ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বিএনপি সরকারের ৬ মাস: কোন খাতে সাফল্য আর কোথায় চ্যালেঞ্জ রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য: সালেহ শিবলী হজ উপলক্ষে নতুন নীতিমালা অনুমোদন দিলো সৌদি এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের বিপুল আবেদন, সমাধানে নতুন নীতিমালা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে ভোট না দিলে পদ হারাবেন এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভা সড়ক ও বাঁধ রক্ষায় বিন্না ঘাস ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ডিজিটাল প্রযুক্তিতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত স্বর সরাসরি প্রতিফলিত হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী ১৮০ দিন পূর্তিতে সরকারের কর্মযজ্ঞের ১০ দিক তুলে ধরলেন মাহ্‌দী আমিন পূজা চেরী কি সত্যিই গোপনে বিয়ে সেরেছেন কালভার্টের বদলে বাঁশের সাঁকো, দুর্ভোগে পাঁচ গ্রামের মানুষ

১৮০ দিন পূর্তিতে সরকারের কর্মযজ্ঞের ১০ দিক তুলে ধরলেন মাহ্‌দী আমিন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৪২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ‘১৮০ দিন পূর্তি’ গণমুখী ও বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের দশটি দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। আজ সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এসব তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী,ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

অভূতপূর্ব জনসমর্থন

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘বিগত ছয় মাসে আমাদের সবচেয়ে বড় ও লক্ষণীয় অর্জন হলো, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব ও অবিচল জনসমর্থন। ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নিশি রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের দীর্ঘ অচলাবস্থা পেরিয়ে দেশের মানুষ অবশেষে নিজেদের পছন্দের দলকে ও প্রার্থীকে মুক্তভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আজ এমন এক সরকার অধিষ্ঠিত হয়েছে, যার ক্ষমতার একমাত্র উৎস দেশের জনগণ।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দল বিএনপি এবং দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক যে কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং গভীর আবেগ ও অনুভূতির, তা আমরা বারবার প্রত্যক্ষ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে মানুষের যে ঢল নেমেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একইভাবে, আমাদের প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের যে বাঁধভাঙা উপস্থিতি দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে এই দলের প্রতি এবং এর নেতৃত্বের প্রতি জনগণের ভালোবাসা কতটা অকৃত্রিম।’

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে সরকারের প্রতিটি জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই জনতার ঢল নেমেছে। মানুষের এই অটুট আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসাকে ধারণ করেই সরকার প্রতিটি পদক্ষেপে দেশ ও জনগণের প্রতি সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় স্বাতন্ত্র্য হলো, নির্বাচনী ইশতেহারকে নিছক কথার কথা না রেখে, সেখানে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে।’

সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এই ছয় মাসে সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কীভাবে সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়েছে। আজকের এই সরকারের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ইতিহাস। ফ্যাসিবাদবিরোধী দেড় দশকের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, যেখানে গুম, খুন, হামলা, মামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন পেরিয়ে বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে রাজপথে ছিল। সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আমরা দেখেছি, প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষ এবং সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল এক হয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানবাধিকার থাকবে, বাকস্বাধীনতা থাকবে এবং আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত থাকবে। সরকারের কার্যক্রমে আমরা ঠিক সেটিরই প্রতিফলন দেখেছি। গত ছয় মাসে বাক্‌স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখার দৃষ্টান্ত আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে একটিবারের জন্যও কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি সর্বোচ্চ বাক্‌স্বাধীনতা। অনেক সময় তা সীমা লঙ্ঘন করেছে, উসকানি দেওয়া হয়েছে কিংবা অশোভন আচরণ করা হয়েছে, তবুও সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে ঠিক যেভাবে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিকে ধারণ করেই এগিয়ে চলেছে জনগণের এই সরকার।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা দেখেছি এক অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত সংসদ, যেখানে মাননীয় সংসদ সদস্যগণ পরস্পরের সাথে আলোচনা করেছেন, সমালোচনা করেছেন এবং যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন। দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে, সরকার গঠনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশটিকে সংসদে আইনে রূপান্তরের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ কায়েমকারী সেই সন্ত্রাসী রাজনৈতিক সংগঠনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশে শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিত থাকার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠদের নামে সংসদের গ্যালারিগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। বিএনপির এই সরকারের ঐতিহ্য, সেই সুমহান দর্শন ‘‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’’। আর সেটিকে ধারণ করেই ভিন্ন মত, পথ, ধর্ম, বর্ণ, পাহাড়-সমতলের সক্ষম-অক্ষম প্রতিটি মানুষকে এক কাতারে এনে আমাদের এই সরকার নিশ্চিত করেছে সকলের স্বাধীনতা, সকলের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, যার মূল পাথেয় হলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সুনিশ্চিত করা।’

ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য কীভাবে নিরলস কাজ করে যাওয়া হয়েছে। এর মূল কারণ, এই ইশতেহারের ভিত্তির ভেতরে রয়েছে বিএনপির সুদৃঢ় রাজনৈতিক দর্শন। এই ইশতেহারেই আমরা প্রতিফলিত হতে দেখেছি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ১৯ দফা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেই ‘‘ভিশন ২০৩০’’, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রণীত বিএনপির ২৭ দফা এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিক সকল রাজনৈতিক দলকে এক কাতারে নিয়ে আসা সেই ৩১ দফা।’

তিনি বলেন, ‘সুতরাং ঐতিহাসিক ১৯ দফা, ভিশন ২০৩০, ২৭ দফা ও ৩১ দফা, এই চারটি মৌলিক বিষয় এবং নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে সারা বাংলাদেশ জুড়ে সর্বস্তরের মানুষের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রণীত ইশতেহারের আলোকেই আজ দেশ পরিচালিত হচ্ছে। ঠিক যেভাবে নোট অব ডিসেন্টসহ বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল, ঠিক সে অনুযায়ী যার প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন হবে বলে প্রধানমন্ত্রী মহান সংসদে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ভোট প্রদানের পর হাতের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনী ইশতেহারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ভেতর সবার আগে যে সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হয়েছিল, তা হলো কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা। প্রথম মন্ত্রিসভার সেই অনুমোদিত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে প্রায় ১৩ লক্ষ কৃষক পরিবার সরাসরি উপকৃত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা দেখেছি, কৃষকদের ক্ষমতায়নের জন্য কৃষক কার্ড, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসীদের অধিকার ও সহায়তায় প্রবাসী কার্ড, এবং দেশজুড়ে প্রতিটি জেলা পর্যায়ে অ্যামপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমরা দেখেছি ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, যাজক ও বৌদ্ধ অধ্যক্ষদের জন্য সম্মানি প্রদান এবং দেশজুড়ে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সরকার গঠনের পর দ্রুততম সময়ে এসব কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনটি প্রি-ফেজ বা প্রি-ট্রায়াল, কোনটি ট্রায়াল আবার কোনটি ফেজ-১ আকারে শুরু হলেও প্রতিটি ফ্ল্যাগশিপ বা সিগনেচার প্রোগ্রাম সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে; যার মাধ্যমে গণমানুষের ভাগ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।’

অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাফল্য

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা দেখেছি একটি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কারণ, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ এমন একটি রাষ্ট্রকাঠামো রেখে গিয়েছিল, যা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। আমরা দেখেছি, দায়িত্ব গ্রহণের পরই পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। সরকার গঠনের অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় যাতে কোনো সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে না পারে এবং কৃত্রিমভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি না পায়, সে বিষয়ে কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহায় দীর্ঘকাল পর কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেনি। সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপে শ্রমিক, মালিক, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন ও বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন—সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে, যেন প্রতিটি শ্রমিক তাঁদের বেতন, বকেয়া এবং বোনাস যথাযথভাবে বুঝে পান। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে যখন তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং বিশ্বের প্রায় সব দেশেই দাম বাড়াতে হয়েছিল, তখন দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক সরকার তেলের দাম না বাড়িয়ে বরং অভ্যন্তরীণ সরবরাহকে সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্ন রেখেছিল।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ মুখপাত্র বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল আজহার সময় আমরা দেখেছি কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কীভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল। বিদেশ থেকে কোনো পশু আমদানি না করে দেশের খামারিদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের দিন রাত থেকে শুরু করে ঢাকা সহ প্রতিটি সিটি করপোরেশনে রেকর্ড দ্রুততম সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় দীর্ঘদিন পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং সম্পূর্ণ নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে যেই শিক্ষার্থীর যে গ্রেড বা নম্বর প্রাপ্য, ঠিক সেভাবেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেট প্রণয়নেও আমরা জন-আকাঙ্ক্ষার সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার কমিয়ে ৬০টিরও বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এই বাজেট ছিল একাধারে বাণিজ্যবান্ধব, অর্থনীতিবান্ধব এবং বিনিয়োগবান্ধব, যেখানে সর্বোচ্চ প্রাধান্য পেয়েছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সার্বিক জ্বালানিসহ দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যা ও পাহাড়ধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছিল। সেখানেও সমন্বিত উদ্যোগ ও বহুমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের পাশে সরকার দাঁড়িয়েছে। তাঁদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।’

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার কিছুটা প্রভাব আমাদের ওপরও পড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে গ্যাসের যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করছি। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং জানিয়েছেন যে, সংকট নিরসনে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, আমাদের দুটি এফএসআরইউ-এর মধ্যে একটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সেটি মেরামত করার জন্য যেমন কিছুটা সময়ের প্রয়োজন, তেমনি এটিও বাস্তবতা যে, বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত এই জ্বালানি খাতকে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে যাওয়া হয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ কাটিয়ে তুলতে ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন চীন ও মালয়েশিয়া সফর করেন, তখন সেখানকার জ্বালানিখাতের বিনিয়োগকারীদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। মধ্যমেয়াদে কত দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা যায়, তার ইতিবাচক ফল আমরা অচিরেই দেখতে পাব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘একই সাথে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত শীর্ষ ২৫টি কোম্পানির প্রতিনিধিদল, যার মধ্যে শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও ছিলেন, তারা আশ্বস্ত করেছেন যে ফ্যাসিবাদ যে সংকট রেখে গেছে, তা সমাধানে যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে সরাসরি আলোচনা করেছেন এবং মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘‘পেট্রোনাস’’-এর মাধ্যমে গ্যাস সংকট নিরসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অভ্যন্তরীণ গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ না নিয়ে কেবল আমদানি-নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছিল। তবে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, কীভাবে অভ্যন্তরীণ বিকল্প উৎস তৈরি করা যায় এবং জাতীয় জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়, সেই কার্যক্রমও অতি দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত সব সমস্যা হয়ত রাতারাতি শতভাগ সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে সরকারের প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও গভীর অনুভূতি নিয়ে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের মানুষের জন্য এই সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা যায়।’

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সব শ্রেণি পেশার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি এই ছয় মাসে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, যেখানে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন নিশ্চিত করা হয়েছে। ছোট্ট একটা উদাহরণ দেখলেই বোঝা যাবে, ইশতেহারের বাইরে গিয়েও সরকার কীভাবে মানুষের জন্য কাজ করেছে। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসর ভাতা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ফ্যাসিবাদের সরকার লোপাট করে দিয়েছিল। যার ফলে, ২০২২ সালের পর থেকে বিগত চার বছর ধরে আমাদের সম্মানিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা তাদের অবসর ও কল্যাণের ন্যায্য টাকা পাননি। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে অর্থের সংস্থান করে দেন। এই তো মাত্র দুই দিন আগে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার কোটি টাকার চেক প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়ে আমরা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে তুলে দিয়েছি। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনে এভাবেই প্রতিটি সেক্টরে যখনই যেখানে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, আমরা গভীর উপলব্ধির মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশের প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা বাড়িয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যা, ক্ষেত্রবিশেষে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ১ লক্ষ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এবং ক্ষেত্রবিশেষে তাদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ মুখপাত্র বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের অংশ হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যক্রমে ক্লাস ফোরে দুটি এবং ক্লাস সিক্সে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা, প্রথম শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ প্রদান শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রাইমারি গোল্ডকাপে ১১ লক্ষ ছেলে ও ১১ লক্ষ মেয়ে, মোট ২২ লক্ষ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে দেশজুড়ে একটি অভূতপূর্ব ক্রীড়া বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। আমরা দেখেছি, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ‘‘ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং কম্পিটিশন’’ আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়, মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে চালু হয়েছে। তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, এবং তৃতীয় ভাষায় দক্ষ বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে বাইরে পাঠানোর সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একই সাথে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধার জন্য যে নতুন পে-স্কেল প্রণয়ন করা হচ্ছে, তা অনেকটাই চূড়ান্তের পথে রয়েছে। ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, নতুন স্পোর্টস ভিলেজ প্রতিষ্ঠা এবং দেশজুড়ে খেলার মাঠগুলোর সংস্কার ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জনমানুষের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক ‘‘জুলাই জাদুঘর’’ যেমন চালু করা হয়েছে, তেমনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে শহিদ হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার হাত প্রসারিত করা হয়েছে। আহতদের দেশে ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী আরও বাড়ানো হয়েছে।’

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে হজের সুব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বিমান ভাড়াসহ সার্বিক ব্যয় হ্রাসের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আরও বেশি উদ্যোক্তা তৈরি, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, ইনোভেশন গ্র্যান্টের ব্যবস্থা করা এবং বিশেষ করে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্রিল্যান্সার কার্ড প্রদান, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন বৃদ্ধি এবং প্রতিটি এলাকার স্থানীয় ইন্ডাস্ট্রির সাথে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র স্থাপন করে একটি কার্যকর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের ট্রেনিং, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে আলাদা ফান্ড বা তহবিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং শ্রমবান্ধব আইনের মাধ্যমে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাটকল, চিনিকলসহ বন্ধ থাকা ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে বিএনপি সরকারের সময়েই বিদেশে ব্যাপক জনশক্তি রপ্তানির দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান শ্রমবাজারকে আরও উন্মুক্ত ও বহুমুখী করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের দক্ষ জনশক্তির জোগান কীভাবে মেলানো যায়, তা নিয়ে সরকারের নানামুখী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

আর্থিকখাতে সংস্কার

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামো পেয়েছিল, সেখানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। যার প্রতিফলন আমরা দেখেছি একটি জনবান্ধব বাজেটে, যেখানে ব্যাবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজন সেখানে কর হ্রাস করা হয়েছে, আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেড ও ব্যাবসার লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজতর করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে যেখানে উৎপাদনমুখী উদ্যোগ বহুমুখী রূপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যেসব ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে আমাদের স্থানীয় সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোর কাঁচামাল আমদানির ব্যয় কমানো হয়েছে এবং তৈরি পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ক সমন্বয় করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, অভ্যন্তরীণভাবে আমরা যেসব পণ্য উৎপাদন ও প্রস্তুত করতে পারি, সেগুলোর সক্ষমতা যেন আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।’

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্মানিত প্রবাসী ভাই-বোনদের যে গভীর আস্থা ও ভালোবাসা রয়েছে, তার প্রতিফলন হিসেবে আমরা দেখেছি গত জুলাইয়ে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে। এ ছাড়া বিগত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি পরিলক্ষিত হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সেই অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণ করেছি, যেখানে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নয়ন দর্শনের আলোকে ব্যাপকভাবে প্রাইভেটাইজেশন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, এসএমই লোন এবং স্টার্টআপ ফান্ডিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিদেশে যে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার হয়ে গিয়েছিল, তা দেশে ফেরত আনার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। আমরা দেখেছি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির শীর্ষ ২৫টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ৫০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা বাংলাদেশে এসে আলোচনা করেছেন, কীভাবে এ দেশে বিনিয়োগ আরও বাড়ানো যায়। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী যখন চীন ও মালয়েশিয়া সফর করেন, তখন সেখানকার বিনিয়োগকারীরাও গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন। কারণ তারা জানেন, নির্বাচিত এই সরকারের নীতির ধারাবাহিকতা থাকবে। পাশাপাশি আমাদের যে বিশাল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড রয়েছে, তাদের সরকারের বিভিন্ন পলিসির মাধ্যমে আরও দক্ষ ও যোগ্য তরুণ জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। অর্থনীতির অগ্রগতির সাথে সাথে আমাদের ক্রমবর্ধমান ভোক্তা বাজারের কারণে দেশে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আসার এক অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘ব্যবসা সহজ করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে, সরকার মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান বাধা দূর করে সুযোগ আরও বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পলিসি সাপোর্ট ও রাজস্ব নীতির সমন্বয় সাধন করেছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আনোয়ারা ও মোংলায় ব্যাবসাবান্ধব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী মহলের চাহিদার প্রেক্ষিতে আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন বন্দর যাতে সার্বক্ষণিক অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। ভ্যাট ও ট্যাক্সের আওতা কীভাবে বাড়ানো যায়, তার কার্যকর রূপরেখাও আমরা সরকারের প্রথম বাজেটেই প্রত্যক্ষ করেছি।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামোর মতো, ঠিক একইভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও একটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থা পেয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে আমরা দেখেছি, প্রথমবারের মতো উত্তরণের মাধ্যমে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের ধারাবাহিকতা সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত, জনবান্ধব ও সেবাধর্মী পুলিশ ও প্রশাসন তৈরি করা হয়েছে। আজ এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যেখানে পুলিশ, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সাধারণ মানুষ পূর্ণ আস্থা ফিরে পাচ্ছেন, মানুষ কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে তাৎক্ষণিক সমাধান ও আইনি প্রতিকার পাচ্ছেন। এরপরও বিভিন্ন অপশক্তির ষড়যন্ত্র এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ সর্বোচ্চ সজাগ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

আমরা দেখেছি, চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর, যা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ছিল, তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ করে দেওয়া হয়েছে। দেশের যেকোনো প্রান্তে অপরাধ সংঘটন, বিশেষ করে নারী ও শিশু হত্যা বা ধর্ষণের প্রতিটি ঘটনায় সরকারের কঠোর অবস্থান আমরা প্রত্যক্ষ করেছি এবং ইতিহাসের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণার নজির তৈরি হয়েছে। একই সাথে তনু হত্যাকাণ্ড এবং শহিদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা আসামিদের গ্রেপ্তারের কার্যক্রম ত্বরান্বিত হয়েছে। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের আসামিকে বহু বছর পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পার্শ্ববর্তী দেশের কাছে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ আবেদন জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইন সম্পূর্ণ নিজস্ব গতিতে চলছে। জুয়া, মাদক, ধূমপান ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর আইন পাস করা হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপকর্ম ঘটলে প্রতিটি থানায় দ্রুত মামলা দায়ের, আসামি গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও বিচারের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই ইতিবাচক ও স্থিতিশীল পরিবর্তনের ফলেই সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাদের সার্বিক ভ্রমণ সতর্কতা লেভেল ৩ থেকে কমিয়ে লেভেল ২-এ নামিয়ে এনেছে।’

অবকাঠামো, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশে যানজটের যে সমস্যা রয়েছে, তা নিরসনে পর্যায়ক্রমে এআই ট্র্যাফিক সিস্টেমের পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। নারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে তাদের প্রাধান্য দিয়ে খুব শিগগিরই আলাদা পিংক বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হচ্ছে। ঢাকার রাজপথে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস নামানো এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে তাল মিলিয়ে যানবাহনের ক্ষেত্রে ইলেকট্রিফিকেশন কীভাবে বাড়ানো যায়, সে ধরনের কার্যকর উদ্যোগ চালু রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ঈদের সময় প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ট্রেনের ভাড়ায় বিশেষ ছাড় কার্যকর করা হয়েছে। একই সাথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে নারীদের জন্য ট্রেনে আলাদা কামরার সুব্যবস্থা করা হয়েছিল। বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ-চীন ইকোনমিক করিডোর নিয়ে চীনের প্রিমিয়ার ও প্রেসিডেন্টের সাথে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে চীন এবং এই করিডোর ধরে আসিয়ান দেশগুলোর বাণিজ্যের এক অপার সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘বিএনপি সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি থেকে আমাদের সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসতে হবে। যার কারণে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বহুমুখী প্রকল্পের দিকে সরকার বিশেষ মনোনিবেশ করছে। ইতোমধ্যে দেশজুড়ে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, স্কুল-কলেজসহ নানা প্রতিষ্ঠানে সোলার প্রোগ্রামের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে, যার ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও রিসাইক্লেবল এনার্জির ক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব সূচিত হয়েছে।পাশাপাশি তিনটি এসডিজি ভিলেজ পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি ও অর্জন নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা। যেহেতু বাংলাদেশে সবুজ বিপ্লব বাস্তবায়িত হচ্ছে, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচি চলছে এবং সোলার এনার্জিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, সেহেতু এসব উদ্যোগকে কীভাবে আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেডিট প্রাপ্তির সাথে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী যখন অংশগ্রহণ করেছিলেন, তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারেরা বাংলাদেশের ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ও পরিবেশ-জলবায়ুসংক্রান্ত পলিসিগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।’

রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচিত সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে সমতা, ন্যায্যতা এবং মর্যাদা। এই ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের ক্ষেত্রগুলোতে সম্পর্ক এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে বিদেশি অংশীদারেরা কেবল আমদানি-রপ্তানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে আমাদের দেশে বড় আকারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করতে পারেন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারের নানামুখী কার্যকর উদ্যোগ চলমান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন দায়িত্বগ্রহণের পর প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া ও চীনে সরকারি সফরে যান, তখন আমরা দেখেছি, একজন নির্বাচিত সরকারপ্রধান যখন জনগণের প্রকৃত আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেন, তখন বিশ্ব মানচিত্রে দেশের পতাকাকে তিনি কতটা মর্যাদার সাথে সমুন্নত রাখতে পারেন। সেখানে তিনি যে আন্তর্জাতিক সম্মাননা, ভালোবাসা ও উষ্ণ অভিনন্দন পেয়েছেন, তা প্রতিটি বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের গর্বিত করেছে। এই মর্যাদার ধারাবাহিকতাই প্রতিফলিত হয়েছে, যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থানকে আরও গৌরবময় করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এ মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের এই নির্বাচিত সরকারের হাত ধরে অতীতের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির চির অবসান ঘটেছে। আমরা আজ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি। কিছুদিন আগে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ঘটনায় জোরালো ভাষায় ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানানোর মধ্য দিয়ে সেটিরই সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কারণ আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কারও কোনো হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। জনগণের ক্ষমতায়িত রাজনৈতিক দল হিসেবে আজ যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে, তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও অভিপ্রায়কে ধারণ করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি নিয়ে মাথা উঁচু করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর স্বতন্ত্র ভিন্নমাত্রিক নেতৃত্ব

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘এই বাংলাদেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের মতো করে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে এসেছেন। আমরা দেখেছি, তিনি বারবার তৃণমূলের মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন, কোদাল হাতে নিয়ে খাল খনন কর্মসূচিতে নেমে পড়ছেন, স্কুলের কোমলমতি শিশুদের পরম স্নেহে কোলে তুলে নিচ্ছেন। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি তার অত্যন্ত সাদাসিধে ও মিতব্যয়ী জীবনাচার। সামগ্রিকভাবে দীর্ঘদিন পর আজ আমরা এমন একটি সরকার পেয়েছি, যাকে দেশের প্রতিটি মানুষ গভীর আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসা দিয়ে হৃদয়ে ধারণ করে।’

তিনি বলেন, ‘১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যে বাংলাদেশকে আমরা নতুন করে পুনর্গঠন করছি, সেখানে মাত্র ছয় মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলা হয়ত কিছুটা দুরূহ, তবে একটি বিষয় আজ নিশ্চিতভাবে বলা যায়, প্রতিটি ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই নির্বাচিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারের রয়েছে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা।’

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ, মেধাভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।

জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ, অনুপ্রেরণার উৎস জনগণ এবং এই সরকার প্রকৃত অর্থেই জনগণের সরকার।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধাননমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারি এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারি সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আউয়াল, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন,সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপি সরকারের ৬ মাস: কোন খাতে সাফল্য আর কোথায় চ্যালেঞ্জ

১৮০ দিন পূর্তিতে সরকারের কর্মযজ্ঞের ১০ দিক তুলে ধরলেন মাহ্‌দী আমিন

আপডেট টাইম : ০৯:৪২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ‘১৮০ দিন পূর্তি’ গণমুখী ও বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের দশটি দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। আজ সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এসব তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী,ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

অভূতপূর্ব জনসমর্থন

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘বিগত ছয় মাসে আমাদের সবচেয়ে বড় ও লক্ষণীয় অর্জন হলো, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব ও অবিচল জনসমর্থন। ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নিশি রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের দীর্ঘ অচলাবস্থা পেরিয়ে দেশের মানুষ অবশেষে নিজেদের পছন্দের দলকে ও প্রার্থীকে মুক্তভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আজ এমন এক সরকার অধিষ্ঠিত হয়েছে, যার ক্ষমতার একমাত্র উৎস দেশের জনগণ।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দল বিএনপি এবং দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক যে কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং গভীর আবেগ ও অনুভূতির, তা আমরা বারবার প্রত্যক্ষ করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে মানুষের যে ঢল নেমেছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একইভাবে, আমাদের প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের যে বাঁধভাঙা উপস্থিতি দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে এই দলের প্রতি এবং এর নেতৃত্বের প্রতি জনগণের ভালোবাসা কতটা অকৃত্রিম।’

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণা থেকে শুরু করে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে সরকারের প্রতিটি জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই জনতার ঢল নেমেছে। মানুষের এই অটুট আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসাকে ধারণ করেই সরকার প্রতিটি পদক্ষেপে দেশ ও জনগণের প্রতি সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় স্বাতন্ত্র্য হলো, নির্বাচনী ইশতেহারকে নিছক কথার কথা না রেখে, সেখানে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে।’

সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি, এই ছয় মাসে সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কীভাবে সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমে প্রতিফলিত হয়েছে। আজকের এই সরকারের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ইতিহাস। ফ্যাসিবাদবিরোধী দেড় দশকের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, যেখানে গুম, খুন, হামলা, মামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন পেরিয়ে বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে রাজপথে ছিল। সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আমরা দেখেছি, প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষ এবং সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল এক হয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানবাধিকার থাকবে, বাকস্বাধীনতা থাকবে এবং আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত থাকবে। সরকারের কার্যক্রমে আমরা ঠিক সেটিরই প্রতিফলন দেখেছি। গত ছয় মাসে বাক্‌স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখার দৃষ্টান্ত আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, যেখানে একটিবারের জন্যও কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি সর্বোচ্চ বাক্‌স্বাধীনতা। অনেক সময় তা সীমা লঙ্ঘন করেছে, উসকানি দেওয়া হয়েছে কিংবা অশোভন আচরণ করা হয়েছে, তবুও সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে ঠিক যেভাবে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিকে ধারণ করেই এগিয়ে চলেছে জনগণের এই সরকার।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা দেখেছি এক অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত সংসদ, যেখানে মাননীয় সংসদ সদস্যগণ পরস্পরের সাথে আলোচনা করেছেন, সমালোচনা করেছেন এবং যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন। দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে, সরকার গঠনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশটিকে সংসদে আইনে রূপান্তরের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ কায়েমকারী সেই সন্ত্রাসী রাজনৈতিক সংগঠনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশে শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিত থাকার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠদের নামে সংসদের গ্যালারিগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। বিএনপির এই সরকারের ঐতিহ্য, সেই সুমহান দর্শন ‘‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’’। আর সেটিকে ধারণ করেই ভিন্ন মত, পথ, ধর্ম, বর্ণ, পাহাড়-সমতলের সক্ষম-অক্ষম প্রতিটি মানুষকে এক কাতারে এনে আমাদের এই সরকার নিশ্চিত করেছে সকলের স্বাধীনতা, সকলের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, যার মূল পাথেয় হলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সুনিশ্চিত করা।’

ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য কীভাবে নিরলস কাজ করে যাওয়া হয়েছে। এর মূল কারণ, এই ইশতেহারের ভিত্তির ভেতরে রয়েছে বিএনপির সুদৃঢ় রাজনৈতিক দর্শন। এই ইশতেহারেই আমরা প্রতিফলিত হতে দেখেছি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ১৯ দফা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেই ‘‘ভিশন ২০৩০’’, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রণীত বিএনপির ২৭ দফা এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিক সকল রাজনৈতিক দলকে এক কাতারে নিয়ে আসা সেই ৩১ দফা।’

তিনি বলেন, ‘সুতরাং ঐতিহাসিক ১৯ দফা, ভিশন ২০৩০, ২৭ দফা ও ৩১ দফা, এই চারটি মৌলিক বিষয় এবং নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে সারা বাংলাদেশ জুড়ে সর্বস্তরের মানুষের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রণীত ইশতেহারের আলোকেই আজ দেশ পরিচালিত হচ্ছে। ঠিক যেভাবে নোট অব ডিসেন্টসহ বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল, ঠিক সে অনুযায়ী যার প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন হবে বলে প্রধানমন্ত্রী মহান সংসদে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ভোট প্রদানের পর হাতের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনী ইশতেহারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ভেতর সবার আগে যে সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হয়েছিল, তা হলো কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা। প্রথম মন্ত্রিসভার সেই অনুমোদিত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে প্রায় ১৩ লক্ষ কৃষক পরিবার সরাসরি উপকৃত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা দেখেছি, কৃষকদের ক্ষমতায়নের জন্য কৃষক কার্ড, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসীদের অধিকার ও সহায়তায় প্রবাসী কার্ড, এবং দেশজুড়ে প্রতিটি জেলা পর্যায়ে অ্যামপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমরা দেখেছি ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, যাজক ও বৌদ্ধ অধ্যক্ষদের জন্য সম্মানি প্রদান এবং দেশজুড়ে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সরকার গঠনের পর দ্রুততম সময়ে এসব কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনটি প্রি-ফেজ বা প্রি-ট্রায়াল, কোনটি ট্রায়াল আবার কোনটি ফেজ-১ আকারে শুরু হলেও প্রতিটি ফ্ল্যাগশিপ বা সিগনেচার প্রোগ্রাম সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে; যার মাধ্যমে গণমানুষের ভাগ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।’

অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাফল্য

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা দেখেছি একটি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কারণ, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ এমন একটি রাষ্ট্রকাঠামো রেখে গিয়েছিল, যা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। আমরা দেখেছি, দায়িত্ব গ্রহণের পরই পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। সরকার গঠনের অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় যাতে কোনো সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে না পারে এবং কৃত্রিমভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি না পায়, সে বিষয়ে কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহায় দীর্ঘকাল পর কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেনি। সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপে শ্রমিক, মালিক, ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন ও বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন—সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে, যেন প্রতিটি শ্রমিক তাঁদের বেতন, বকেয়া এবং বোনাস যথাযথভাবে বুঝে পান। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে যখন তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং বিশ্বের প্রায় সব দেশেই দাম বাড়াতে হয়েছিল, তখন দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক সরকার তেলের দাম না বাড়িয়ে বরং অভ্যন্তরীণ সরবরাহকে সম্পূর্ণ নিরবচ্ছিন্ন রেখেছিল।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ মুখপাত্র বলেন, ‘পবিত্র ঈদুল আজহার সময় আমরা দেখেছি কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কীভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল। বিদেশ থেকে কোনো পশু আমদানি না করে দেশের খামারিদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ঈদের দিন রাত থেকে শুরু করে ঢাকা সহ প্রতিটি সিটি করপোরেশনে রেকর্ড দ্রুততম সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় দীর্ঘদিন পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং সম্পূর্ণ নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে যেই শিক্ষার্থীর যে গ্রেড বা নম্বর প্রাপ্য, ঠিক সেভাবেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেট প্রণয়নেও আমরা জন-আকাঙ্ক্ষার সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় ভ্যাট ও ট্যাক্সের হার কমিয়ে ৬০টিরও বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এই বাজেট ছিল একাধারে বাণিজ্যবান্ধব, অর্থনীতিবান্ধব এবং বিনিয়োগবান্ধব, যেখানে সর্বোচ্চ প্রাধান্য পেয়েছে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সার্বিক জ্বালানিসহ দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে বন্যা ও পাহাড়ধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হয়েছিল। সেখানেও সমন্বিত উদ্যোগ ও বহুমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের পাশে সরকার দাঁড়িয়েছে। তাঁদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।’

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার কিছুটা প্রভাব আমাদের ওপরও পড়েছে। গত কয়েক দিন ধরে গ্যাসের যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করছি। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং জানিয়েছেন যে, সংকট নিরসনে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, আমাদের দুটি এফএসআরইউ-এর মধ্যে একটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সেটি মেরামত করার জন্য যেমন কিছুটা সময়ের প্রয়োজন, তেমনি এটিও বাস্তবতা যে, বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত এই জ্বালানি খাতকে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে যাওয়া হয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ কাটিয়ে তুলতে ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যখন চীন ও মালয়েশিয়া সফর করেন, তখন সেখানকার জ্বালানিখাতের বিনিয়োগকারীদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। মধ্যমেয়াদে কত দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা যায়, তার ইতিবাচক ফল আমরা অচিরেই দেখতে পাব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘একই সাথে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত শীর্ষ ২৫টি কোম্পানির প্রতিনিধিদল, যার মধ্যে শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও ছিলেন, তারা আশ্বস্ত করেছেন যে ফ্যাসিবাদ যে সংকট রেখে গেছে, তা সমাধানে যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর সহায়তা দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে সরাসরি আলোচনা করেছেন এবং মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘‘পেট্রোনাস’’-এর মাধ্যমে গ্যাস সংকট নিরসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অভ্যন্তরীণ গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ না নিয়ে কেবল আমদানি-নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছিল। তবে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী, কীভাবে অভ্যন্তরীণ বিকল্প উৎস তৈরি করা যায় এবং জাতীয় জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধি করা যায়, সেই কার্যক্রমও অতি দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত সব সমস্যা হয়ত রাতারাতি শতভাগ সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে সরকারের প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও গভীর অনুভূতি নিয়ে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের মানুষের জন্য এই সংকটের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা যায়।’

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সব শ্রেণি পেশার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি এই ছয় মাসে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, যেখানে সমাজের প্রতিটি শ্রেণি ও পেশার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন নিশ্চিত করা হয়েছে। ছোট্ট একটা উদাহরণ দেখলেই বোঝা যাবে, ইশতেহারের বাইরে গিয়েও সরকার কীভাবে মানুষের জন্য কাজ করেছে। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসর ভাতা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ফ্যাসিবাদের সরকার লোপাট করে দিয়েছিল। যার ফলে, ২০২২ সালের পর থেকে বিগত চার বছর ধরে আমাদের সম্মানিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা তাদের অবসর ও কল্যাণের ন্যায্য টাকা পাননি। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে অর্থের সংস্থান করে দেন। এই তো মাত্র দুই দিন আগে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার কোটি টাকার চেক প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়ে আমরা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে তুলে দিয়েছি। ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনে এভাবেই প্রতিটি সেক্টরে যখনই যেখানে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, আমরা গভীর উপলব্ধির মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশের প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা বাড়িয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যা, ক্ষেত্রবিশেষে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ১ লক্ষ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এবং ক্ষেত্রবিশেষে তাদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ মুখপাত্র বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের অংশ হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যক্রমে ক্লাস ফোরে দুটি এবং ক্লাস সিক্সে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা, প্রথম শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ প্রদান শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রাইমারি গোল্ডকাপে ১১ লক্ষ ছেলে ও ১১ লক্ষ মেয়ে, মোট ২২ লক্ষ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে দেশজুড়ে একটি অভূতপূর্ব ক্রীড়া বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। আমরা দেখেছি, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ‘‘ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং কম্পিটিশন’’ আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়, মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে চালু হয়েছে। তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, এবং তৃতীয় ভাষায় দক্ষ বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে বাইরে পাঠানোর সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একই সাথে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধার জন্য যে নতুন পে-স্কেল প্রণয়ন করা হচ্ছে, তা অনেকটাই চূড়ান্তের পথে রয়েছে। ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, নতুন স্পোর্টস ভিলেজ প্রতিষ্ঠা এবং দেশজুড়ে খেলার মাঠগুলোর সংস্কার ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জনমানুষের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক ‘‘জুলাই জাদুঘর’’ যেমন চালু করা হয়েছে, তেমনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে শহিদ হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার হাত প্রসারিত করা হয়েছে। আহতদের দেশে ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী আরও বাড়ানো হয়েছে।’

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে হজের সুব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বিমান ভাড়াসহ সার্বিক ব্যয় হ্রাসের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশজুড়ে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আরও বেশি উদ্যোক্তা তৈরি, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, ইনোভেশন গ্র্যান্টের ব্যবস্থা করা এবং বিশেষ করে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্রিল্যান্সার কার্ড প্রদান, ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশন বৃদ্ধি এবং প্রতিটি এলাকার স্থানীয় ইন্ডাস্ট্রির সাথে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র স্থাপন করে একটি কার্যকর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের ট্রেনিং, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে আলাদা ফান্ড বা তহবিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং শ্রমবান্ধব আইনের মাধ্যমে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাটকল, চিনিকলসহ বন্ধ থাকা ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতীতে বিএনপি সরকারের সময়েই বিদেশে ব্যাপক জনশক্তি রপ্তানির দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান শ্রমবাজারকে আরও উন্মুক্ত ও বহুমুখী করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের দক্ষ জনশক্তির জোগান কীভাবে মেলানো যায়, তা নিয়ে সরকারের নানামুখী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

আর্থিকখাতে সংস্কার

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামো পেয়েছিল, সেখানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। যার প্রতিফলন আমরা দেখেছি একটি জনবান্ধব বাজেটে, যেখানে ব্যাবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজন সেখানে কর হ্রাস করা হয়েছে, আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেড ও ব্যাবসার লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজতর করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে যেখানে উৎপাদনমুখী উদ্যোগ বহুমুখী রূপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যেসব ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে আমাদের স্থানীয় সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোর কাঁচামাল আমদানির ব্যয় কমানো হয়েছে এবং তৈরি পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ক সমন্বয় করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, অভ্যন্তরীণভাবে আমরা যেসব পণ্য উৎপাদন ও প্রস্তুত করতে পারি, সেগুলোর সক্ষমতা যেন আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।’

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচিত সরকারের প্রতি সম্মানিত প্রবাসী ভাই-বোনদের যে গভীর আস্থা ও ভালোবাসা রয়েছে, তার প্রতিফলন হিসেবে আমরা দেখেছি গত জুলাইয়ে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে। এ ছাড়া বিগত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি পরিলক্ষিত হয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সেই অর্থনৈতিক নীতিমালা গ্রহণ করেছি, যেখানে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নয়ন দর্শনের আলোকে ব্যাপকভাবে প্রাইভেটাইজেশন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ, এসএমই লোন এবং স্টার্টআপ ফান্ডিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিদেশে যে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচার হয়ে গিয়েছিল, তা দেশে ফেরত আনার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। আমরা দেখেছি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির শীর্ষ ২৫টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ৫০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা বাংলাদেশে এসে আলোচনা করেছেন, কীভাবে এ দেশে বিনিয়োগ আরও বাড়ানো যায়। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী যখন চীন ও মালয়েশিয়া সফর করেন, তখন সেখানকার বিনিয়োগকারীরাও গভীর আস্থা প্রকাশ করেছেন। কারণ তারা জানেন, নির্বাচিত এই সরকারের নীতির ধারাবাহিকতা থাকবে। পাশাপাশি আমাদের যে বিশাল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড রয়েছে, তাদের সরকারের বিভিন্ন পলিসির মাধ্যমে আরও দক্ষ ও যোগ্য তরুণ জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। অর্থনীতির অগ্রগতির সাথে সাথে আমাদের ক্রমবর্ধমান ভোক্তা বাজারের কারণে দেশে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আসার এক অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘ব্যবসা সহজ করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে, সরকার মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান বাধা দূর করে সুযোগ আরও বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পলিসি সাপোর্ট ও রাজস্ব নীতির সমন্বয় সাধন করেছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির পাশাপাশি নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আনোয়ারা ও মোংলায় ব্যাবসাবান্ধব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী মহলের চাহিদার প্রেক্ষিতে আমদানি-রপ্তানি নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন বন্দর যাতে সার্বক্ষণিক অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। ভ্যাট ও ট্যাক্সের আওতা কীভাবে বাড়ানো যায়, তার কার্যকর রূপরেখাও আমরা সরকারের প্রথম বাজেটেই প্রত্যক্ষ করেছি।’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামোর মতো, ঠিক একইভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও একটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থা পেয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে আমরা দেখেছি, প্রথমবারের মতো উত্তরণের মাধ্যমে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের ধারাবাহিকতা সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত, জনবান্ধব ও সেবাধর্মী পুলিশ ও প্রশাসন তৈরি করা হয়েছে। আজ এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যেখানে পুলিশ, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সাধারণ মানুষ পূর্ণ আস্থা ফিরে পাচ্ছেন, মানুষ কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে তাৎক্ষণিক সমাধান ও আইনি প্রতিকার পাচ্ছেন। এরপরও বিভিন্ন অপশক্তির ষড়যন্ত্র এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ সর্বোচ্চ সজাগ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

আমরা দেখেছি, চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর, যা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য ছিল, তা দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ করে দেওয়া হয়েছে। দেশের যেকোনো প্রান্তে অপরাধ সংঘটন, বিশেষ করে নারী ও শিশু হত্যা বা ধর্ষণের প্রতিটি ঘটনায় সরকারের কঠোর অবস্থান আমরা প্রত্যক্ষ করেছি এবং ইতিহাসের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণার নজির তৈরি হয়েছে। একই সাথে তনু হত্যাকাণ্ড এবং শহিদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের মতো দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা আসামিদের গ্রেপ্তারের কার্যক্রম ত্বরান্বিত হয়েছে। শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের আসামিকে বহু বছর পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পার্শ্ববর্তী দেশের কাছে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ আবেদন জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইন সম্পূর্ণ নিজস্ব গতিতে চলছে। জুয়া, মাদক, ধূমপান ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর আইন পাস করা হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা অপকর্ম ঘটলে প্রতিটি থানায় দ্রুত মামলা দায়ের, আসামি গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটনায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ ও বিচারের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই ইতিবাচক ও স্থিতিশীল পরিবর্তনের ফলেই সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাদের সার্বিক ভ্রমণ সতর্কতা লেভেল ৩ থেকে কমিয়ে লেভেল ২-এ নামিয়ে এনেছে।’

অবকাঠামো, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশে যানজটের যে সমস্যা রয়েছে, তা নিরসনে পর্যায়ক্রমে এআই ট্র্যাফিক সিস্টেমের পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। নারীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে তাদের প্রাধান্য দিয়ে খুব শিগগিরই আলাদা পিংক বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হচ্ছে। ঢাকার রাজপথে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস নামানো এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে তাল মিলিয়ে যানবাহনের ক্ষেত্রে ইলেকট্রিফিকেশন কীভাবে বাড়ানো যায়, সে ধরনের কার্যকর উদ্যোগ চালু রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ঈদের সময় প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ট্রেনের ভাড়ায় বিশেষ ছাড় কার্যকর করা হয়েছে। একই সাথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে নারীদের জন্য ট্রেনে আলাদা কামরার সুব্যবস্থা করা হয়েছিল। বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ-চীন ইকোনমিক করিডোর নিয়ে চীনের প্রিমিয়ার ও প্রেসিডেন্টের সাথে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে চীন এবং এই করিডোর ধরে আসিয়ান দেশগুলোর বাণিজ্যের এক অপার সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘বিএনপি সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি থেকে আমাদের সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসতে হবে। যার কারণে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বহুমুখী প্রকল্পের দিকে সরকার বিশেষ মনোনিবেশ করছে। ইতোমধ্যে দেশজুড়ে বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা, স্কুল-কলেজসহ নানা প্রতিষ্ঠানে সোলার প্রোগ্রামের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে, যার ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও রিসাইক্লেবল এনার্জির ক্ষেত্রে এক নতুন বিপ্লব সূচিত হয়েছে।পাশাপাশি তিনটি এসডিজি ভিলেজ পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি ও অর্জন নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা। যেহেতু বাংলাদেশে সবুজ বিপ্লব বাস্তবায়িত হচ্ছে, দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচি চলছে এবং সোলার এনার্জিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, সেহেতু এসব উদ্যোগকে কীভাবে আন্তর্জাতিক কার্বন ক্রেডিট প্রাপ্তির সাথে যুক্ত করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী যখন অংশগ্রহণ করেছিলেন, তখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারেরা বাংলাদেশের ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ও পরিবেশ-জলবায়ুসংক্রান্ত পলিসিগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।’

রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচিত সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে সমতা, ন্যায্যতা এবং মর্যাদা। এই ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের ক্ষেত্রগুলোতে সম্পর্ক এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে বিদেশি অংশীদারেরা কেবল আমদানি-রপ্তানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে আমাদের দেশে বড় আকারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করতে পারেন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারের নানামুখী কার্যকর উদ্যোগ চলমান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন দায়িত্বগ্রহণের পর প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া ও চীনে সরকারি সফরে যান, তখন আমরা দেখেছি, একজন নির্বাচিত সরকারপ্রধান যখন জনগণের প্রকৃত আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেন, তখন বিশ্ব মানচিত্রে দেশের পতাকাকে তিনি কতটা মর্যাদার সাথে সমুন্নত রাখতে পারেন। সেখানে তিনি যে আন্তর্জাতিক সম্মাননা, ভালোবাসা ও উষ্ণ অভিনন্দন পেয়েছেন, তা প্রতিটি বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের গর্বিত করেছে। এই মর্যাদার ধারাবাহিকতাই প্রতিফলিত হয়েছে, যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থানকে আরও গৌরবময় করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এ মুখপাত্র বলেন, ‘আমাদের এই নির্বাচিত সরকারের হাত ধরে অতীতের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির চির অবসান ঘটেছে। আমরা আজ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি। কিছুদিন আগে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ঘটনায় জোরালো ভাষায় ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানানোর মধ্য দিয়ে সেটিরই সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কারণ আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কারও কোনো হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই। জনগণের ক্ষমতায়িত রাজনৈতিক দল হিসেবে আজ যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে, তারা জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও অভিপ্রায়কে ধারণ করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি নিয়ে মাথা উঁচু করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর স্বতন্ত্র ভিন্নমাত্রিক নেতৃত্ব

মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘এই বাংলাদেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের মতো করে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে এসেছেন। আমরা দেখেছি, তিনি বারবার তৃণমূলের মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন, কোদাল হাতে নিয়ে খাল খনন কর্মসূচিতে নেমে পড়ছেন, স্কুলের কোমলমতি শিশুদের পরম স্নেহে কোলে তুলে নিচ্ছেন। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি তার অত্যন্ত সাদাসিধে ও মিতব্যয়ী জীবনাচার। সামগ্রিকভাবে দীর্ঘদিন পর আজ আমরা এমন একটি সরকার পেয়েছি, যাকে দেশের প্রতিটি মানুষ গভীর আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসা দিয়ে হৃদয়ে ধারণ করে।’

তিনি বলেন, ‘১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যে বাংলাদেশকে আমরা নতুন করে পুনর্গঠন করছি, সেখানে মাত্র ছয় মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলা হয়ত কিছুটা দুরূহ, তবে একটি বিষয় আজ নিশ্চিতভাবে বলা যায়, প্রতিটি ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই নির্বাচিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারের রয়েছে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা।’

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ, মেধাভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।

জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ, অনুপ্রেরণার উৎস জনগণ এবং এই সরকার প্রকৃত অর্থেই জনগণের সরকার।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধাননমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারি এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারি সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আউয়াল, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন,সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ।