ঢাকা ১১:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
অবৈধ হাসপাতালের ছড়াছড়ি শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ইউপি নির্বাচন ৫ ধাপে ভোট চায় বিএনপি জামায়াত মেনে নিয়েছে একাত্তরে তাদের ভূমিকা সঠিক ছিল না : আইনমন্ত্রী হাজারের বেশি গাড়ী নিয়ে কাল রংপুর অভিমুখী লংমার্চ: জামায়াত সেক্রেটারি নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু মক্কায় হামলা চালায়নি হুথিরা, মুসলিম বিশ্বের সহানুভূতি পেতে মিথ্যাচার সউদীর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অপু বিশ্বাসের নতুন সিনেমার নায়ক নারী কোচের স্থান-সংখ্যা অস্পষ্ট আইনে, বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র তৎপরতা উন্নয়নের পথে চ্যালেঞ্জ: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

এক সঙ্গে ধরা পড়লো ৪৬ মণ ইলিশ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:০৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪২ বার

পটুয়াখালীর কলাপাড়া সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরা ট্রলারের জালে একসঙ্গে ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ। নিলামে মাছগুলো বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। দীর্ঘদিন পর এক ট্রলারে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আশার আলো।

জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের মাছধরা ট্রলারে আলমগীর মাঝির নেতৃত্বে জাল ফেললে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। একবার জাল ফেলেই প্রায় দুই হাজার ২০০ পিস ইলিশ পাওয়া যায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে মাছ নিয়ে ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছায়। পরে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে ইলিশগুলো বিক্রি করা হয়।

এক সঙ্গে ধরা পড়লো ৪৬ মণ ইলিশ

আড়ৎ সূত্রে জানা যায়, ধরা পড়া ইলিশের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ২৪ মণ মাছ ছিল। প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে পাওয়া যায় ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এসব ইলিশের কেজিপ্রতি দাম পড়ে ২ হাজার ৮৭৫ টাকা।

অন্যদিকে, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৯৫ হাজার টাকা দরে ২২ মণ বিক্রি হয়েছে। এতে পাওয়া যায় ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছি। একবার জাল ফেলতেই প্রায় দুই হাজার ২০০ পিস ইলিশ ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন লোকসানের পর এমন মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি।

এক সঙ্গে ধরা পড়লো ৪৬ মণ ইলিশ

মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বর্তমানে বাজারে ইলিশের দামও বেশ ভালো। ফলে জেলেরা ন্যায্য দাম পেয়েছেন। সচরাচর এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার বোটেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশের দেখা মিলছে না। এর মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়া নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। এতে জেলেদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একদিনে বেশি ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনাকে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এক সঙ্গে ধরা পড়লো ৪৬ মণ ইলিশ

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়তে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

অবৈধ হাসপাতালের ছড়াছড়ি

এক সঙ্গে ধরা পড়লো ৪৬ মণ ইলিশ

আপডেট টাইম : ১২:০৪:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়া সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছধরা ট্রলারের জালে একসঙ্গে ধরা পড়েছে ৪৬ মণ ইলিশ। নিলামে মাছগুলো বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। দীর্ঘদিন পর এক ট্রলারে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আশার আলো।

জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের মাছধরা ট্রলারে আলমগীর মাঝির নেতৃত্বে জাল ফেললে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ে। একবার জাল ফেলেই প্রায় দুই হাজার ২০০ পিস ইলিশ পাওয়া যায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে মাছ নিয়ে ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে পৌঁছায়। পরে মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে ইলিশগুলো বিক্রি করা হয়।

এক সঙ্গে ধরা পড়লো ৪৬ মণ ইলিশ

আড়ৎ সূত্রে জানা যায়, ধরা পড়া ইলিশের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ২৪ মণ মাছ ছিল। প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে পাওয়া যায় ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এসব ইলিশের কেজিপ্রতি দাম পড়ে ২ হাজার ৮৭৫ টাকা।

অন্যদিকে, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৯৫ হাজার টাকা দরে ২২ মণ বিক্রি হয়েছে। এতে পাওয়া যায় ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৪৬ মণ ইলিশ বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেয়েছি। একবার জাল ফেলতেই প্রায় দুই হাজার ২০০ পিস ইলিশ ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন লোকসানের পর এমন মাছ পেয়ে আমরা খুবই খুশি।

এক সঙ্গে ধরা পড়লো ৪৬ মণ ইলিশ

মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, দীর্ঘদিন পর এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বর্তমানে বাজারে ইলিশের দামও বেশ ভালো। ফলে জেলেরা ন্যায্য দাম পেয়েছেন। সচরাচর এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার বোটেই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশের দেখা মিলছে না। এর মধ্যে একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়া নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। এতে জেলেদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একদিনে বেশি ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনাকে সামগ্রিকভাবে ইলিশের প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা, প্রজনন মৌসুমে মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এক সঙ্গে ধরা পড়লো ৪৬ মণ ইলিশ

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল। বর্তমানে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বেশি ইলিশ ধরা পড়তে পারে।