষ পর্যন্ত তার মুক্তির দাবি জানানো হবে।

বুখারি আরও বলেন, আত্মগোপনে থাকা পিটিআইয়ের অনেক শীর্ষ নেতা এই কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেবেন অথবা সংগঠনের কাজে যুক্ত থাকবেন। তার ভাষায়, ‘আপনারা হয়তো অনেক নেতাকে আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে আসতে দেখবেন। তাদের দেখা না গেলেও, তারা আন্দোলন সংগঠিত করছেন এটা দেখা যাবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়লার ভাগাড় থেকে প্রাণ ফিরছে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে

পিটিআই মুখপাত্র ইমরান খান মুক্তি পেলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে যাবেন না

আপডেট টাইম : ০৩:১৭:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মুক্তি পেলে দেশটির সামরিক বাহিনী বা সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সংঘাতে জড়াবেন না বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি। তার এ বক্তব্যকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পিটিআইয়ের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমানোর সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুখারি বলেন, ইমরান খান হঠাৎ মুক্তি পেলেও দেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না। বরং দেশের স্বার্থে নিজের ক্ষোভ ও কষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখবেন তিনি।

বুখারি বলেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে আপনি সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে যাবেন। দেশের কল্যাণের জন্য নিজের কষ্ট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নিজের যন্ত্রণা গিলে ফেলতে হবে।’

ইমরান খানের দল ও সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ধরে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে সরব। ২০২৩ সালে ইমরান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে তার দলের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। ইমরান নিজেও অতীতে মুনিরকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন।

তবে মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য কারাগার থেকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ার পর পিটিআইয়ের বক্তব্যে তুলনামূলকভাবে সমঝোতার সুর দেখা যাচ্ছে। বুখারি আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘নতুন আশার আলো’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি জানান, হাসপাতালের সামনে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত না করার বিষয়ে আদালতের নির্দেশ পিটিআই মেনে চলবে। তবে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে স্থানান্তরের বিরুদ্ধে করা একটি আবেদন কারিগরি কারণে খারিজ হয়েছিল। সেটি আবার চ্যালেঞ্জ করা হবে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।

বুখারি দাবি করেন, পিটিআইয়ের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কোনো আলোচনা চলছে না। তবে তিনি আসিম মুনিরকে পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, মুনির যদি একদিন সিদ্ধান্ত নেন যে দেশের পরিস্থিতি বদলাতে হবে এবং ‘নিরাময়ের হাত’ বাড়িয়ে দেন, তাহলে তিনি দেশের পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারেন। এমনকি বুখারির মতে, সে ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, কারাগারে থাকা ইমরান খানের অবস্থান তার দলের বাইরে থাকা নেতাদের বর্তমান বক্তব্যের সঙ্গে নাও মিলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকার কারণে পিটিআইয়ের সাংগঠনিক কাঠামোর বড় অংশ ভেঙে পড়েছে এবং দলের অনেক শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন।

আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ইমরান খান কারাগারে থাকা অবস্থায় পিটিআইয়ের বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতার জন্য ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরির সক্ষমতা কতটা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বুখারি নিজেও বর্তমানে দুবাইয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন। তার দাবি, পিটিআই নেতারা প্রায় আট মাস ধরে ইমরান খানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেননি।

ইমরান খানকে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর বন্দিদশায় রাখা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে। গত বছরের নভেম্বরে তার নামে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি আসিম মুনিরকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে স্বৈরাচারী শাসক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং নিজের ও স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, যত কিছুই করা হোক না কেন, তিনি সামরিক নেতৃত্বের কাছে মাথা নত করবেন না।

২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরান খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রি, সামরিক ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় সহিংস হামলায় উসকানি এবং বেআইনি বিয়েসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা হয়েছে। তবে তাঁর প্রায় সব সাজাই স্থগিত বা বাতিল হয়েছে; একটি মামলার সাজা এখনো বহাল রয়েছে। ইমরান সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও পিটিআইয়ের আন্দোলন থামছে না। বুখারি জানিয়েছেন, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইমরান খানকে ঘিরে দেশব্যাপী পদযাত্রা করবে দলটি। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হোক বা না হোক, কর্মসূচি চলবে।

এই আন্দোলনে ইমরানের চিকিৎসা নিশ্চিত করা, পরিবার, চিকিৎসক, আইনজীবী ও দলীয় নেতাদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া, মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি এবং শেষ পর্যন্ত তার মুক্তির দাবি জানানো হবে।

বুখারি আরও বলেন, আত্মগোপনে থাকা পিটিআইয়ের অনেক শীর্ষ নেতা এই কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেবেন অথবা সংগঠনের কাজে যুক্ত থাকবেন। তার ভাষায়, ‘আপনারা হয়তো অনেক নেতাকে আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে আসতে দেখবেন। তাদের দেখা না গেলেও, তারা আন্দোলন সংগঠিত করছেন এটা দেখা যাবে।’