ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে অবৈধ লেনদেন ৩ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুতের অধিকাংশই চুরি বিমান মন্ত্রণালয়ে সিন্ডিকেট দূর করতে চেষ্টা চলছ: আফরোজা খানম ১৫ আগস্ট ঘিরে রাজধানীতে মোতায়েন থাকবে সোয়াট-বোম্ব ডিসপোজাল ও কে-নাইন ইউনিট একযোগে অবসর-কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা একটি ইয়ারবাড কতদিন ব্যহবার করা যায় তুচ্ছ ঘটনায় শিল্পীদের আদালতে নেওয়া যন্ত্রণাদায়ক কলকাতার বিভিন্ন মসজিদে শোনা যায়নি জুমার আজান বিচ্ছেদ হলে রোনালদোর সম্পদের কতটা যাবে জর্জিনার হাতে, ফাঁস ‘গোপন’ চুক্তির তথ্য ১৫ আগস্ট ঘিরে গোপালগঞ্জে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন জন্মদিনে বেগম খালেদা জিয়া সংগ্রাম, ত্যাগ ও মানুষের ভালোবাসায় অমর এক জীবন

প্রধানমন্ত্রীর ভারত, জাপান সফর সময় ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে : শামা ওবায়েদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬ বার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত ও জাপান সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এটা নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রীর সময় এবং দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা কতটুক এগোচ্ছে তার ওপর।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের একটি আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়েছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্র সচিবের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘আমরাও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কোনো একটা সুইটেবল (উপযুক্ত) সময়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই জাপান সফর করবেন এবং জাপান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের দিনক্ষণ এবং ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী কবে জাপান সফর করবেন, তার দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। এটা আমাদের দুই দেশেরই একটা উপযুক্ত সময় নির্ধারণের বিষয়। আপনারা জানেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিভিন্ন কাজে এখন ব্যস্ত আছেন। ভারতসহ অন্যান্য সফরের কোনোকিছুই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এগুলো অবশ্যই দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।

ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান ও ভারত সফর নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সবসময়ই ইতিবাচক। সম্ভাবনা তো সবসময়ই আছে।’

তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সামনে সংসদ অধিবেশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক বিষয়ে কাজ চলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত রয়েছেন। এসবের মধ্যেই সময় মিললে ভারত, জাপানসহ প্রধানমন্ত্রীর সব সফরই হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সকল দেশ সফরের ক্ষেত্রেই ইতিবাচক আছি। কিন্তু এটা নির্ভর করবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সময়ের ওপর এবং দুই দেশের আলোচনার কতটুকু অগ্রগতি হচ্ছে, সেটার ওপর।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমানোর সুযোগ আছে

এ সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘যেকোনো সময় যখন দুই দেশের প্রধান কথা বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়, তখন অনেক সমস্যা সমাধানেরই সুযোগ থাকে। সেই সুযোগটা তো আছেই, রয়ে গেছে। ভারতের দিক থেকেও উচিত হবে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।’

ভারতে অবস্থান করে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির বক্তব্য দেওয়া বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নেয় না উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘জুলাইয়ের কথা এখনও মানুষের মনে জাগ্রত আছে, রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। সুতরাং সেই জায়গাটা থেকে অবশ্যই আমাদের সেনসিটিভ (সংবেদনশীল) হতে হবে।’

পররাষ্ট্র প্রমিন্ত্রী বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসলে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ‘সেটাই আমরা আশা করি। ভারতও যেন এটা মনে রাখে, সেটাই আমরা আশা করি।’

সিঙ্গাপুরে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর আলোচনা

সম্প্রতি সিঙ্গাপুর সরকারের আমন্ত্রণে দুই দিনের সফর করেছেন বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশটিতে কর্মরত প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ বাংলাদেশির বিষয়ে এবং আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে সিঙ্গাপুরের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

শামা ওবায়েদ বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত জোরদার। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনাল নিয়ে সিঙ্গাপুর সরকারের প্রস্তাবের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া সিঙ্গাপুরের বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শনের কথা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কীভাবে জ্বালানি উৎপাদন করা হচ্ছে, তা তারা দেখেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে অবৈধ লেনদেন ৩ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুতের অধিকাংশই চুরি

প্রধানমন্ত্রীর ভারত, জাপান সফর সময় ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে : শামা ওবায়েদ

আপডেট টাইম : ১১:৩১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত ও জাপান সফরের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এটা নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রীর সময় এবং দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা কতটুক এগোচ্ছে তার ওপর।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের একটি আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়েছে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছিলেন। তার সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্র সচিবের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘আমরাও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। কোনো একটা সুইটেবল (উপযুক্ত) সময়ে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই জাপান সফর করবেন এবং জাপান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের দিনক্ষণ এবং ভারত সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী কবে জাপান সফর করবেন, তার দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। এটা আমাদের দুই দেশেরই একটা উপযুক্ত সময় নির্ধারণের বিষয়। আপনারা জানেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিভিন্ন কাজে এখন ব্যস্ত আছেন। ভারতসহ অন্যান্য সফরের কোনোকিছুই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এগুলো অবশ্যই দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।

ব্রিকস সম্মেলনে যোগদান ও ভারত সফর নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সবসময়ই ইতিবাচক। সম্ভাবনা তো সবসময়ই আছে।’

তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সামনে সংসদ অধিবেশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক বিষয়ে কাজ চলছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত রয়েছেন। এসবের মধ্যেই সময় মিললে ভারত, জাপানসহ প্রধানমন্ত্রীর সব সফরই হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সকল দেশ সফরের ক্ষেত্রেই ইতিবাচক আছি। কিন্তু এটা নির্ভর করবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সময়ের ওপর এবং দুই দেশের আলোচনার কতটুকু অগ্রগতি হচ্ছে, সেটার ওপর।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমানোর সুযোগ আছে

এ সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘যেকোনো সময় যখন দুই দেশের প্রধান কথা বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়, তখন অনেক সমস্যা সমাধানেরই সুযোগ থাকে। সেই সুযোগটা তো আছেই, রয়ে গেছে। ভারতের দিক থেকেও উচিত হবে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা।’

ভারতে অবস্থান করে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির বক্তব্য দেওয়া বাংলাদেশের জনগণ ভালোভাবে নেয় না উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘জুলাইয়ের কথা এখনও মানুষের মনে জাগ্রত আছে, রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। সুতরাং সেই জায়গাটা থেকে অবশ্যই আমাদের সেনসিটিভ (সংবেদনশীল) হতে হবে।’

পররাষ্ট্র প্রমিন্ত্রী বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বসলে অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ‘সেটাই আমরা আশা করি। ভারতও যেন এটা মনে রাখে, সেটাই আমরা আশা করি।’

সিঙ্গাপুরে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর আলোচনা

সম্প্রতি সিঙ্গাপুর সরকারের আমন্ত্রণে দুই দিনের সফর করেছেন বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশটিতে কর্মরত প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ বাংলাদেশির বিষয়ে এবং আরও বেশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে সিঙ্গাপুরের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

শামা ওবায়েদ বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত জোরদার। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনাল নিয়ে সিঙ্গাপুর সরকারের প্রস্তাবের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া সিঙ্গাপুরের বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্প পরিদর্শনের কথা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কীভাবে জ্বালানি উৎপাদন করা হচ্ছে, তা তারা দেখেছেন।