বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সম্মানিত ও সৎ রাষ্ট্রপতিদের অন্যতম হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি দুই দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবেও তিনি অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ ১৯৪৫ সালে নান্দাইলের ঐতিহ্যবাহী চণ্ডীপাশা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর ১৯৪৮ সালে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ থেকে আইএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে অর্থনীতিতে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৫২ সালে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৫৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের (সিএসপি) প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে লাহোরের সিভিল সার্ভিস একাডেমি এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে জনপ্রশাসনের ওপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
কর্মজীবনে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ সততা, ন্যায়পরায়ণতা, মেধা ও প্রজ্ঞার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। দেশের বিচার বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন অত্যন্ত নিষ্ঠা ও মর্যাদার সঙ্গে।
২০২২ সালের ১৯ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবন ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের ইতিহাস আজও বাংলাদেশের মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও সম্মানের সঙ্গে স্মরণীয়।
বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের মতো সৎ, মেধাবী, যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিত্ব দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ—তাঁর জীবন ও কর্ম তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
প্রশ্ন থেকে যায়—বাংলাদেশ কি আবারও এমন সৎ, যোগ্য, মেধাবী ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় একজন রাষ্ট্রপতি পাবে?
Reporter Name 

























