ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওমরাহ পালনে সৌদি গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ৯ বার

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ছেলে-মেয়েসহ মা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহত ওই নারীর স্বামী শফিকুল ইসলাম (৫৪) ও বড় ছেলে নাবিল (২৪)। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে রিয়াদ থেকে আনুমানিক ২০০ কিলোমিটার দূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, মা তানিয়া তাহমিনা (৪৫), মেজ ছেলে তাজবিক (১৯) এবং ছোট মেয়ে সাদাফ (১৫)।

শফিকুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বাসিন্দা। তার স্ত্রী তানিয়া তাহমিনা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামের  বাসিন্দা। তার বাবা নাজিমুদ্দিন মোল্লা একসময় আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের বাসিন্দা মফিকুল ইসলাম বলেন, মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লা ১৯৮৩ সাল ১৯৮৮ এবং ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পযন্ত দুই দফা ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি সাত ছেলে ও চার মেয়ের বাবা। ২০১৭ সালের ১ মার্চ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন মোল্লা মৃত্যুবরণ করেন।

আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দফাদার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ২১-২২ বছর আগে নাজিমুদ্দিন মোল্লা তার মেয়ে তানিয়াকে বিয়ে দেন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার এক ব্যক্তির সঙ্গে।

নিহতদের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রিয়াদের বাসা থেকে নিজেদের গাড়িতে তিন ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ওমরাহ হজ পালন উপলক্ষে মক্কার উদ্দেশে রওনা হন শফিকুল ইসলাম। গাড়ি তিনিই চালাচ্ছিলেন। তার পাশেই সামনের আসনে বসেছিলেন বড় ছেলে নাবিল। আর পেছনের আসনে পাশাপাশি বসেছিলেন মা তানিয়া তাহমিনা, মেজ ছেলে তাজবিক এবং ছোট মেয়ে সাদাফ।

রিয়াদ থেকে আনুমানিক ২০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাদের গাড়ি। পেছন থেকে কোনো ভারী যানবাহন তাদের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ফলে পেছনের সিটে বসা তিনজনই ঘটনাস্থলে মারা যান। অলৌকিকভাবে গাড়ির সামনে থাকা বাবা ও বড় ছেলে বেঁচে যান।

তানিয়ার স্বামী শফিকুল ইসলামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে হলেও পরিবারের সদস্যরা প্রথমে পুরনো ঢাকায় ও পরে ঢাকার উত্তরাতে বসবাস করতেন। তবে ঈদের বন্ধে তারা ভৈরব বেড়াতে যেতেন।

তানিয়ার স্বামী রিয়াদে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। তবে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা মাঝেমধ্যে স্বামী ও বাবার কর্মস্থলে যেতেন।

নিহত তানিয়ার ভাই তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ বলেন, মেজ ছেলে তাজবিক ‘এ’ লেভেল শেষ করে ফিনল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। আর এক সপ্তাহ পরই তার ফ্লাইট ছিল। সে চলে যাওয়ার আগে সবাই মিলে ওমরাহ করতে যাচ্ছিল।

তিনি জানান, বড় ছেলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। আর ছোট মেয়ে এবার ‘ও’ লেভেল পরীক্ষার্থী ছিল।

মুরাদের ভাষ্য, সম্ভবত পেছন থেকে কোনো বড় গাড়ি এসে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর স্বজনদের কাছে খবর পৌঁছাতে বেশ সময় লেগেছে। ঘটনাস্থল রিয়াদ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এক আত্মীয় সেখানে পৌঁছাতেই প্রায় তিন ঘণ্টা লেগে যায়। সব মিলিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতে পারেন।

নিহতদের মরদেহ দেশে আনা হবে কি না, জানতে চাইলে তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ বলেন, যেহেতু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সে কারণে মৃতদেহগুলো দেশে আনা হবে না। শুক্রবার দুপুরে জানাজা শেষে সৌদি আরবের রিয়াদেই তাদের দাফন হবে।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন বলেন, এ দুর্ঘটনায় নিহত সবার বাড়ি কিশোরগঞ্জ। তবে তানিয়া ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন মোল্লার মেয়ে হলেও তার স্বামী কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমরাহ পালনে সৌদি গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত

আপডেট টাইম : ০৩:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ছেলে-মেয়েসহ মা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহত ওই নারীর স্বামী শফিকুল ইসলাম (৫৪) ও বড় ছেলে নাবিল (২৪)। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে রিয়াদ থেকে আনুমানিক ২০০ কিলোমিটার দূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, মা তানিয়া তাহমিনা (৪৫), মেজ ছেলে তাজবিক (১৯) এবং ছোট মেয়ে সাদাফ (১৫)।

শফিকুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার বাসিন্দা। তার স্ত্রী তানিয়া তাহমিনা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামের  বাসিন্দা। তার বাবা নাজিমুদ্দিন মোল্লা একসময় আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামের বাসিন্দা মফিকুল ইসলাম বলেন, মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লা ১৯৮৩ সাল ১৯৮৮ এবং ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পযন্ত দুই দফা ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি সাত ছেলে ও চার মেয়ের বাবা। ২০১৭ সালের ১ মার্চ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন মোল্লা মৃত্যুবরণ করেন।

আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দফাদার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ২১-২২ বছর আগে নাজিমুদ্দিন মোল্লা তার মেয়ে তানিয়াকে বিয়ে দেন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার এক ব্যক্তির সঙ্গে।

নিহতদের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রিয়াদের বাসা থেকে নিজেদের গাড়িতে তিন ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ওমরাহ হজ পালন উপলক্ষে মক্কার উদ্দেশে রওনা হন শফিকুল ইসলাম। গাড়ি তিনিই চালাচ্ছিলেন। তার পাশেই সামনের আসনে বসেছিলেন বড় ছেলে নাবিল। আর পেছনের আসনে পাশাপাশি বসেছিলেন মা তানিয়া তাহমিনা, মেজ ছেলে তাজবিক এবং ছোট মেয়ে সাদাফ।

রিয়াদ থেকে আনুমানিক ২০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তাদের গাড়ি। পেছন থেকে কোনো ভারী যানবাহন তাদের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ফলে পেছনের সিটে বসা তিনজনই ঘটনাস্থলে মারা যান। অলৌকিকভাবে গাড়ির সামনে থাকা বাবা ও বড় ছেলে বেঁচে যান।

তানিয়ার স্বামী শফিকুল ইসলামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরবে হলেও পরিবারের সদস্যরা প্রথমে পুরনো ঢাকায় ও পরে ঢাকার উত্তরাতে বসবাস করতেন। তবে ঈদের বন্ধে তারা ভৈরব বেড়াতে যেতেন।

তানিয়ার স্বামী রিয়াদে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। তবে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা মাঝেমধ্যে স্বামী ও বাবার কর্মস্থলে যেতেন।

নিহত তানিয়ার ভাই তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ বলেন, মেজ ছেলে তাজবিক ‘এ’ লেভেল শেষ করে ফিনল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। আর এক সপ্তাহ পরই তার ফ্লাইট ছিল। সে চলে যাওয়ার আগে সবাই মিলে ওমরাহ করতে যাচ্ছিল।

তিনি জানান, বড় ছেলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। আর ছোট মেয়ে এবার ‘ও’ লেভেল পরীক্ষার্থী ছিল।

মুরাদের ভাষ্য, সম্ভবত পেছন থেকে কোনো বড় গাড়ি এসে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর স্বজনদের কাছে খবর পৌঁছাতে বেশ সময় লেগেছে। ঘটনাস্থল রিয়াদ থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এক আত্মীয় সেখানে পৌঁছাতেই প্রায় তিন ঘণ্টা লেগে যায়। সব মিলিয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতে পারেন।

নিহতদের মরদেহ দেশে আনা হবে কি না, জানতে চাইলে তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ বলেন, যেহেতু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সে কারণে মৃতদেহগুলো দেশে আনা হবে না। শুক্রবার দুপুরে জানাজা শেষে সৌদি আরবের রিয়াদেই তাদের দাফন হবে।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন বলেন, এ দুর্ঘটনায় নিহত সবার বাড়ি কিশোরগঞ্জ। তবে তানিয়া ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন মোল্লার মেয়ে হলেও তার স্বামী কিশোরগঞ্জ জেলার বাসিন্দা।