ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
রোনালদো প্রতারিত হয়েছেন, বোনের বিস্ফোরক দাবি জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় সহনশীল অর্থনীতির তাগিদ পরিবেশমন্ত্রীর হুতির হামলায় সৌদির ফ্লাইটে ব্যাঘাত, বিড়ম্বনায় পবিত্র ওমরাহ যাত্রীরা চলনবিল পাখির কলকাকলীতে মুখরিত ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড দারিদ্র্য নিরসন ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে: বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ ‘হিলারি ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’পেলেন ড. ইউনূস, দাঁড়িয়ে সম্মান ৪০০ অতিথির সৌদিতে এআই হ্যাকাথনে চ্যাম্পিয়ন ইবি শিক্ষার্থীর দল দুর্গাপূজাকে ঘিরে নাশকতার কোনো আশঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনে নম্বরপ্লেট লাগানোর নির্দেশ তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ : ডেপুটি স্পিকার

কলকাতার বিভিন্ন মসজিদে শোনা যায়নি জুমার আজান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১০:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪০ বার
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় একসময় জুমার দিনে মসজিদে জায়গা না পেলে রাস্তায় নামাজ পড়তেন অনেক মুসল্লি। তবে বর্তমান সরকার সেই সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এর ফলে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বেশ কয়েকটি মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি। এতে অনেক মুসল্লি সময়মতো নামাজে অংশ নিতে পারেননি। পুরো পরিস্থিতি ঘিরে মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
কলকাতার পার্ক সার্কাসের এক ইমাম এদিন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, মাইক খুলে নিয়ে তাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে তারা সবকিছু সহ্য করবেন বলেও জানান তিনি। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানান ওই ইমাম। তার আশঙ্কা, তা না হলে সরকার মুসলমানদের সহজেই দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।
মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার বিষয়টি এরইমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টেও গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই মৌখিক নির্দেশে পুলিশের সহায়তায় রাজ্যের প্রায় ৪ হাজার মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি আগের একটি আদালতের রায়ের উল্লেখ করে মসজিদগুলোতে আবার মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান। পাশাপাশি ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে এমন বৈষম্যমূলক আচরণের কারণও জানতে চান তিনি।
তবে রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্য, পুলিশ মাইক খোলার কোনো নির্দেশ দেয়নি। কোন কর্মকর্তা এমন নির্দেশ দিয়েছেন, সে বিষয়ে মামলাকারী নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা নামও দিতে পারেননি। প্রায় ৪ হাজার মাইক খোলার অভিযোগ থাকলেও কোনো ইমাম সরাসরি মামলা করেননি বলেও তিনি আদালতকে জানান।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানতে চেয়েছে, কোন জেলার কোন কোন মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তালিকা দিতে হবে। পাশাপাশি আজানের সময় মাইক ব্যবহারে শব্দবিধি মানা হচ্ছে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। তার আগে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যও বিতর্ক বাড়িয়েছে। তিনি বলেছেন, সরকার নতুন কোনো আইন করছে না; বরং ২০২০ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনাই কার্যকর করা হচ্ছে। তার দাবি, ধর্মীয় স্থানের ক্ষেত্রে মন্দির ও মসজিদ উভয়ই এর আওতায় রয়েছে। সেই অনুযায়ী ৪২০০টি মসজিদ ও ১০৯৬টি মন্দির থেকে মাইক সরানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে সরকারের দেওয়া এই তথ্যেও সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ কাটছে না। তাদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার পালনের ওপর পরোক্ষভাবে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে উদ্বেগ ও ভীতির পরিবেশের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করতে যাচ্ছেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রোনালদো প্রতারিত হয়েছেন, বোনের বিস্ফোরক দাবি

কলকাতার বিভিন্ন মসজিদে শোনা যায়নি জুমার আজান

আপডেট টাইম : ১২:১০:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় একসময় জুমার দিনে মসজিদে জায়গা না পেলে রাস্তায় নামাজ পড়তেন অনেক মুসল্লি। তবে বর্তমান সরকার সেই সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এর ফলে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বেশ কয়েকটি মসজিদে জুমার আজান শোনা যায়নি। এতে অনেক মুসল্লি সময়মতো নামাজে অংশ নিতে পারেননি। পুরো পরিস্থিতি ঘিরে মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
কলকাতার পার্ক সার্কাসের এক ইমাম এদিন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, মাইক খুলে নিয়ে তাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে তারা সবকিছু সহ্য করবেন বলেও জানান তিনি। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আহ্বান জানান ওই ইমাম। তার আশঙ্কা, তা না হলে সরকার মুসলমানদের সহজেই দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।
মসজিদের মাইক খুলে নেওয়ার বিষয়টি এরইমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টেও গড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই মৌখিক নির্দেশে পুলিশের সহায়তায় রাজ্যের প্রায় ৪ হাজার মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি আগের একটি আদালতের রায়ের উল্লেখ করে মসজিদগুলোতে আবার মাইক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানান। পাশাপাশি ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে এমন বৈষম্যমূলক আচরণের কারণও জানতে চান তিনি।
তবে রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্য, পুলিশ মাইক খোলার কোনো নির্দেশ দেয়নি। কোন কর্মকর্তা এমন নির্দেশ দিয়েছেন, সে বিষয়ে মামলাকারী নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা নামও দিতে পারেননি। প্রায় ৪ হাজার মাইক খোলার অভিযোগ থাকলেও কোনো ইমাম সরাসরি মামলা করেননি বলেও তিনি আদালতকে জানান।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানতে চেয়েছে, কোন জেলার কোন কোন মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তালিকা দিতে হবে। পাশাপাশি আজানের সময় মাইক ব্যবহারে শব্দবিধি মানা হচ্ছে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। তার আগে রাজ্যকে নিজেদের অবস্থান জানাতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যও বিতর্ক বাড়িয়েছে। তিনি বলেছেন, সরকার নতুন কোনো আইন করছে না; বরং ২০২০ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনাই কার্যকর করা হচ্ছে। তার দাবি, ধর্মীয় স্থানের ক্ষেত্রে মন্দির ও মসজিদ উভয়ই এর আওতায় রয়েছে। সেই অনুযায়ী ৪২০০টি মসজিদ ও ১০৯৬টি মন্দির থেকে মাইক সরানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে সরকারের দেওয়া এই তথ্যেও সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ কাটছে না। তাদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে ধর্মীয় আচার পালনের ওপর পরোক্ষভাবে বাধা তৈরি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে উদ্বেগ ও ভীতির পরিবেশের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করতে যাচ্ছেন।