ঢাকা ০১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনার ভাঙনে হুমকির মুখে ভোলা শহর

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার

ভোলায় মেঘনার তীব্র ভাঙনে সদর উপজেলার শিবপুর ও দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এরই মধ্যে ফসলি জমি, বসতঘর ও দোকানপাট হারিয়েছেন অনেকে।

বারবার জিও ব্যাগ ফেলেও ভাঙন ঠেকানো না যাওয়ায় আতঙ্কে স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে হুমকির মুখে পড়বে ভোলা শহরও।

ভাঙনকবলিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা না হলে শিবপুর ও মেদুয়া দুই ইউনিয়নই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে হুমকির মুখে পড়বে ভোলা শহর। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ না করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেঘনার তীব্র ভাঙন চলছে ভোলার সদর উপজেলার শিবপুর ও দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের কয়েকটি পয়েন্টে। এতে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে দুই ইউনিয়নের ফসলি জমি, বসতঘর ও দোকানপাট।

ইতোমধ্যে মেঘনার গর্ভে চলে গেছে শিবপুরের ভোলার খাল মৎস্য ঘাটটিও। তবে মেঘনার ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বারবার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। কিন্তু কিছুতেই ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। ফলে নদীভাঙনের কারণে নিঃস্ব হচ্ছেন মানুষ।

বর্তমানে চলতি বর্ষা মৌসুমে মেঘনা নদী যেন রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। এতে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। হুমকির মুখে পড়েছে ওই দুই ইউনিয়নসহ ভোলা শহর।

শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকার রিংকু বেগম বলেন, ‘একে একে মেঘনা নদীর সাতবার ভাঙনের শিকার হয়েছি।’

মেঘনার ভাঙনে হুমকির মুখে ভোলা শহরভাঙনের তীব্রতায় টিকছেনা জিও ব্যাগ ও জিও টিউব/ ছবি: জাগো নিউজ

একই এলাকার রাবেয়া বেগম বলেন, ‘তিনবার ভাঙনের শিকার হয়ে ফসলি জমি ও বসতঘর হারিয়ে এখন সরকারি জমিতে কোনো রকমে ঘর তুলে বসবাস করছি।’

শিবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রুবেল ও মেদুয়া ইউনিয়নের মাঝিরহাট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. হেলাল বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মেঘনার ভাঙন দেখা দিয়েছে। শিবপুরের ভোলার খাল মৎস্য ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে মেদুয়ার মাঝিরহাট বাজার সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত ভাঙনের তীব্রতা বেশি। নদী এখন মূল বেড়িবাঁধের কাছে চলে আসছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা না হলে মূল বেড়িবাঁধ ভেঙে শিবপুর ও মেদুয়া ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এছাড়াও হুমকির মুখে রয়েছে ভোলা শহরও।

ভোলার খাল এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল মালেক ও মিজানুর বলেন, নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বারবার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছে। কিন্তু কয়েকদিন পরই ব্যাগ নদীর স্রোতে চলে যাচ্ছে। কিছুতেই জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। নদীভাঙন রোধের জন্য স্থায়ী সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস ঘেরাও কর্মসূচিও করেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। সরকারের কাছে জোর অনুরোধ করছি, ভাঙন রোধের জন্য সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হোক।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ বলেন, সিসি ব্লক ব্যয়বহুল প্রকল্প। রাজস্ব খাতে উন্নয়ন ও মেইনটেন্যান্স কাজের বার্ষিক বাজেট থাকে দুই থেকে তিন কোটি টাকা। ওই টাকা দিয়ে সিসি ব্লকের বাঁধ নির্মাণ সম্ভব হয় না। শুধু জিও ব্যাগের কাজই সম্ভব। তাই জিও ব্যাগ ফেলা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রায় চার কিলোমিটার ভাঙনের শিকার হলেও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় গত দেড় বছরে প্রায় নয় কোটি টাকার জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হয়েছে। তবে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সিসি ব্লকের বাঁধ নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মেঘনার ভাঙনে হুমকির মুখে ভোলা শহর

আপডেট টাইম : ১১:৩০:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

ভোলায় মেঘনার তীব্র ভাঙনে সদর উপজেলার শিবপুর ও দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এরই মধ্যে ফসলি জমি, বসতঘর ও দোকানপাট হারিয়েছেন অনেকে।

বারবার জিও ব্যাগ ফেলেও ভাঙন ঠেকানো না যাওয়ায় আতঙ্কে স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে হুমকির মুখে পড়বে ভোলা শহরও।

ভাঙনকবলিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা না হলে শিবপুর ও মেদুয়া দুই ইউনিয়নই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে হুমকির মুখে পড়বে ভোলা শহর। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ না করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেঘনার তীব্র ভাঙন চলছে ভোলার সদর উপজেলার শিবপুর ও দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের কয়েকটি পয়েন্টে। এতে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে দুই ইউনিয়নের ফসলি জমি, বসতঘর ও দোকানপাট।

ইতোমধ্যে মেঘনার গর্ভে চলে গেছে শিবপুরের ভোলার খাল মৎস্য ঘাটটিও। তবে মেঘনার ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বারবার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে। কিন্তু কিছুতেই ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। ফলে নদীভাঙনের কারণে নিঃস্ব হচ্ছেন মানুষ।

বর্তমানে চলতি বর্ষা মৌসুমে মেঘনা নদী যেন রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। এতে আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। হুমকির মুখে পড়েছে ওই দুই ইউনিয়নসহ ভোলা শহর।

শিবপুর ইউনিয়নের ভোলার খাল সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকার রিংকু বেগম বলেন, ‘একে একে মেঘনা নদীর সাতবার ভাঙনের শিকার হয়েছি।’

মেঘনার ভাঙনে হুমকির মুখে ভোলা শহরভাঙনের তীব্রতায় টিকছেনা জিও ব্যাগ ও জিও টিউব/ ছবি: জাগো নিউজ

একই এলাকার রাবেয়া বেগম বলেন, ‘তিনবার ভাঙনের শিকার হয়ে ফসলি জমি ও বসতঘর হারিয়ে এখন সরকারি জমিতে কোনো রকমে ঘর তুলে বসবাস করছি।’

শিবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রুবেল ও মেদুয়া ইউনিয়নের মাঝিরহাট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. হেলাল বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মেঘনার ভাঙন দেখা দিয়েছে। শিবপুরের ভোলার খাল মৎস্য ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু করে মেদুয়ার মাঝিরহাট বাজার সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত ভাঙনের তীব্রতা বেশি। নদী এখন মূল বেড়িবাঁধের কাছে চলে আসছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা না হলে মূল বেড়িবাঁধ ভেঙে শিবপুর ও মেদুয়া ইউনিয়ন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এছাড়াও হুমকির মুখে রয়েছে ভোলা শহরও।

ভোলার খাল এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল মালেক ও মিজানুর বলেন, নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বারবার জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছে। কিন্তু কয়েকদিন পরই ব্যাগ নদীর স্রোতে চলে যাচ্ছে। কিছুতেই জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। নদীভাঙন রোধের জন্য স্থায়ী সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস ঘেরাও কর্মসূচিও করেছি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। সরকারের কাছে জোর অনুরোধ করছি, ভাঙন রোধের জন্য সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হোক।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ বলেন, সিসি ব্লক ব্যয়বহুল প্রকল্প। রাজস্ব খাতে উন্নয়ন ও মেইনটেন্যান্স কাজের বার্ষিক বাজেট থাকে দুই থেকে তিন কোটি টাকা। ওই টাকা দিয়ে সিসি ব্লকের বাঁধ নির্মাণ সম্ভব হয় না। শুধু জিও ব্যাগের কাজই সম্ভব। তাই জিও ব্যাগ ফেলা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রায় চার কিলোমিটার ভাঙনের শিকার হলেও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় গত দেড় বছরে প্রায় নয় কোটি টাকার জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হয়েছে। তবে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সিসি ব্লকের বাঁধ নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা হবে।