ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফোন খুলে নেওয়ার পর সকেটে চার্জার লাগিয়ে রাখেন, এতে কি বিদ্যুৎ খরচ হয়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে অনলাইন লেনদেন, সামাজিক মাধ্যম, ভিডিও দেখা কিংবা বিনোদন প্রায় সব ক্ষেত্রেই স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে নিয়মিত ফোন চার্জ দেওয়াও এখন আমাদের প্রতিদিনের রুটিনের অংশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো— প্রতিদিন একটি স্মার্টফোন চার্জ করতে মাসে বিদ্যুৎ বিল কতটা বাড়ে?

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাজেট হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে মোবাইল চার্জারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। মোবাইল সচল রাখতে সেটিকে চার্জ দেওয়া খুবই জরুরি। অনেক সময় মানুষ ফোন চার্জ করার পর মোবাইলটি খুলে নেন, কিন্তু চার্জারটি সকেটেই লাগানো অবস্থায় রেখে দেন। অনেকেই ভাবেন— এতে কোনো বিদ্যুৎ খরচ হয় না। আবার অনেকেরই ধারণা— এতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়। এমন পরিস্থিতিতে আসল সত্যিটা কী? মোবাইল সংযুক্ত না থাকলেও কি চার্জারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়ে থাকে?

চলুন জেনে নেওয়া যাক, এমন পরিস্থিতিতে কতটা বিদ্যুৎ খরচ হয়, নাকি হয় না—

চার্জার কি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে

যখন চার্জার সকেটে লাগানো থাকে এবং সুইচ অন থাকে, তখন তার মধ্যে কিছু পরিমাণ বিদ্যুতের প্রবাহ চলতেই থাকে। একে ‘ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার’ বা ‘স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার’ বলা হয়। আপনার ফোন চার্জ না হলেও চার্জারের ভেতরের সার্কিট সক্রিয় অবস্থায় থাকে এবং খুব অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। যদিও এই বিদ্যুৎ খরচ খুবই কম। তবে একেবারে শূন্য নয়। পুরোনো ও সস্তা চার্জার সাধারণত বেশি স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার ব্যবহার করে। অন্যদিকে নতুন ও ব্র্যান্ডেড চার্জার এনার্জি এফিশিয়েন্টভাবে তৈরি করা হয়।

কতটা বাড়ে বিদ্যুৎ বিল

সাধারণভাবে একটি ভালো মোবাইল চার্জার স্ট্যান্ডবাই মোডে প্রায় শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ৫ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। এই খরচ খুবই কম হয়। ফলে মাসিক বিদ্যুৎ বিলে এর খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। ধরুন, আপনার চার্জার শূন্য দশমিক ৩ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে এবং সেটি পুরো মাস ধরে সকেটে লাগানো অবস্থায় রয়েছে, তাহলেও মোট বিদ্যুৎ খরচ খুবই সামান্য হবে। এর খরচ মোটামুটি ১ টাকারও কম হতে পারে। অর্থাৎ শুধু একটি মোবাইল চার্জারের কারণে বিদ্যুৎ বিলে বড়সড় বৃদ্ধি হয় না। তবে আপনার বাড়িতে যদি একাধিক চার্জার, টিভি, সেট-টপ বক্স, মাইক্রোওভেন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র সবসময় স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকে, তাহলে সেগুলির সম্মিলিত বিদ্যুৎ খরচ বছরে অনেকটা বেড়ে যেতে পারে।

শুধু বিল নয়, নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ

চার্জার সবসময় সকেটে লাগানো থাকলে শুধু বিদ্যুৎ খরচই হয় না, নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ে। খারাপ মানের বা নকল চার্জার বেশি গরম হয়ে যায়। বিদ্যুতের সংযোগ থাকলে তাতে শর্ট সার্কিট বা স্পার্ক হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে গরমকালে বা খারাপ ওয়্যারিং থাকা বাড়িতে এই ঝুঁকি আরও বেশি থাকে। তাই ব্যবহার শেষ হলে চার্জার সকেট থেকে খুলে রাখা বেশি নিরাপদ ও উপকারী।

সবচেয়ে ভালো কী করা উচিত

যদি আপনি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে চান এবং নিরাপত্তার দিক থেকেও সতর্ক থাকতে চান, তাহলে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো— ফোন চার্জ হয়ে গেলে চার্জারটি সকেট থেকে খুলে ফেলা। এতে সামান্য হলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রের আয়ুও ভালো থাকতে পারে। ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ফোন খুলে নেওয়ার পর সকেটে চার্জার লাগিয়ে রাখেন, এতে কি বিদ্যুৎ খরচ হয়

আপডেট টাইম : ১২:১৮:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের নানা কাজের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে অনলাইন লেনদেন, সামাজিক মাধ্যম, ভিডিও দেখা কিংবা বিনোদন প্রায় সব ক্ষেত্রেই স্মার্টফোনের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে নিয়মিত ফোন চার্জ দেওয়াও এখন আমাদের প্রতিদিনের রুটিনের অংশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো— প্রতিদিন একটি স্মার্টফোন চার্জ করতে মাসে বিদ্যুৎ বিল কতটা বাড়ে?

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাজেট হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে মোবাইল চার্জারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। মোবাইল সচল রাখতে সেটিকে চার্জ দেওয়া খুবই জরুরি। অনেক সময় মানুষ ফোন চার্জ করার পর মোবাইলটি খুলে নেন, কিন্তু চার্জারটি সকেটেই লাগানো অবস্থায় রেখে দেন। অনেকেই ভাবেন— এতে কোনো বিদ্যুৎ খরচ হয় না। আবার অনেকেরই ধারণা— এতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়। এমন পরিস্থিতিতে আসল সত্যিটা কী? মোবাইল সংযুক্ত না থাকলেও কি চার্জারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়ে থাকে?

চলুন জেনে নেওয়া যাক, এমন পরিস্থিতিতে কতটা বিদ্যুৎ খরচ হয়, নাকি হয় না—

চার্জার কি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে

যখন চার্জার সকেটে লাগানো থাকে এবং সুইচ অন থাকে, তখন তার মধ্যে কিছু পরিমাণ বিদ্যুতের প্রবাহ চলতেই থাকে। একে ‘ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার’ বা ‘স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার’ বলা হয়। আপনার ফোন চার্জ না হলেও চার্জারের ভেতরের সার্কিট সক্রিয় অবস্থায় থাকে এবং খুব অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। যদিও এই বিদ্যুৎ খরচ খুবই কম। তবে একেবারে শূন্য নয়। পুরোনো ও সস্তা চার্জার সাধারণত বেশি স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার ব্যবহার করে। অন্যদিকে নতুন ও ব্র্যান্ডেড চার্জার এনার্জি এফিশিয়েন্টভাবে তৈরি করা হয়।

কতটা বাড়ে বিদ্যুৎ বিল

সাধারণভাবে একটি ভালো মোবাইল চার্জার স্ট্যান্ডবাই মোডে প্রায় শূন্য দশমিক ১ থেকে শূন্য দশমিক ৫ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। এই খরচ খুবই কম হয়। ফলে মাসিক বিদ্যুৎ বিলে এর খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। ধরুন, আপনার চার্জার শূন্য দশমিক ৩ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে এবং সেটি পুরো মাস ধরে সকেটে লাগানো অবস্থায় রয়েছে, তাহলেও মোট বিদ্যুৎ খরচ খুবই সামান্য হবে। এর খরচ মোটামুটি ১ টাকারও কম হতে পারে। অর্থাৎ শুধু একটি মোবাইল চার্জারের কারণে বিদ্যুৎ বিলে বড়সড় বৃদ্ধি হয় না। তবে আপনার বাড়িতে যদি একাধিক চার্জার, টিভি, সেট-টপ বক্স, মাইক্রোওভেন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র সবসময় স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকে, তাহলে সেগুলির সম্মিলিত বিদ্যুৎ খরচ বছরে অনেকটা বেড়ে যেতে পারে।

শুধু বিল নয়, নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ

চার্জার সবসময় সকেটে লাগানো থাকলে শুধু বিদ্যুৎ খরচই হয় না, নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ে। খারাপ মানের বা নকল চার্জার বেশি গরম হয়ে যায়। বিদ্যুতের সংযোগ থাকলে তাতে শর্ট সার্কিট বা স্পার্ক হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে গরমকালে বা খারাপ ওয়্যারিং থাকা বাড়িতে এই ঝুঁকি আরও বেশি থাকে। তাই ব্যবহার শেষ হলে চার্জার সকেট থেকে খুলে রাখা বেশি নিরাপদ ও উপকারী।

সবচেয়ে ভালো কী করা উচিত

যদি আপনি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে চান এবং নিরাপত্তার দিক থেকেও সতর্ক থাকতে চান, তাহলে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো— ফোন চার্জ হয়ে গেলে চার্জারটি সকেট থেকে খুলে ফেলা। এতে সামান্য হলেও বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রের আয়ুও ভালো থাকতে পারে। ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।