চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় দেড় বছর পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এরই মধ্যে ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
ছয় মাসের হিসাব বলছে, সরকারের নির্ধারিত এসব অগ্রাধিকারের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তবে সামাজিক নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানো এবং কূটনীতির ক্ষেত্রে সরকারের কিছু উদ্যোগ ও অর্জন ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকার অবশ্য বলছে, ছয় মাসের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অধিকাংশই অর্জিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর দাবি, নির্বাচনের আগে বিএনপি যে অঙ্গীকার করেছিল, সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। সংসদ সদস্যদের ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি না নেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া কয়েকটি উদ্যোগও সাধারণ মানুষের প্রশংসা পেয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলায় বড় চাপ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসের প্রতিবেদনে গণপিটুনি, রাজনৈতিক সংঘাত, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং কারাগারে মৃত্যুর একাধিক ঘটনা উঠে এসেছে।
আসকের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন বা সহিংসতায় ২২০ জন মারা গেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে নয়টি। কারাগারে বন্দি বা বিচারাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৫৫ জন। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৩৬৫টি। একই সময়ে মব সহিংসতায় মারা গেছেন ১২০ জন।
অন্যদিকে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৮৩০টি। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৫২৯টি। একই প্রতিবেদনে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৬২১ জন নারী সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা বলা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪২ জন। অর্থাৎ এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে ৫৬ শতাংশ।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গুর রয়েছে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুকের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। খুন, চাঁদাবাজি, নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ কমাতে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অর্থনীতিতে কিছু উদ্যোগ, কমেনি মূল্যস্ফীতির চাপ
বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি উচ্চ সরকারি ঋণ, দুর্বল ব্যাংকিং খাত ও বিনিয়োগ সংকটসহ নানা সমস্যায় ছিল। দীর্ঘ সময়ের মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির ধীরগতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণের জন্য ছয় মাস খুব বেশি সময় নয়, তবে একেবারে কম সময়ও নয়। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দিকে এগিয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা এবং আগের একীভূত করা পাঁচটি ব্যাংক কার্যকরের উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
তবে দ্রব্যমূল্য পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। গত কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা নিম্ন ও সাধারণ আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো বেশি। বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।
ফাহমিদা খাতুনের মতে, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপ এখনো রয়েছে। আর্থিক নীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো কঠিন।
সামাজিক খাতে কিছু দৃশ্যমান সাফল্য
সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ খাতে সরকারের প্রথম ছয় মাসে কয়েকটি দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের কাজ মাঠপর্যায়ে শুরু হয়েছে।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এসেছে ৭১ হাজারের বেশি পরিবার। পরিবারের নারী প্রধানের ব্যাংক বা আর্থিক হিসাবে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়ার এই কর্মসূচিকে সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণও শুরু হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগও সরকারের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির অংশ। এর মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সার, বীজ ও কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো কর্মসূচিকে সরকারের প্রথম ছয় মাসের ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারের নারী প্রধানদের সরাসরি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে এসব কর্মসূচির পূর্ণ প্রভাব মূল্যায়নের জন্য আরও সময় প্রয়োজন। উপকারভোগী নির্বাচন কতটা নির্ভুল হচ্ছে, প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলো কতটা সুবিধা পাচ্ছে এবং কর্মসূচিগুলো দেশব্যাপী কতটা কার্যকরভাবে সম্প্রসারণ করা যায়, সেটিই হবে পরবর্তী সময়ের বড় পরীক্ষা।
বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে ভোগান্তি
সরকারের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির কারণ হওয়া খাতগুলোর একটি ছিল বিদ্যুৎ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়েও অভিযোগ ওঠে। এর প্রভাব পড়ে গৃহস্থালি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনে।
এর মধ্যে জুন মাসের ব্যবহারের বিপরীতে পাওয়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযোগ ওঠে। অনেক গ্রাহক স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিল পাওয়ার কথা জানান।
এর পাশাপাশি জ্বালানি সংকটও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং একটি টার্মিনাল নষ্ট হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকটও দেখা দেয়।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব রাজনীতিতেও পড়ে। আগস্টের শুরুতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে কর্মসূচি পালন করে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি দেওয়া হয়।
অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুন বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন ও অর্থনীতি অচল। পরবর্তী সময়ে সরকারকে এ দুটি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সংকট এবং একটি টার্মিনাল নষ্ট হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং এ জন্য কাজ চলছে।
কূটনীতিতে সাফল্য
অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন নিয়ে সমালোচনা থাকলেও কূটনীতিতে বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসকে তুলনামূলক ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কয়েকজন বিশ্লেষক।
এর মধ্যে অন্যতম হলো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া। ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির এটিকে বর্তমান সরকারের বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
এ ছাড়া ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এটি ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর। চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক করিডর, তিস্তা প্রকল্পে চীনের ফিজিবিলিটি স্টাডিতে অংশগ্রহণ এবং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে ‘টু প্লাস টু’ সমঝোতার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
তবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এখনো জটিল। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দেওয়া হলেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ এবং সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণের বিষয়েও অগ্রগতি হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারত সফরের জন্য বাংলাদেশ অনুকূল পরিবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
সংস্কার ও সুশাসনেও প্রশ্ন
রাজনৈতিক সংস্কার ও সুশাসনের ক্ষেত্রেও বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই সনদ তৈরি হয়। পরে এ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হলে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গণভোটের আদেশকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না করায় বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে টানাপোড়েন তৈরি হয়।
স্বাধীন বিচার বিভাগ, গুম কমিশন, দুর্নীতি দমন ও পুলিশ সংস্কারের মতো বিষয়েও দৃশ্যমান অগ্রগতির ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন অনুমোদন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ কার্যকরের মতো বিষয়েও অগ্রগতির প্রশ্ন রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদের মতে, বিএনপির কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল দলটি পরিবর্তন ও সংস্কারে গুরুত্ব দেবে। কিন্তু নির্বাচনের পর ছয় মাসে সুশাসন প্রতিষ্ঠা বা রাজনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে মানুষ প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখতে পায়নি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই জামায়াত-এনসিপি জোট মাঠের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে।
ছয় মাসের মূল্যায়ন
বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাসে সব মিলিয়ে সাফল্য ও চ্যালেঞ্জ দুটোই রয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর কিছু উদ্যোগ এবং কূটনীতির ক্ষেত্রে কয়েকটি অর্জন সরকারের ইতিবাচক দিক হিসেবে সামনে এসেছে।
অন্যদিকে দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্নে সরকারের সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
সরকারের দাবি, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে এবং ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রার অধিকাংশই অর্জিত হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মূল্যায়নে, আগামী সময়ে সরকারের বড় পরীক্ষা হবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাপ কমানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করা এবং সংস্কার ও সুশাসনের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা।
Reporter Name 























